ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকার ৬২ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করছে


সরকার ৬২ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করছে

দেশের প্রবীণ জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে ৬২ লাখ নারী ও পুরুষকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ জানিয়েছেন, ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু যোগ্য প্রবীণ ব্যক্তি এখনও বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তির আওতার বাইরে রয়েছেন। ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সকলকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

সচিব জানান, বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতা প্রতি বছর ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এক সময় ৬০ লাখ প্রবীণকে এ ভাতা দেওয়া হতো। পরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। চলতি বছর আরও ১ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট ৬২ লাখ প্রবীণ এ সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এখনো সব প্রবীণকে আমরা আওতার মধ্যে আনতে পারিনি। যাদের বয়স নারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর বা তার বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি, তারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য।’

সচিব আরও বলেন, নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স্ক ভাতার সুবিধা পান না। এখানে নির্ধারিত নীতিমালা ও যোগ্যতার বিষয় রয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। ফলে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচির আওতায় নেওয়া সম্ভব হয় না।

বর্তমানে বয়স্ক ভাতার জন্য কিছু আবেদন রয়েছে, যেগুলো বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকার এ বিষয়ে সচেতন এবং ভবিষ্যতে বাজেটের সক্ষমতা বাড়লে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সচিব বলেন, প্রবীণ জনগণ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের জন্য এই ভাতা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা করছে। পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ জনগণকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন প্রবীণ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা আরো বাড়বে। ফলে প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

প্রবীণদের চলাচলের সুবিধার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। তিনি বলেন, দেশের রেল ও মেট্রোরেলসহ কিছু গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

গণপরিবহনে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভাড়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। তিনি জানান, রেল ও মেট্রোরেলসহ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের জন্য কেবল আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, নিরাপদ আবাসন, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সচিব বলেন, প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের দেখাশোনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবীণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এখনও শারীরিকভাবে সক্ষম এবং তারা বিভিন্নভাবে সমাজে অবদান রাখতে পারেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে একদিকে যেমন প্রবীণদের সক্রিয় জীবন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নবীন প্রজন্মও তাদের কাছ থেকে উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে— সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিক করা। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতার আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে প্রবীণ জনগণের একটি বড় অংশ আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ভাতার আওতাও আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজেট বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সকল ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে এ ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ মানুষ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। তবে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগণের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে শুধু ভাতা প্রদান নয়, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগসহ সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করা হবে সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়ে সেজে ইতালি প্রবাসীকে বিয়ে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


মেয়ে সেজে ইতালি প্রবাসীকে বিয়ে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আটক

নাটোরের লালপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ে সেজে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করে এক তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, ওই তরুণ ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে কথিত স্ত্রীর বাবার পরিচয়ে নিজের বাবাকেও ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে।

লালপুর থানা পুলিশ শান্ত আলী (২০) এবং তার বাবা শহিদুল ইসলাম (৩৮)কে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শান্ত আলী গন্ডবিল গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্ত আলী ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মতো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। ওই পরিচয়ে নিজেকে তরুণী দাবি করে এক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে কথিতভাবে বিয়ের সম্পর্কেও জড়ান তারা।

এরপর শান্ত আলী প্রতারণার কৌশল আরও বিস্তৃত করেন। কথিত ‘সুমাইয়া আক্তার’-এর বাবা পরিচয়ে নিজের বাবা শহিদুল ইসলামকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলান। বাবা-ছেলে মিলে ভুয়া পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া নারী পরিচয় তৈরি এবং পারিবারিক সম্পর্কের অভিনয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মোট কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কী কী অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তা বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে লালপুর থানার এসআই এজে মিন্টুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার সকালে গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় শান্ত আলীর বাড়ির টিনশেড ভবনের উত্তরমুখী শয়নকক্ষ থেকে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতারণার পরিধি, অর্থ লেনদেন এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আটক শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে লালপুর থানায় মামলা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ৩৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ৩৯ জন নিহত

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ফলে সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (গাকা)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এবং বুধবার (৭ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলা সংঘটিত হয়।

সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (গাকা) জানিয়েছে, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী নাগরিক নিহত হন। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। অন্যদিকে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক সুদানির নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং পাঁচজন সৌদি নাগরিকসহ মোট আটজন আহত হয়েছেন।

গাকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, জোট বাহিনী রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রিয়াদ বিমানবন্দর অভিমুখে ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে সৌদি জোট। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারের কাছে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় রিয়াদ বিমানবন্দর সংলগ্ন তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি ট্যাংকের চারপাশে নতুন করে সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক সৌদি সামরিক জোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে। এ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বুধবার ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলমান এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন (তিন হাজার ৬১২ কোটি ৩৫ লাখ) ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন (তিন হাজার ১৩১ কোটি ১১ লাখ) ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার (৭ অক্টোরব) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এই কারণে, ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী হয়েছিল ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের মোনাল পাখি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের মোনাল পাখি

মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন পরিবর্তিত হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ত্যাগ করে আরও উঁচু এলাকায় চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে মোনালের।

ভারতীয় গবেষকদের পাঁচ বছরের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, মানুষের উপস্থিতি বাড়ার ফলে মোনালের স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ড. রাজীব লোচন জানান, মোনালের আবাসস্থলের পরিসর তুলনামূলকভাবে ছোট। ঋতুভেদে পাখিটি পাহাড়ের নিচের ঢাল থেকে উঁচু আলপাইন অঞ্চলে চলাচল করে। এ কারণে উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে মোনালকে বিবেচনা করা হয়।

গবেষকেরা উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ওপর মোনালের সম্ভাব্য আবাসস্থল নিয়ে একটি মডেল তৈরি করেছেন। এতে দেখা গেছে, বরফ গলার ফলে উঁচু এলাকায় গাছপালা ছড়িয়ে পড়ায় সেসব স্থান ধীরে ধীরে মোনালের জন্য উপযোগী হয়ে উঠছে। অন্যদিকে মানুষের দখল ও কর্মকাণ্ডের কারণে নিচের আবাসস্থল হারিয়ে পাখিগুলো ওপরের দিকে সরে যাচ্ছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, এভাবে আবাসস্থল পরিবর্তনের ফলে মোনালের ঋতুভিত্তিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট এলাকায় আটকে পড়লে তাদের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিলুপ্তির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অন্য গবেষণায় মোনালের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। রাজীব লোচন, দীনেশ কুমার শর্মা ও আনন্দ কুমারের নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার স্যাংচুয়ারির চোপতা ও মদমহেশ্বর উপত্যকায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। চোপতা একটি ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র হলেও মদমহেশ্বর তুলনামূলকভাবে শান্ত এলাকা।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে গবেষকেরা ৭০০টির বেশি মোনালের ডাক রেকর্ড করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, শান্ত এলাকার তুলনায় কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে থাকা মোনাল অপেক্ষাকৃত তীক্ষ্ণ স্বরে এবং ছোট ছোট ডাকে যোগাযোগ করছে।

ড. লোচনের মতে, এতে মোনালের কণ্ঠে স্থায়ী বা বিবর্তনমূলক পরিবর্তন এসেছে—এমনটি বলা যায় না। বরং শব্দময় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পাখিগুলো আচরণগতভাবে ডাকের ধরন বদলাচ্ছে।

পরিবেশবিদ বিশাল সিং বলেন, দুটি গবেষণাই আরও অরক্ষিত প্রজাতির জন্য সতর্কবার্তা। আর ফ্লেম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আইপিসিসি প্রতিবেদনের কন্ট্রিবিউটর আঞ্জাল প্রকাশের মতে, মানুষের শব্দ ও উপস্থিতির কারণে মোনালের কণ্ঠ ও আবাসস্থলে পরিবর্তন হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গবেষণা দুটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, মোনালের আবাসস্থল ও আচরণে পরিবর্তন হিমালয়ের বৃহত্তর পরিবেশগত পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%