বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) টানা ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই এলাকার মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও, মিরপুর, শ্যামলী ও কল্যাণপুর।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বুধবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে ঢাকার আগারগাঁও, তালতলা (পশ্চিমাংশ), শেওড়াপাড়া (পশ্চিমাংশ), কাজীপাড়া (পশ্চিমাংশ), মিরপুর-১০ (পশ্চিমাংশ), মিরপুর-১, পাইকপাড়া, কল্যাণপুর (কল্যাণপুর হতে মিরপুর-১ গামী সড়কের ডানপার্শ্ব), শ্যামলী, মিরপুর ৬০ ফিট ও পীরের বাগ এলাকায়। এই সব এলাকায় বিদ্যমান আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, এই সময়ে আশপাশের অন্যান্য এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা মিটিংয়ে জামায়াতের আমিরকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ পরে তাকে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
সভায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান এবং শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলারক্ষা বিষয়ক সভা চলছিল। সভায় উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি সম্পাদকসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সবার বক্তব্য শেষ হলে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এ সময় পেছন দিক থেকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীর বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিএনপির নেতারা তখন তাকে ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন। পরে তার পরিচয় জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্যরা তাকে হলরুমে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
নুরুজ্জামান মাইক হাতে নিতে গেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বক্তব্যে ‘জামায়াত ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে’ এই অংশের প্রতিবাদ জানান। তখন সেখানে উপস্থিত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা তাকে মারধর শুরু করে। পুলিশ পরে তাকে রুম থেকে বের করে নিয়ে যায়। মারামারির ভিডিও ধারণ করার সময় কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও ওঠে।
এই ঘটনার পর আহত নুরুজ্জামান মীর বলেন, প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি যে উপজেলা জামায়াতের আমির, কেউ তাকে চিনেও না। তিনি তার বক্তব্যে জামায়াতের নাম উল্লেখ করে কিছু বলেননি। নুরুজ্জামান সংসদ সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার সময় পরিচয় না দিয়ে বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে কেউ চিনে না বলেই সমস্যা তৈরি হয়। তবে এই ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, সামান্য ভুল বুঝাবুঝির কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান বলেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া কিংবা ঠাসা ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে ঠাকুর দেখা, তারকাদের জন্য এটি যেন এক স্বপ্নের মতো। জনপ্রিয়তার কারণে, সাধারণ মানুষের মতো স্বচ্ছন্দে রাস্তায় বের হতে পারা তাদের জন্য সহজ নয়।
তবে টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় বেরিয়ে পূজার আনন্দ উপভোগ করতে তিনি বেশ পছন্দ করেন।
এ বছর মধুমিতার জন্য দুর্গাপূজা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি তার বিয়ের পর প্রথম পূজা। তবে স্বামীর সঙ্গে প্যান্ডেল হপিংয়ের চেয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে ঠাকুর দেখা তাকে বেশি আনন্দ দেয়।
তারকা হওয়ার কারণে, রাস্তায় বের হলে ভক্তদের চিনে ফেলার আশঙ্কা থাকে। তাই ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আড়াল করার কৌশলও রপ্ত করেছেন মধুমিতা। সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই কৌশল প্রকাশ করেছেন।
মধুমিতা বলেন, "আমি ভিড়ের মধ্যে খুব সহজে মিশে যেতে পারি। আমি মানুষের চোখের দিকে তাকাই না। একদম মাটির দিকে তাকিয়ে এগিয়ে যাই। ঠাকুর দেখেই আবার চট করে বেরিয়ে যাই। পূজার সময় সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাই চট করে কেউ নজর দেয় না।"
তবে সবসময় যে এত সহজে রক্ষা পান, তা নয়। অভিনেত্রী তার এক মজার অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন।
মধুমিতা বলেন, "অনেক সময় এমন হয়েছে একটি জায়গায় গাড়ি রেখে আমরা হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা বেরিয়ে গেছি। আবার বাসে করে ফিরেছি, যেখানে গাড়ি রাখা আছে। বন্ধুরা প্রথমে কিছু বলে না; কিন্তু ঠিক যখন বাস থেকে নামতে যাব, তখন ওদের মধ্যে কেউ একজন বলে দেয় ওটা পাখি না! বাসের অন্য যাত্রীরা কিছু বোঝার আগেই বন্ধুরা আমার হাত ধরে নামিয়ে নিয়ে চলে যায়।"
তারকার পরিচয় আড়াল করে সাধারণ মানুষের মতো পূজার আনন্দ উপভোগের এই অভিজ্ঞতাই মধুমিতার কাছে আলাদা আনন্দের। তাই মজার ছলে অভিনেত্রীর মন্তব্য, "এগুলো না হলে আর পূজার আনন্দ কী!"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রবীণ জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে ৬২ লাখ নারী ও পুরুষকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ জানিয়েছেন, ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু যোগ্য প্রবীণ ব্যক্তি এখনও বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তির আওতার বাইরে রয়েছেন। ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সকলকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব জানান, বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতা প্রতি বছর ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এক সময় ৬০ লাখ প্রবীণকে এ ভাতা দেওয়া হতো। পরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। চলতি বছর আরও ১ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট ৬২ লাখ প্রবীণ এ সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এখনো সব প্রবীণকে আমরা আওতার মধ্যে আনতে পারিনি। যাদের বয়স নারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর বা তার বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি, তারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য।’
সচিব আরও বলেন, নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স্ক ভাতার সুবিধা পান না। এখানে নির্ধারিত নীতিমালা ও যোগ্যতার বিষয় রয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। ফলে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচির আওতায় নেওয়া সম্ভব হয় না।
বর্তমানে বয়স্ক ভাতার জন্য কিছু আবেদন রয়েছে, যেগুলো বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকার এ বিষয়ে সচেতন এবং ভবিষ্যতে বাজেটের সক্ষমতা বাড়লে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
সচিব বলেন, প্রবীণ জনগণ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের জন্য এই ভাতা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা করছে। পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ জনগণকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন প্রবীণ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা আরো বাড়বে। ফলে প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
প্রবীণদের চলাচলের সুবিধার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। তিনি বলেন, দেশের রেল ও মেট্রোরেলসহ কিছু গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
গণপরিবহনে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভাড়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। তিনি জানান, রেল ও মেট্রোরেলসহ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের জন্য কেবল আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, নিরাপদ আবাসন, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সচিব বলেন, প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের দেখাশোনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবীণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এখনও শারীরিকভাবে সক্ষম এবং তারা বিভিন্নভাবে সমাজে অবদান রাখতে পারেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে একদিকে যেমন প্রবীণদের সক্রিয় জীবন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নবীন প্রজন্মও তাদের কাছ থেকে উপকৃত হবে।
বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে— সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিক করা। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতার আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে প্রবীণ জনগণের একটি বড় অংশ আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ভাতার আওতাও আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজেট বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সকল ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে এ ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ মানুষ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। তবে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগণের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে শুধু ভাতা প্রদান নয়, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগসহ সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করা হবে সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ে সেজে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করে এক তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, ওই তরুণ ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে কথিত স্ত্রীর বাবার পরিচয়ে নিজের বাবাকেও ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে।
লালপুর থানা পুলিশ শান্ত আলী (২০) এবং তার বাবা শহিদুল ইসলাম (৩৮)কে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শান্ত আলী গন্ডবিল গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্ত আলী ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মতো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। ওই পরিচয়ে নিজেকে তরুণী দাবি করে এক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে কথিতভাবে বিয়ের সম্পর্কেও জড়ান তারা।
এরপর শান্ত আলী প্রতারণার কৌশল আরও বিস্তৃত করেন। কথিত ‘সুমাইয়া আক্তার’-এর বাবা পরিচয়ে নিজের বাবা শহিদুল ইসলামকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলান। বাবা-ছেলে মিলে ভুয়া পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া নারী পরিচয় তৈরি এবং পারিবারিক সম্পর্কের অভিনয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মোট কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কী কী অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তা বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে লালপুর থানার এসআই এজে মিন্টুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার সকালে গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় শান্ত আলীর বাড়ির টিনশেড ভবনের উত্তরমুখী শয়নকক্ষ থেকে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতারণার পরিধি, অর্থ লেনদেন এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আটক শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে লালপুর থানায় মামলা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ