রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৬ পি.এম
নওগাঁর বদলগাছীতে মাত্র এক রাতের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন কৃষকের মাসের পরিশ্রম ও স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এতে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারগুলো।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে সদ্য ফলন আসা শুরু হয়েছিল। কৃষক পরিবারগুলো প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল তুলে বাজারে বিক্রি করছিলেন।
ফসল বিক্রির এই আয়ের মাধ্যমে তারা সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং নেওয়া ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সকালে মাঠে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছগুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
সরজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে কেবল ধ্বংসের চিহ্ন। কোথাও গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও মাটিজুড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে পটলগাছের লতা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম তার আকুতি জানিয়ে বলেন, “অনেক কষ্ট ও অর্থ ব্যয় করে পটল চাষ করেছিলাম। সার, ওষুধ ও শ্রমিকের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। আশা ছিল ফসল বেচে সংসার চালাব। কিন্তু এক রাতেই দুর্বৃত্তরা সব শেষ করে দিল। এখন আমাদের কী হবে, বুঝতে পারছি না।”
আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল বলেন, “এই পটলক্ষেতই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছে ফলন আসতে শুরু করেছিল, বাজারে বিক্রিও করছিলাম। সকালে মাঠে এসে দেখি সব গাছ কেটে রেখে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তবে কারা এবং কোন শত্রুতার জের ধরে এই কাজ করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি ফসলি জমি ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি পরিবারের জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
দুর্ভোগে পড়া কৃষকেরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই ক্ষতি সামলে উঠতে প্রয়োজনীয় সরকারি আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কুড়িল বিশ্বরোডের একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িল বিশ্বরোডের ৯৫/ক নম্বর ভবনে, পূবালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘হোটেল পূর্বাচল’-এ আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির ব্যবস্থাপক রবিউলের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে হোটেলটিতে অবস্থানকারী সাধারণ অতিথি ও আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে হোটেল পূর্বাচলের ব্যবস্থাপক রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা থানায় মাসোয়ারা দিই। যা কিছু জানার থানার ওসির কাছে জানেন।”
তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং হোটেলটিতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাদকবিরোধী অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত রিকশার (অটোরিকশা) মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহীনুর বেগম (৩৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভাইসহ অটোরিকশার আরও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। পুলিশ ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের দেবপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহীনুর বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের তরপুরচণ্ডী গ্রামের তপাদার বাড়ির নাছির তপাদারের স্ত্রী। তিনি তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে হাজীগঞ্জের বাকিলা থেকে চাঁদপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।
আহত দুজনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অটোরিকশাটি বাকিলা থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। দেবপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর একটি অটোরিকশাকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মাহীনুর বেগমের মৃত্যু হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। তবে অটোরিকশার চালককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ‘মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন মানুষ, যার মধ্যে রয়েছেন ওসি এবং সাংবাদিক। এই পরিস্থিতিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা যায়, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে একাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অনেক রোগী বাড়িতে বা অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে সরেজমিনে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক কোনো আইসোলেসন নেই। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে তাদের রাখা হয়েছে। এই কারণে অনেক রোগী ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সাঁথিয়া পৌরসভাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক খালেকুজ্জামান পান্নু জানান, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আলাদা কোনো ওয়ার্ড না থাকায় তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলার করিয়াল গ্রামের আব্দুল লতিফের স্ত্রী বেলী খাতুন জানান, হাসপাতাল থেকে নাপা ট্যাবলেট দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে না। তাকে দোকান থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল বাতেন জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো আইসোলেসন না থাকলেও সাধারণ ওয়ার্ডের পাশে ২টি কক্ষে ৪ জন এবং বাকিদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি স্যালাইন স্বল্পতা থাকতে পারে বলেও জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে সারাদেশের ন্যায় সাঁথিয়াতে ৩ মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহে প্রতি শনিবার এ কর্মসূচি চলবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ইকলিমপুর এলাকায় আখিরা শাখা নদীর তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই নদীর তীরের ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। কিছু স্থানে ব্লকগুলো দেবে গেছে, আবার কোথাও ফাঁকা স্থান তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নদীর পাড় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নদী থেকে বালু তুলে সেই বালু দিয়েই ধসে পড়া অংশে জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীর আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। তারা দাবি করেছেন, নিম্নমানের কাজের কারণে বৃষ্টির পানি ও নদীর স্রোতে নির্মাণ করা ব্লকগুলো ধসে যাচ্ছে।
আখিরা নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে নদীতীরবর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রকল্পের শতাধিক ঘর বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন যে, যেকোনো সময় এসব ঘরও নদীতে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদা বেগম জানান, নদীর বাম তীরের অনেক ব্লক দেবে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। কয়েকটি পরিবারের ঘরের অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। ঘর রক্ষার জন্য ঠিকাদারের লোকজন বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দিয়েছেন। তারা এসে দেখে গেলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
কাওছার রহমান কাফী বলেন, নদীর বাম পাশে প্রায় ২০০ মিটার ব্লক দুইবার ধসে পড়েছে। ঠিকাদারের লোকজন পরে এসে সেগুলো মেরামত করছেন। নদীর পানিতে যথাযথভাবে ব্লক ডাম্পিং না করায় পানির তোড়ে সেগুলো সরে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও বাচ্চু মিয়া জানান, তারা দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরই ছিল তাদের মাথাগোঁজার একমাত্র জায়গা। নদীভাঙনের কারণে এখন তারা সেই ঘর হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন।
আরেক বাসিন্দা আকতার জাহান বিথী বলেন, ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পও ঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তীর সংরক্ষণকাজে নদীর বালু ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও দেড় ইঞ্চি, আবার কোথাও আড়াই ইঞ্চির বেশি ব্লক বসানো হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি ও নদীর স্রোতে ব্লকগুলো ভেঙে ও দেবে যাচ্ছে।
তবে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শেই ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে।
রংপুরের শুল্কা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ভরদ প্রসাদ জানান, তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা সঙ্গে পরামর্শ করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সংস্কারকাজ করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আখিরা শাখা নদী রক্ষায় চতরা ইউনিয়নের ইকলিমপুর এলাকায় ৮০০ মিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কাজ পেয়েছেন হাসিবুল হাসান নামে এক ঠিকাদার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ওই বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে।
২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীতীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এর অংশ হিসেবে আখিরা শাখা নদীর তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।
নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষণকাজের উদ্দেশ্য ছিল ভাঙন রোধ ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের অংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ