বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৯ পি.এম
সোনা এখন আর শুধুমাত্র অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং অনেকের কাছে এটি একটি বড় বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দেশে সোনার দাম দুই লাখ টাকার উপরে চলে যাওয়ার ফলে অলংকার কেনার সময় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে এর মান, ক্যারেট, হলমার্ক এবং বিক্রির শর্ত নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে, কত ক্যারেটের সোনা কেনা হলে লাভজনক হবে এবং প্রতারণা এড়াতে গ্রাহকদের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে?
১৯৭১ সালে, যখন দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তখন এক ভরি সোনার দাম ছিল ১৭০ টাকা। ৫৫ বছরের মধ্যে সেই দাম বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৭০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি, ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার অলংকার বিক্রি হয়ে থাকে। ক্যারেট সোনার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২৪ ক্যারেটকে খাঁটি সোনা হিসেবে ধরা হয়। ২২, ২১ এবং ১৮ ক্যারেটের সোনায় নির্দিষ্ট অনুপাতে রুপা, তামা বা দস্তার মতো অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে।
বিশ্বজুড়ে সোনার বিশুদ্ধতা বোঝাতে অলংকারে নির্দিষ্ট নম্বর বা চিহ্ন খোদাই করা হয়, যা হলমার্ক নামে পরিচিত। ২৪ ক্যারেট সোনায় সাধারণত ‘২৪কে’ বা ‘৯৯৯’ লেখা থাকে, যা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধতা নির্দেশ করে। ২২ ক্যারেটে থাকে ‘৯১৬’, অর্থাৎ ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ; ২১ ক্যারেটে ‘৮৭৫’, অর্থাৎ ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১৮ ক্যারেটে ‘৭৫০’, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধতা।
একাধিক জুয়েলার্স মালিকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২১ ক্যারেটের অলংকারের বিক্রি বেশি হয়ে থাকে। মেশিনে তৈরি চুড়ি, চেইন ও ব্রেসলেট সাধারণত ২২ ক্যারেটের হয়ে থাকে। তবে মেশিনে ২১ ও ১৮ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি করা সম্ভব। অলংকারে বেশি নকশা এবং ঝালাইয়ের প্রয়োজন হলে তুলনামূলক কম ক্যারেটের সোনা ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়।
কোন ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, "যেকোনো ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা যেতে পারে। কম ক্যারেটের সোনা মানেই নিম্নমানের এমন ধারণা সঠিক নয়। বিদেশে ৯ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি হয়।"
তবে, তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, যে ক্যারেটের অলংকারই কেনা হোক না কেন, সেটি হলমার্ক করা আছে কি না, তা অবশ্যই দেখা উচিত। পাশাপাশি ক্যাশমেমোতে ক্যারেট ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে। তিনি জুয়েলার্স সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে অলংকার কেনার পরামর্শও দিয়েছেন।
বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে ‘বাংলা গোল্ড’ ও ‘ঢাকা গোল্ড হলমার্ক’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান সোনা পরীক্ষা করে হলমার্ক প্রদান করে। পরীক্ষায় সোনার যে ক্যারেট পাওয়া যায়, সে অনুযায়ী অলংকারে লেজারের মাধ্যমে তা খোদাই করা হয়। পাশাপাশি একটি সনদ প্রদান করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকে।
ঢাকার বাইরের অনেক ব্যবসায়ী সোনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে ‘টোনস মেশিন’ ব্যবহার করেন। জুয়েলার্স মালিকদের মতে, এই মেশিনে সোনার বিশুদ্ধতার কাছাকাছি তথ্য পাওয়া যায়।
হলমার্ক করা অলংকার ও ক্যাশমেমো থাকলে পরবর্তী সময়ে সোনা বিক্রি করা তুলনামূলক সহজ হয়। পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার দিয়ে নতুন অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এদিকে, সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কম ক্যারেটের সোনা ও অন্যান্য ধাতু দিয়ে তৈরি অলংকারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রোঞ্জের সাথে দুই থেকে তিন আনা সোনা মিশিয়ে তৈরি করা ‘সোনার’ চুড়ি ও বালা কিছু এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব পণ্যে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু সোনা রয়েছে, তা পরিমাপের নির্দিষ্ট মাপকাঠি না থাকায় গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এই কারণে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ব্রোঞ্জের সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও এ ধরনের পণ্য না কেনার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, ঢাকার বাইরের কিছু এলাকার গুটিকয়েক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সমিতির নির্ধারিত দামের তুলনায় কম দামে সোনার অলংকার বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে। অনলাইনেও মাঝে মাঝে কম দামে সোনার অলংকার বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখা যায়। অলংকার সরাসরি না দেখে অনেকে এসব বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে অর্ডারও করছেন।
দেওয়ান আমিনুল ইসলামের মতে, জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করেছেন যে, কেউ কম দামে বিক্রি করলে সোনার মানে কোনো ধরনের ঘাপলা থাকতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন বিক্রেতার কাছ থেকে সোনা কেনা উচিত নয়।
সোনা যেহেতু অত্যন্ত মূল্যবান ধাতু, তাই অলংকার কেনার সময় শুধুমাত্র দাম নয়, ক্যারেট, হলমার্ক, ক্যাশমেমো, বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতে বিক্রির শর্ত সবকিছু যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের সকল উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে অবিলম্বে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপন করতে হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে এটি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত চিঠিটি জারি করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার ই-গভর্ন্যান্স চালুর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করার পাশাপাশি জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে ও যথাসময়ে ভূমি সেবা পায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে নিয়মিত ও সময়মতো উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে, মাঠ পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে দেশের সব উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অবিলম্বে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, স্থাপিত ডিভাইসগুলো সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় জেলা প্রশাসন দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে শোকজ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেককেই কর্মস্থলে পাননি। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করে রেখেছেন।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারীর জন্য গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতাধীন অপরাধ। পাশাপাশি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা বিলম্বে অফিসে উপস্থিত হওয়াকে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৭ দশমিক ৩৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭ দশমিক ৩৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ৯৭৬ মিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ দশমিক ৫২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে, এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
এদিকে, ১৪ সেপ্টেম্বর একদিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ চ্যানেলে ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলিতে দুটি ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। লুরলাইন অ্যাভিনিউ ও নর্ডহফ স্ট্রিটের নিকটবর্তী দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ফলে তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি মালবাহী কনটেইনার এবং কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হেলিকপ্টারটি কার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এটি একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটি কাছাকাছি একটি প্রাণঘাতী বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে সেখানে ছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার বিভাগের ক্যাপ্টেন ব্র্যান্ডেন সিলভারম্যান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় একজন ব্যক্তি সেটির বাইরে ছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরও জানান, হেলিকপ্টারের ভেতরে কতজন ছিলেন এবং দুর্ঘটনায় মোট কতজন হতাহত হয়েছেন, সেই তথ্য এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি তাদের কোনো হেলিকপ্টার নয়।
দুর্ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলম্বিয়ার তারকা ফুটবলার জেমস রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় দলের সঙ্গে ১৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন তিনি।
রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় উল্লেখ করেন, "অনেক বছর, অনেক ম্যাচ এবং আনন্দ আর কঠিন মুহূর্তগুলোর পর আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করার সময় এসেছে কলম্বিয়ান জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যাত্রা।"
২০১১ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে রদ্রিগেজের। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে তিনি নিজের আগমনের জানান দেন। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি মাত্র পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট অর্জন করেন। শেষ ষোলোতে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে তার করা দুর্দান্ত ভলি গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় গোল হিসেবে পরিচিতি পায়। সেই বিশ্বকাপের পর রিয়াল মাদ্রিদ তার প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং টুর্নামেন্ট শেষে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি।
রদ্রিগেজ কলম্বিয়ার হয়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬ তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে কলম্বিয়া জায়গা করে নিতে পারেনি।
জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে আবেগের কথা জানিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, "এই জার্সি পরা ছিল একটি স্বপ্ন, পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও ছিল। প্রত্যেকবার যখন আমি মাঠে ঢুকতাম, বুঝতে পারতাম আমি শুধু আমার জন্য খেলছি না। আমি আমার পরিবার, সতীর্থ এবং হাজারো কলম্বিয়ানের জন্য খেলছি, যারা স্বপ্ন দেখত।"
১০ নম্বর জার্সি পরার পাশাপাশি জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পাওয়াকে বিশেষ সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, "সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার তাৎপর্য অনুধাবন করে আমি সবসময় এটি করার চেষ্টা করেছি। ভালো দিন যেমন ছিল, খুব কঠিন দিনও ছিল। কিন্তু এই রঙের গর্ববোধ করা কখনও থামাইনি।"
সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে গত ৭ জুলাই টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া শেষ ষোলো ম্যাচটি রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে দাঁড়ায়। কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৩১ ম্যাচে তিনি ৩১ গোল করেছেন এবং ৪৩টি অ্যাসিস্ট রয়েছে।
২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও কলম্বিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন রদ্রিগেজ। তার অধিনায়কত্বে দলটি ফাইনালে উঠেছিল, তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া হয় কলম্বিয়ার।
সম্প্রতি কলম্বিয়ার ক্লাব অ্যাতলেটিকো নাসিওনালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন রদ্রিগেজ। জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান তিনি।
বিদায়বার্তায় রদ্রিগেজ বলেন, "আমি শান্ত হৃদয় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। কারণ আমি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকটি মুহূর্তের জন্য ধন্যবাদ, ধন্যবাদ কলম্বিয়া।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ