শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। চলতি বছরের জন্য মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪৭ জন। যদিও ডেঙ্গুতে নতুন করে কেউ মারা যাননি, তবে এ বছরের মোট মৃত্যু সংখ্যা ১৭৬ জনে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭৬ জনের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক এবং জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে। এই মাসে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৭৯ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২৩ এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, বরিশালে ১৩, চট্টগ্রামে ১৬, রাজশাহীতে আট, রংপুরে চার এবং সিলেটে একজন মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩০১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন। জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইতে নয় হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে প্রায় আড়াই মাস ধরে স্থায়ী বিচারকের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চলতি বছরের ৭ জুলাই, মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, এই আদালতের বিচারক, যুগ্ন জেলা জজ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলায় বদলি হওয়ার পর থেকে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে ভূমির রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যা আদালত সংশ্লিষ্ট ও আইনজীবীদের দ্বারা জানানো হয়েছে। বিচারক সংকটের কারণে এসব মামলার অধিকাংশের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত তারিখে আদালতে এসে অনেক বাদী-বিবাদীকে শুধুমাত্র হাজিরা ও প্রয়োজনীয় পিটিশন দিয়ে পরবর্তী তারিখ নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে মামলার দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি বাড়ছে সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি।
আদালত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে বিচারকের পদ শূন্য থাকলেও স্থায়ীভাবে বিচারক নিয়োগের জন্য কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যদিও অতিরিক্ত দায়িত্বে বিচারক রয়েছেন, কিন্তু নিজ আদালতের কাজের চাপ থাকায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালের মামলাগুলোর নিয়মিত শুনানি ও নিষ্পত্তি ব্যাহত হচ্ছে।
আদালত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের কার্যতালিকায় 75 থেকে ৮০টি পর্যন্ত মামলার শুনানি নির্ধারিত থাকে। এসব মামলার মধ্যে সমন, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক, রায় প্রকাশ, দরখাস্ত শুনানি, বিবাদি পক্ষের জবাব ও তদবির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে স্থায়ী বিচারক না থাকায় অনেক মামলায় কার্যকর শুনানি না হয়ে হাজিরা, পিটিশন গ্রহণ ও পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে থাকা মামলা সেখানেই পড়ে থাকছে এবং যুক্তিতর্কের মামলাতেও শুনানি এগোচ্ছে না।
মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না
বিচারপ্রার্থী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বেড়ামালঞ্চ গ্রামের মতিয়ার রহমান প্রায় চার বছর আগে ভূমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য এই আদালতে মামলা করেন (মামলা নম্বর-৬৪৫/২২)। তিনি বলেন, "মামলা শুরুর দিকে বিচারক থাকায় কার্যক্রম এগিয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য ছিলো।"
মতিয়ার রহমান আরও বলেন, "মামলা নিয়ে আদালতে আসছি, হাজিরা দিচ্ছি, আবার পরবর্তী তারিখ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার আসতে যাতায়াত ও আইনজীবীর পেছনে টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।"
রেকর্ড সংশোধনের মামলার বিবাদী আরেক ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম জানান, সাক্ষীর তারিখ ৪টি চলে গেছে। আজ (১৫/০৯/২০২৬) সাক্ষী নিয়ে এসেছি। কিন্তু বিচারক না থাকায় সাক্ষী হলো না।
তিনি বলেন, "মামলার তারিখে আদালতে আসি। কিন্তু বিচারক না থাকায় শুধু হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। নতুন বিচারক বসছেন না। দ্রুত বিচারক নিয়োগ করা হলে আমাদের মতো বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।"
ভুমি রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত একটি মামলার (১২১/২১) বাদীপক্ষের ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান অভিযোগ করেন, বাদিকে জেরার জন্য আজ (১৫/০৯/২০২৬) সহ চারটি ধার্য তারিখ দিনান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বিচারক না থাকায় বাদিকে জেরার কার্যক্রম এগোয়নি। একটি মামলার পেছনে পাঁচ বছর আদালতে ঘুরতে হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিষুবাড়ী গ্রামের লুৎফর রহমান ভূমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা করেন (২২/২৩)। আজ (১৫/০৯/২০২৬) একতরফা শুনানীর দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু বিচারক না থাকায় তারিখ দিনান্তর করা হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, গাইবান্ধা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিন্তা ও যমুনা বেষ্টিত চরাঞ্চলের ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসব মামলার নিষ্পত্তিতে নিয়মিত/স্থায়ী বিচারক ছাড়া ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে শুধুমাত্র মামলা গ্রহণ ও দিনান্তর ছাড়া কোনো কার্যক্রম করা সম্ভব হয় না।
বিচারক সংকটে আইনজীবীরাও বিব্রত
গাইবান্ধা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে বিচারক সংকটের কারণে শুধু বিচারপ্রার্থী নয়, আইনজীবীরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের জিপি রফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, ভূমি রেকর্ড সংশোধন মামলার মধ্যে সমন, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক, দরখাস্ত শুনানি, বিবাদি পক্ষের জবাব, তদবির ও রায় প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জন্য বাদী-বিবাদিরা আদালতে আসছেন। কিন্তু আড়াই মাস ধরে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আদালতে নিয়মিত বিচারক না থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
আদালতের জিপি রফিকুল ইসলাম বুলু আরও বলেন, "নতুন বিচারক নিয়োগ করা হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় ডিভোর্সি এক নারীকে বিয়ে করার কারণে রতন সরদার (৪৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের দ্বারা সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর থেকে গত নয় দিন ধরে রতন সালিশকারীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে রয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রতন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রুবেল শিকদারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পারিবারিক কলহের কারণে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রুবেল তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। এরপর চলতি বছরের ৩ আগস্ট রতন রুবিনাকে বিয়ে করেন।
রতনের দাবি, তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। কিন্তু বিয়ের পর রুবেল শিকদার ও তার লোকজন তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন।
এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রতনের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পাঁচ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
সালিশকারীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশরাফ মাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী, বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মতিউর রহমান খান, লতিফ খান এবং রাজ্জাক বেপারীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগও করেছেন রতন।
রতনের অভিযোগ, সালিশে তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পরও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য ওঠার আগেই তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সালিশকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এছাড়া রুবেল শিকদারের পরিবারের কাছে বন্ধক রাখা তার জমির এক লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালিশে উপস্থিত মোশারফ বেপারী বলেন, রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বেশিরভাগ সালিশকারী তাকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও বলেন, গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা সাধারণত তিন লাখ টাকা হলেও রতনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সালিশকারীদের একজন রাজ্জাক বেপারী দাবি করেন, রতনের কারণে রুবেল শিকদারের সংসার ভেঙে গেছে এবং পরে রুবিনাকে রতন বিয়ে করেছেন। এ কারণে সালিশে জুরি ভোটের মাধ্যমে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে রতন মাফ চাওয়ায় জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তার সম্মতি ছিল। তিনি স্বামীর বিয়েতে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রুবেল শিকদার বলেন, রতনের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। পরে রতন তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কারণে সালিশে রতনকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে রতন সরদার পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রুবেল ও রুবিনার ডিভোর্স ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হয়েছে। তিনি রুবিনাকে চলতি বছরের আগস্টে বিয়ে করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর জুলুম করেছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, রতন সরদার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের গবেষক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘রাইকন ২০২৬’ (5th IEEE International Conference on Robotics, Automation, Artificial Intelligence and Internet of Things)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সরাসরি এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন।
আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ও আইইইই রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ আয়োজনে এবং যবিপ্রবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে মোট ৫১৭টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। কঠোর পর্যালোচনা ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এর মধ্যে ১৪৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এতে গবেষণাপত্র গ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর উল্লেখ করেন, রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস এখন আর বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তি নয়; বরং এসব প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে পরিবর্তন করছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন অবশ্যই মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা নয়, বরং তা যেন নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটিও নিশ্চিত করা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জ্ঞান ও গবেষণাকে এমন অর্থবহ উদ্ভাবনে রূপ দেওয়া, যা মানুষের কল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কি-নোট বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাম চন্দ্র পালসানিয়া। তিনি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে এআই-চালিত অটোমেশনের ব্যবহার, প্রেডিক্টিভ মেইনটেইন্যান্স এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টুলের ডাউনটাইম কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান, অর্গানাইজিং কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন। বিএমই বিভাগের প্রভাষক আনিকা আঞ্জুম ও ইইই বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলন দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০তম এশিয়ান গেমসের শুরুতে আবাসন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতীয় অলিম্পিক দলের সদস্যরা বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে, জাপানের নাগোয়া শহরে এক নারী অ্যাথলেট ও তার পুরুষ কোচকে একই কক্ষে বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানে পৌঁছানোর পর থেকেই ভারতীয় দলের সদস্যরা আবাসন ও লজিস্টিক সংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ক্রুজ শিপে নারী জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং তার কোচ অশোক মিশ্রকে একই কক্ষে বরাদ্দ করা হয়।
এই বিষয়টি সামনে আসার পর প্রণতি এবং তার কোচ আয়োজক ও দলের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। কয়েক ঘণ্টা যোগাযোগের পর ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপে রাত প্রায় দেড়টার দিকে অশোক মিশ্রের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়।
নতুন কক্ষের চাবি নিতে গিয়ে কোচ অশোক মিশ্র আরও সমস্যায় পড়েন। হোটেল রেজিস্ট্রারে তার বুকিং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, অফিসিয়াল নথিতে তার নামের একটি অক্ষর ভুল থাকায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নাম সংশোধন এবং অ্যাক্রেডিটেশন যাচাই করতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগতে দেখা যায়।
সব প্রক্রিয়া শেষে অশোক মিশ্র রাত প্রায় ২টার দিকে কক্ষে পৌঁছান।
এনডিটিভিকে প্রণতি নায়েক জানান, "আবাসন নিয়ে একটি গোলমাল হয়েছিল এবং রাত ২টার দিকে সমস্যাটির সমাধান হয়।"
শুধু জিমন্যাস্টিকস দলের সদস্যরাই নয়, ভারতীয় কবাডি দলের সদস্যরাও জাপানে পৌঁছে হোটেল ও দেরিতে চেক-ইনসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ এবং সময়মতো খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকজন অ্যাথলেট প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছেন।
মাঠের লড়াই শুরুর আগে এসব প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে, যাতে অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ