শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৮ পি.এম
শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় ডিভোর্সি এক নারীকে বিয়ে করার কারণে রতন সরদার (৪৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের দ্বারা সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর থেকে গত নয় দিন ধরে রতন সালিশকারীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে রয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রতন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রুবেল শিকদারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পারিবারিক কলহের কারণে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রুবেল তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। এরপর চলতি বছরের ৩ আগস্ট রতন রুবিনাকে বিয়ে করেন।
রতনের দাবি, তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। কিন্তু বিয়ের পর রুবেল শিকদার ও তার লোকজন তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন।
এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রতনের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পাঁচ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
সালিশকারীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশরাফ মাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী, বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মতিউর রহমান খান, লতিফ খান এবং রাজ্জাক বেপারীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগও করেছেন রতন।
রতনের অভিযোগ, সালিশে তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পরও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য ওঠার আগেই তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সালিশকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এছাড়া রুবেল শিকদারের পরিবারের কাছে বন্ধক রাখা তার জমির এক লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালিশে উপস্থিত মোশারফ বেপারী বলেন, রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বেশিরভাগ সালিশকারী তাকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও বলেন, গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা সাধারণত তিন লাখ টাকা হলেও রতনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সালিশকারীদের একজন রাজ্জাক বেপারী দাবি করেন, রতনের কারণে রুবেল শিকদারের সংসার ভেঙে গেছে এবং পরে রুবিনাকে রতন বিয়ে করেছেন। এ কারণে সালিশে জুরি ভোটের মাধ্যমে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে রতন মাফ চাওয়ায় জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তার সম্মতি ছিল। তিনি স্বামীর বিয়েতে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রুবেল শিকদার বলেন, রতনের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। পরে রতন তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কারণে সালিশে রতনকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে রতন সরদার পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রুবেল ও রুবিনার ডিভোর্স ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হয়েছে। তিনি রুবিনাকে চলতি বছরের আগস্টে বিয়ে করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর জুলুম করেছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, রতন সরদার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের গবেষক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘রাইকন ২০২৬’ (5th IEEE International Conference on Robotics, Automation, Artificial Intelligence and Internet of Things)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সরাসরি এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন।
আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ও আইইইই রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ আয়োজনে এবং যবিপ্রবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে মোট ৫১৭টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। কঠোর পর্যালোচনা ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এর মধ্যে ১৪৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এতে গবেষণাপত্র গ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর উল্লেখ করেন, রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস এখন আর বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তি নয়; বরং এসব প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে পরিবর্তন করছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন অবশ্যই মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা নয়, বরং তা যেন নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটিও নিশ্চিত করা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জ্ঞান ও গবেষণাকে এমন অর্থবহ উদ্ভাবনে রূপ দেওয়া, যা মানুষের কল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কি-নোট বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাম চন্দ্র পালসানিয়া। তিনি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে এআই-চালিত অটোমেশনের ব্যবহার, প্রেডিক্টিভ মেইনটেইন্যান্স এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টুলের ডাউনটাইম কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান, অর্গানাইজিং কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন। বিএমই বিভাগের প্রভাষক আনিকা আঞ্জুম ও ইইই বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলন দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০তম এশিয়ান গেমসের শুরুতে আবাসন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতীয় অলিম্পিক দলের সদস্যরা বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে, জাপানের নাগোয়া শহরে এক নারী অ্যাথলেট ও তার পুরুষ কোচকে একই কক্ষে বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানে পৌঁছানোর পর থেকেই ভারতীয় দলের সদস্যরা আবাসন ও লজিস্টিক সংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ক্রুজ শিপে নারী জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং তার কোচ অশোক মিশ্রকে একই কক্ষে বরাদ্দ করা হয়।
এই বিষয়টি সামনে আসার পর প্রণতি এবং তার কোচ আয়োজক ও দলের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। কয়েক ঘণ্টা যোগাযোগের পর ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপে রাত প্রায় দেড়টার দিকে অশোক মিশ্রের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়।
নতুন কক্ষের চাবি নিতে গিয়ে কোচ অশোক মিশ্র আরও সমস্যায় পড়েন। হোটেল রেজিস্ট্রারে তার বুকিং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, অফিসিয়াল নথিতে তার নামের একটি অক্ষর ভুল থাকায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নাম সংশোধন এবং অ্যাক্রেডিটেশন যাচাই করতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগতে দেখা যায়।
সব প্রক্রিয়া শেষে অশোক মিশ্র রাত প্রায় ২টার দিকে কক্ষে পৌঁছান।
এনডিটিভিকে প্রণতি নায়েক জানান, "আবাসন নিয়ে একটি গোলমাল হয়েছিল এবং রাত ২টার দিকে সমস্যাটির সমাধান হয়।"
শুধু জিমন্যাস্টিকস দলের সদস্যরাই নয়, ভারতীয় কবাডি দলের সদস্যরাও জাপানে পৌঁছে হোটেল ও দেরিতে চেক-ইনসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ এবং সময়মতো খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকজন অ্যাথলেট প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছেন।
মাঠের লড়াই শুরুর আগে এসব প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে, যাতে অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে, দেশটির দারিদ্র্যের হার কমে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর প্রকাশিত নতুন তথ্যে এই তথ্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে।
সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, অপরদিকে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের তুলনায় বেশি।
কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার।
শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে, হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন।
তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।
২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লঘুচাপ পরবর্তীতে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই ঝড়ের গতিপথ ভারতের ওড়িশা উপকূলের দিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে আন্দামান সাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এটি পর্যায়ক্রমে ঘনীভূত হয়ে প্রথমে নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য এই সিস্টেমের প্রভাবে বাংলাদেশে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ বর্তমানে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর স্পর্শ করেছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে—রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ