ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৯৭


হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৯৭

হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন ৯৪৮ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একটি বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বার্তায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি, তবে সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে গোপন বৈঠক থেকে ২৩ জঙ্গি সন্দেহে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


রাজধানীতে গোপন বৈঠক থেকে ২৩ জঙ্গি সন্দেহে আটক

রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় পুলিশ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। তবে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, আটক ২৩ জন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসির একাধিক টিম উপস্থিত রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান এ বিষয়ে বলেন, "তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।" তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে এবং তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭

গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। চলতি বছরের জন্য মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪৭ জন। যদিও ডেঙ্গুতে নতুন করে কেউ মারা যাননি, তবে এ বছরের মোট মৃত্যু সংখ্যা ১৭৬ জনে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭৬ জনের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ।

মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক এবং জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।

সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে। এই মাসে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৭৯ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।

ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২৩ এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, বরিশালে ১৩, চট্টগ্রামে ১৬, রাজশাহীতে আট, রংপুরে চার এবং সিলেটে একজন মারা গেছেন।

রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩০১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন। জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইতে নয় হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মামলা আছে, বিচারক নেই; ঝুলে আছে ৯ হাজার বিচারপ্রার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


মামলা আছে, বিচারক নেই; ঝুলে আছে ৯ হাজার বিচারপ্রার্থী

গাইবান্ধার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে প্রায় আড়াই মাস ধরে স্থায়ী বিচারকের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চলতি বছরের ৭ জুলাই, মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, এই আদালতের বিচারক, যুগ্ন জেলা জজ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলায় বদলি হওয়ার পর থেকে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে ভূমির রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যা আদালত সংশ্লিষ্ট ও আইনজীবীদের দ্বারা জানানো হয়েছে। বিচারক সংকটের কারণে এসব মামলার অধিকাংশের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত তারিখে আদালতে এসে অনেক বাদী-বিবাদীকে শুধুমাত্র হাজিরা ও প্রয়োজনীয় পিটিশন দিয়ে পরবর্তী তারিখ নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে মামলার দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি বাড়ছে সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি।

আদালত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে বিচারকের পদ শূন্য থাকলেও স্থায়ীভাবে বিচারক নিয়োগের জন্য কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যদিও অতিরিক্ত দায়িত্বে বিচারক রয়েছেন, কিন্তু নিজ আদালতের কাজের চাপ থাকায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালের মামলাগুলোর নিয়মিত শুনানি ও নিষ্পত্তি ব্যাহত হচ্ছে।

আদালত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের কার্যতালিকায় 75 থেকে ৮০টি পর্যন্ত মামলার শুনানি নির্ধারিত থাকে। এসব মামলার মধ্যে সমন, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক, রায় প্রকাশ, দরখাস্ত শুনানি, বিবাদি পক্ষের জবাব ও তদবির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে স্থায়ী বিচারক না থাকায় অনেক মামলায় কার্যকর শুনানি না হয়ে হাজিরা, পিটিশন গ্রহণ ও পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে থাকা মামলা সেখানেই পড়ে থাকছে এবং যুক্তিতর্কের মামলাতেও শুনানি এগোচ্ছে না।

মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না

বিচারপ্রার্থী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বেড়ামালঞ্চ গ্রামের মতিয়ার রহমান প্রায় চার বছর আগে ভূমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য এই আদালতে মামলা করেন (মামলা নম্বর-৬৪৫/২২)। তিনি বলেন, "মামলা শুরুর দিকে বিচারক থাকায় কার্যক্রম এগিয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য ছিলো।"

মতিয়ার রহমান আরও বলেন, "মামলা নিয়ে আদালতে আসছি, হাজিরা দিচ্ছি, আবার পরবর্তী তারিখ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার আসতে যাতায়াত ও আইনজীবীর পেছনে টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।"

রেকর্ড সংশোধনের মামলার বিবাদী আরেক ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম জানান, সাক্ষীর তারিখ ৪টি চলে গেছে। আজ (১৫/০৯/২০২৬) সাক্ষী নিয়ে এসেছি। কিন্তু বিচারক না থাকায় সাক্ষী হলো না।

তিনি বলেন, "মামলার তারিখে আদালতে আসি। কিন্তু বিচারক না থাকায় শুধু হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। নতুন বিচারক বসছেন না। দ্রুত বিচারক নিয়োগ করা হলে আমাদের মতো বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।"

ভুমি রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত একটি মামলার (১২১/২১) বাদীপক্ষের ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান অভিযোগ করেন, বাদিকে জেরার জন্য আজ (১৫/০৯/২০২৬) সহ চারটি ধার্য তারিখ দিনান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বিচারক না থাকায় বাদিকে জেরার কার্যক্রম এগোয়নি। একটি মামলার পেছনে পাঁচ বছর আদালতে ঘুরতে হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিষুবাড়ী গ্রামের লুৎফর রহমান ভূমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা করেন (২২/২৩)। আজ (১৫/০৯/২০২৬) একতরফা শুনানীর দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু বিচারক না থাকায় তারিখ দিনান্তর করা হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, গাইবান্ধা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিন্তা ও যমুনা বেষ্টিত চরাঞ্চলের ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসব মামলার নিষ্পত্তিতে নিয়মিত/স্থায়ী বিচারক ছাড়া ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে শুধুমাত্র মামলা গ্রহণ ও দিনান্তর ছাড়া কোনো কার্যক্রম করা সম্ভব হয় না।

বিচারক সংকটে আইনজীবীরাও বিব্রত

গাইবান্ধা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে বিচারক সংকটের কারণে শুধু বিচারপ্রার্থী নয়, আইনজীবীরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের জিপি রফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, ভূমি রেকর্ড সংশোধন মামলার মধ্যে সমন, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক, দরখাস্ত শুনানি, বিবাদি পক্ষের জবাব, তদবির ও রায় প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জন্য বাদী-বিবাদিরা আদালতে আসছেন। কিন্তু আড়াই মাস ধরে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আদালতে নিয়মিত বিচারক না থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

আদালতের জিপি রফিকুল ইসলাম বুলু আরও বলেন, "নতুন বিচারক নিয়োগ করা হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করায় যুবককে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করায় যুবককে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...

শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় ডিভোর্সি এক নারীকে বিয়ে করার কারণে রতন সরদার (৪৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের দ্বারা সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর থেকে গত নয় দিন ধরে রতন সালিশকারীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে রয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রতন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রুবেল শিকদারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পারিবারিক কলহের কারণে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রুবেল তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। এরপর চলতি বছরের ৩ আগস্ট রতন রুবিনাকে বিয়ে করেন।

রতনের দাবি, তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। কিন্তু বিয়ের পর রুবেল শিকদার ও তার লোকজন তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন।

এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রতনের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পাঁচ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।

সালিশকারীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশরাফ মাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী, বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মতিউর রহমান খান, লতিফ খান এবং রাজ্জাক বেপারীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগও করেছেন রতন।

রতনের অভিযোগ, সালিশে তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পরও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য ওঠার আগেই তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, সালিশকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এছাড়া রুবেল শিকদারের পরিবারের কাছে বন্ধক রাখা তার জমির এক লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সালিশে উপস্থিত মোশারফ বেপারী বলেন, রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বেশিরভাগ সালিশকারী তাকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও বলেন, গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা সাধারণত তিন লাখ টাকা হলেও রতনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সালিশকারীদের একজন রাজ্জাক বেপারী দাবি করেন, রতনের কারণে রুবেল শিকদারের সংসার ভেঙে গেছে এবং পরে রুবিনাকে রতন বিয়ে করেছেন। এ কারণে সালিশে জুরি ভোটের মাধ্যমে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে রতন মাফ চাওয়ায় জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তার সম্মতি ছিল। তিনি স্বামীর বিয়েতে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রুবেল শিকদার বলেন, রতনের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। পরে রতন তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কারণে সালিশে রতনকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে রতন সরদার পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রুবেল ও রুবিনার ডিভোর্স ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হয়েছে। তিনি রুবিনাকে চলতি বছরের আগস্টে বিয়ে করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর জুলুম করেছেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, রতন সরদার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%