রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫০ পি.এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের পুনর্গঠন, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতায় দেশের ভূমিকা জোরদার করার জন্য একটি বিস্তৃত পথরেখা উপস্থাপন করেন।
জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, দেড় দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের ফলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি বিপর্যস্ত দেশের প্রেক্ষাপটে এই ভাষণ দিয়েছেন।
এই অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশ পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের কাঠামো হিসেবে সরকারের থ্রি-আর কৌশল—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনঃস্থাপন) ও রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)—উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, এই কৌশল বাস্তবায়নে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন হবে। মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত তিন শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে হবে।
মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের বোঝাও ক্রমে বেড়েছে। আগামী বছরগুলোতে সুদ পরিশোধ ও ঋণের কিস্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়, যদি সেই ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা হয় এবং তা দেশের অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনে।’
জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন।
একইসঙ্গে মাহবুব উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বিদেশি সহায়তাকে প্রধান উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেননি। বরং তিনি দেশের নিজস্ব প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এটিকে তিনি একটি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান একটি ‘বাড়তি চাপ’। তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনেও সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে করা আগের আশ্বাসগুলোর কোনটিই টেকসই সমাধান আনতে পারেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরা আগেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। তবে কয়েকটি কারণে এবারের ভাষণটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।’
ড. কাজী মাহবুবুর রহমানও জনগণের ক্ষমতায়নের ওপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী সক্রিয়ভাবে জনগণের ক্ষমতায়নের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে, আর বাংলাদেশের জনগণকে ক্ষমতায়িত করার প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেশের অভ্যন্তরীণ একটি প্রধান অগ্রাধিকারকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘থ্রি-আর’ (৩-আর) কৌশল এবং যুদ্ধবিগ্রহের প্রতি বাংলাদেশের বিরোধিতাই শান্তি ও পুনর্গঠনের প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, তার ভাষণে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোরালো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলা জাতীয় দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা ও রক্তপাতের এই সময়ে বিশ্বশান্তির জন্য বাংলাদেশের আকাঙক্ষার জোরালো বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভাষণটিকে বর্ণনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উক্তি- ‘ঘাতক অস্ত্র নয়, পৃথিবী বদলাবে মানবতায়’- উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভাষণটি শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এই সমস্যার সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি এবং গোটা বিশ্বে নিরাপত্তা অর্জন করা কঠিনই থেকে যাবে।
মারুফ কামাল বলেন, তারেক রহমান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন, শিশু স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের চরম ঝুঁকির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগ বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলায় দেওয়া ১৭ মিনিটের এই ভাষণে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শক্তিশালী বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বাংলাদেশের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলোর প্রতিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আবদাল আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই আন্দোলন এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ হিসেবে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (৩-আর) কৌশল উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং সামরিক খাতের ব্যয় উন্নয়নমূলক খাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে আবদাল আহমদ উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ছিল বাংলায় দেওয়া তৃতীয় ভাষণ, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে এই পরিবারের গভীর সম্পৃক্ততাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা জনমত অনুযায়ী, বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় বক্তব্য রাখার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামজিদ জানান, এই ভাষণটি তার প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছে, যা তাকে গর্বিত করেছে।
রাজধানীর নীলক্ষেতের দোকানি মোহাম্মদ শাহীন জানান, সাধারণ বাংলাদেশিদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন- বিষয়টি তার ভালো লেগেছে।
পথচারী মোহাম্মদ জসিমও বাংলাদেশের মর্যাদা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ভাষণে দেওয়া গুরুত্বের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন।
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের দরজা খোলা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো সমস্যার সমাধান সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের দিকে অগ্রসর হওয়া ঘূর্ণিঝড় নোলো নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও শক্তিশালী ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বীপটির বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নোলো প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অবস্থান করছিল। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা কমেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নোলোর বাইরের মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিগ আইল্যান্ডের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, কোথাও কোথাও এটি ১৬ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও, কিছু স্থানে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
মাউই দ্বীপে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সর্বোচ্চ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
নোলোর আগেই হাওয়াইয়ের ওপর দিয়ে লালা ও লওয়েল নামের দুটি ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। এর ফলে অনেক বাসিন্দা এখনও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নালেহু এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগের ঝড়ের পর অনেক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করছেন। অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানির অভাব রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন মন্তব্য করেন, "আগের ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই আরও একটি বড় ঝড়ের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।" তিনি আরও জানান, "পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।"
ঝড়ের আশঙ্কায় বিগ আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বাসিন্দারা ঘরের আশপাশের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, দরজা-জানালা শক্ত করে বাঁধছেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করছেন।
বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং কয়েকশ জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিগ আইল্যান্ডে ১২০ জনের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কারণ ঝড়ের প্রভাবে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোলোর প্রভাবে বিগ আইল্যান্ডের উপকূলে বড় ও শক্তিশালী ঢেউ তৈরি হতে পারে। দ্বীপটির দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলসহ মাউই ও মোলোকাইয়ের কিছু এলাকায় উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ নোলোর সঙ্গে টর্নেডো ও সমুদ্রের ওপর শক্তিশালী জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে।
এদিকে হাওয়াইয়ের পরিস্থিতির পাশাপাশি মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের দিকে ঘূর্ণিঝড় পোলো এগোচ্ছে। শনিবার এটি তৃতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘণ্টায় প্রায় ১৯৩ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে অবস্থান করছিল। সোমবার উপদ্বীপে পৌঁছানোর আগে এটি কিছুটা দুর্বল হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো নামের একটি ছোট উপকূলীয় জনপদে ঝড়টি নিয়ে উদ্বেগ বেশি। সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে নিয়মিত সমস্যা থাকায় ঝড়ের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে একটি শক্তিশালী ঝড়ের কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের ফলে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় এক লাখ গ্রাহকের, কারণ গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাছ পড়ে নিউইয়র্ক সিটি আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মী নিহত হন। একই এলাকায় গাছ পড়ে আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে নগরীর অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধীরগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হয় শক্তিশালী ঝড়টি। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। নিউ জার্সির সার্ফ সিটি এলাকায় রাস্তাঘাটে পানি উঠে যায় এবং কয়েকটি বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে।
নিউ জার্সির বিভিন্ন উপকূলীয় ও উপসাগরীয় এলাকায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় রাস্তায় কয়েক ফুট পর্যন্ত পানি উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
নিউ জার্সির সি ব্রাইট এলাকার মেয়র ব্রায়ান কেলি জানিয়েছেন, সেখানে ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে এবং কিছু রাস্তায় প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত পানি উঠতে পারে। নিচু এলাকার শত শত বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝোড়ো বাতাসের ফলে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। নিউইয়র্ক নগরীতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে গাছ ভেঙে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৯০০টির বেশি খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্কের পার্ক ও বিনোদন বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও ডাল সরাতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন। নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো বাতাসের কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৬৯ থেকে ৮৯ কিলোমিটার বেগে বাতাসের ঝাপটা রেকর্ড করা হয়েছে। নিউ জার্সি ও ডেলাওয়ারের আটলান্টিক উপকূলে বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ঢেউয়ের উচ্চতা ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
ঝড়ের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও প্রভাব পড়েছে। বোস্টন বিমানবন্দরে শত শত উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের মার্থাস ভিনইয়ার্ড ও নানটাকেটের অধিকাংশ ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
বেসবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঝড় এড়াতে বোস্টনে নির্ধারিত দুটি ম্যাচ শুক্রবারই (২৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজন করা হয়। রোববারের (২৭ সেপ্টেম্বর) ম্যাচটি পরে ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোর একটি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সংগীতশিল্পী এড শিরানের দুটি কনসার্টও বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে নর্থ ক্যারোলাইনার হ্যাটেরাস দ্বীপে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান বিপাকে পড়ে। বর-কনে দ্বীপে পৌঁছাতে পারলেও প্রায় ৪৫ জন অতিথি সড়ক বন্ধ থাকায় অন্য পাশে আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় একটি শিবির তাদের জন্য নতুন অনুষ্ঠানস্থল, থাকার ব্যবস্থা ও সংগীতের আয়োজন করে।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে এই ঘটনার জন্য "হৃদয়বিদারক ও অগ্রহণযোগ্য" শব্দ ব্যবহার করেন।
সাদিয়া আয়মান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও অগ্রহণযোগ্য।" তিনি বলেন, "তার মতো একজন মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
অন্যদিকে, দেশে চাঁদাবাজি ও অশিক্ষিত মানুষের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাদিয়া। তিনি মন্তব্য করেন, "এতো অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে, যে ওরা ভালো কিছু জীবনে দেখেনি আর দেখলেও সেটা হজম করতে পারে না!"
ঘটনাটিকে লজ্জাজনক ও ধিক্কারজনক হিসেবে উল্লেখ করে সাদিয়া নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি কয়েকজন সমালোচকের মন্তব্যের জবাবও দেন। সেখানে সাদিয়া দাবি করেন, "যাদের উদ্দেশ্য করে আমি পোস্টটি দিয়েছি, তাদেরই কেউ কেউ চাঁদাবাজদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করছেন।"
মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে তিনি কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তার এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও করেছেন অনেকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তৃতীয় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ৪৫ বছর বয়সী এরিক ক্লার্ক শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত আগস্টে মিসিসিপির একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফরচুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এনে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মরদেহ ঝোলানোর ঘটনাটি এবং ঘটনাস্থলটি সাজানো হয়েছিল।
কিন্তু কীভাবে ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল বা ফরচুনকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ক্লার্ককে সোমবার আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফরচুনের মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে আর্নেস্ট লয়্ড জুনিয়র ও জারকুয়েস র্যাটলিফ নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ৫১ বছর বয়সী র্যাটলিফের সঙ্গে ফরচুনের কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না। তবে সেই সম্পর্কের বিস্তারিত জানানো হয়নি। র্যাটলিফ আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে।
অন্যদিকে ২৫ বছর বয়সী লয়েডের সঙ্গে ফরচুনের মৃত্যুর কিছুদিন আগে অথবা মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, লয়েড কালো তারের সাহায্যে ফরচুনকে ঝুলিয়ে দেন। তার জামিনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
ফরচুনের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করে বিভিন্ন সূত্র যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে বেশ কয়েকটি সূত্র অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ফরচুনের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ