ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে মাহীনুর বেগমের মৃত্যু


চাঁদপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে মাহীনুর বেগমের মৃত্যু

চাঁদপুরে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত রিকশার (অটোরিকশা) মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহীনুর বেগম (৩৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভাইসহ অটোরিকশার আরও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। পুলিশ ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের দেবপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মাহীনুর বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের তরপুরচণ্ডী গ্রামের তপাদার বাড়ির নাছির তপাদারের স্ত্রী। তিনি তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে হাজীগঞ্জের বাকিলা থেকে চাঁদপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

আহত দুজনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, অটোরিকশাটি বাকিলা থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। দেবপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর একটি অটোরিকশাকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মাহীনুর বেগমের মৃত্যু হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। তবে অটোরিকশার চালককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ‘মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাঁথিয়ায় ২০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৩, হাসপাতলে নেই পর্যাপ্ত সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


সাঁথিয়ায় ২০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৩, হাসপাতলে নেই পর্যাপ্ত সুবিধা

পাবনার সাঁথিয়ায় চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন মানুষ, যার মধ্যে রয়েছেন ওসি এবং সাংবাদিক। এই পরিস্থিতিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা যায়, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে একাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অনেক রোগী বাড়িতে বা অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে সরেজমিনে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক কোনো আইসোলেসন নেই। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে তাদের রাখা হয়েছে। এই কারণে অনেক রোগী ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সাঁথিয়া পৌরসভাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক খালেকুজ্জামান পান্নু জানান, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আলাদা কোনো ওয়ার্ড না থাকায় তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলার করিয়াল গ্রামের আব্দুল লতিফের স্ত্রী বেলী খাতুন জানান, হাসপাতাল থেকে নাপা ট্যাবলেট দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে না। তাকে দোকান থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল বাতেন জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো আইসোলেসন না থাকলেও সাধারণ ওয়ার্ডের পাশে ২টি কক্ষে ৪ জন এবং বাকিদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি স্যালাইন স্বল্পতা থাকতে পারে বলেও জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে সারাদেশের ন্যায় সাঁথিয়াতে ৩ মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহে প্রতি শনিবার এ কর্মসূচি চলবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখিরা নদীর সৌন্দর্যবর্ধন কাজ চলছে, স্থানীয়দের উদ্বেগ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


আখিরা নদীর সৌন্দর্যবর্ধন কাজ চলছে, স্থানীয়দের উদ্বেগ বৃদ্ধি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ইকলিমপুর এলাকায় আখিরা শাখা নদীর তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই নদীর তীরের ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। কিছু স্থানে ব্লকগুলো দেবে গেছে, আবার কোথাও ফাঁকা স্থান তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নদীর পাড় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নদী থেকে বালু তুলে সেই বালু দিয়েই ধসে পড়া অংশে জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীর আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। তারা দাবি করেছেন, নিম্নমানের কাজের কারণে বৃষ্টির পানি ও নদীর স্রোতে নির্মাণ করা ব্লকগুলো ধসে যাচ্ছে।

আখিরা নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে নদীতীরবর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রকল্পের শতাধিক ঘর বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন যে, যেকোনো সময় এসব ঘরও নদীতে চলে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদা বেগম জানান, নদীর বাম তীরের অনেক ব্লক দেবে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। কয়েকটি পরিবারের ঘরের অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। ঘর রক্ষার জন্য ঠিকাদারের লোকজন বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দিয়েছেন। তারা এসে দেখে গেলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

কাওছার রহমান কাফী বলেন, নদীর বাম পাশে প্রায় ২০০ মিটার ব্লক দুইবার ধসে পড়েছে। ঠিকাদারের লোকজন পরে এসে সেগুলো মেরামত করছেন। নদীর পানিতে যথাযথভাবে ব্লক ডাম্পিং না করায় পানির তোড়ে সেগুলো সরে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও বাচ্চু মিয়া জানান, তারা দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরই ছিল তাদের মাথাগোঁজার একমাত্র জায়গা। নদীভাঙনের কারণে এখন তারা সেই ঘর হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন।

আরেক বাসিন্দা আকতার জাহান বিথী বলেন, ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পও ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তীর সংরক্ষণকাজে নদীর বালু ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও দেড় ইঞ্চি, আবার কোথাও আড়াই ইঞ্চির বেশি ব্লক বসানো হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি ও নদীর স্রোতে ব্লকগুলো ভেঙে ও দেবে যাচ্ছে।

তবে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শেই ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে।

রংপুরের শুল্কা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ভরদ প্রসাদ জানান, তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা সঙ্গে পরামর্শ করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সংস্কারকাজ করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আখিরা শাখা নদী রক্ষায় চতরা ইউনিয়নের ইকলিমপুর এলাকায় ৮০০ মিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কাজ পেয়েছেন হাসিবুল হাসান নামে এক ঠিকাদার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ওই বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীতীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এর অংশ হিসেবে আখিরা শাখা নদীর তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।

নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষণকাজের উদ্দেশ্য ছিল ভাঙন রোধ ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের অংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এবং ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে প্রতিবাদের ফলে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার মাধ্যমে আপোশ-মীমাংসার আলোচনা এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিরোধের কারণে মামলা হওয়ার পর তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয় মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে।

এমন অভিযোগ করেছেন মাধবপুর উপজেলার আন্দিউরা গ্রামের ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়া, বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক রুমন মিয়া এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারী দাবি করেছেন যে, বিভিন্ন ঘটনায় এভাবে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে জরিমানা বা অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি নিশ্চিত নন যে এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলায় আদালতের বাইরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন জিএম কীভাবে মামলা মীমাংসার অর্থ নির্ধারণ করেন। এ ধরনের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও তারা তদন্তের দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মাধবপুরের বাঘাসুরা গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে রোমান মিয়ার সঙ্গে তেলিয়াপাড়া অভিযোগ কেন্দ্রের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে যে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রতিবাদের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হয়। পরে জিএম জিল্লুর রহমান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা আপোশের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি নথি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী দেলোয়ার মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়ার বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও মামলা হয়।

সোহেল মিয়া দাবি করেছেন যে, তার বাবার নামে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগে নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে সংযোগের জন্য আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হবে না।

সোহেল মিয়া বলেন, "আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আদালত তার বিচার করবে। কিন্তু মামলা চলমান থাকার কারণে আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা অন্যায় বলে মনে করি। এতে আমার স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমি পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জিএমের ঘনিষ্ঠ একজনের মাধ্যমে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কিছু প্রমাণ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন অভিযোগ করেছেন যে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা করে পরে মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করলে আদালত বিচার করবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজে মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এদিকে, জিএম জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে চারটি স্থানে সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য প্রায় ১২০ শতাংশ জমি ক্রয়ের অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। ভূমির মালিকদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে সরকারকে জমি বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হয়েছে। এছাড়া, দালালের মাধ্যমে খুঁটি ও নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য এবং বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

মাধবপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি সুরমা চা বাগানের হতদরিদ্র চা শ্রমিক রবি লাল গৌড়ের বিদ্যুৎ সংযোগ মাত্র ৫১১ টাকা বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন দরিদ্র চা শ্রমিকের সামান্য বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধবপুর জোনাল অফিসের এটিএম আবুল হাসানের কাছে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং এ বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি জিএম জিল্লুর রহমান স্যার দেখছেন।"

স্থানীয় সমাজসেবক ও মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরাশউদ্দীন বলেন, "কারো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে মামলা মীমাংসায় বাধ্য করা হলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। মামলা মীমাংসা করা সরকারি কর্মকর্তার কাজ কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। কতজনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। একই সঙ্গে চারটি সাবস্টেশনের জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন।"

অভিযোগগুলোর বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমান বলেন, "পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।"

তার ভাষ্য, "সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরিমানা আদায়ের বিষয়টিও নিয়ম মেনে করা হচ্ছে।"

তবে এ পর্যন্ত কতজনকে এ ধরনের ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে এবং কত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে— এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, "সোহেল মিয়ার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা অনেক সময় জিএমকে অনুরোধ করি এসব ঝামেলা সমাধানের জন্য। এখানে খারাপ কিছু দেখি না। আর জমি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।"

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপপরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, "আমরা বিষয়গুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখব। কেউ অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার সময় তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।

মো. ইবনে মিজান বলেন, "এর আগে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং পরবর্তী সময়ে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ডাকা হয়।" সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে সাতক্ষীরার-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%