সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৩ পি.এম
অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পুলিশ তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে তাকে মেট্রো স্টেশনে প্রবেশে বাধা দেয়। তিনি দাবি করেছেন যে, প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে মেট্রোরেলে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়।
সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন এবং নিয়মিত দৌড়ান। ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করেন তিনি।
ঘটনার পর সাজ্জাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলছেন।
ভিডিওতে পুলিশ সদস্য জাকিরকে বলতে শোনা যায়, "দাঁড়ান, একটু চুলটা ঠিক করি।" এরপর সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে প্রবেশের কারণ জানতে চান।
পুলিশ সদস্যের জবাব ছিল, "আপনাকে বলা হয়েছে, আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।" এ সময় সাজ্জাদ প্রশ্ন করেন, "কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি কি আপনার নিয়মে লেখা আছে?" পুলিশ সদস্যের উত্তর ছিল, "এটা দেখা আমার দায়িত্ব।"
সাজ্জাদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ শেষে ফার্মগেটে একটি কাজে যান তিনি। পরে বিজয় সরণিতে যাওয়ার জন্য ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে টিকিট কাটেন। স্টেশনে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে থামিয়ে পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান।
সাজ্জাদের অভিযোগ, ওই পুলিশ সদস্য তাকে বলেন, "এই সব কী ড্রেস পরেন, এই সব অশালীন ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না।" তখন তিনি নিজেকে একজন রানিং কোচ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, প্রশিক্ষণ শেষে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাতায়াত নিষিদ্ধ এমন কোনো নিয়ম থাকলে তা দেখানোর অনুরোধও করেন তিনি।
সাজ্জাদের দাবি, সেখানে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্যও তার পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের একজন তাকে ট্রাউজার পরে আসতে বলেন এবং এমনকি হাফপ্যান্ট খুলে রেখে ট্রাউজার পরে আসার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এভাবে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেন সাজ্জাদ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তাও তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই কর্মকর্তা তার ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে মেট্রোরেলে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে সাজ্জাদের অভিযোগ, মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। তবে পোশাকের কারণে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ট্রাক এবং অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের ফলে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বুড়িমারী লালমনিরহাট মহাসড়কের উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা একটি অটোরিকশা পাটগ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ঘুন্টি এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকটি পাশের দোকানে প্রবেশ করে এবং অটোরিকশাকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে আরও অন্তত সাতজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা এবং পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে মোস্তাকীন নামে একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুইজনকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত এবং আহতদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই পাটগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ অফিসার পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে দুই ক্যাটাগরির পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে।
পদের নাম: অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি)।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই/ইসিই/ইটিই/সিএসই) স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪৮ (আট চল্লিশ) বছর। তবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫০ (পঞ্চাশ) বছর।
বেতন: ৯৬,২৫০–১,৩৭,০৫০ টাকা।
পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি)।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই/ইসিই/ইটিই/সিএসই) স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ (বত্রিশ) বছর।
বেতন: ২৯,৭৫০–৬৬,১৭০ টাকা।
আবেদন ফি: ২০৬ টাকা।
আবেদন পদ্ধতি: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ১ অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর, এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ০.৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিন প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই তেল ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংক্রান্ত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এই উদ্বেগের ফলস্বরূপ তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুপুরের খাবার শেষ হয়ে গেছে। কর্মব্যস্ততার মাঝে কিছুটা অবসর মিলেছে। কাজের জায়গা থেকে দু’কদম এগোলেই চারপাশে দেখা যায় সবুজের সমারোহ।
কিছু শ্রমিক গাছের ছায়ায় বেঞ্চিতে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ ফলের গাছের সারির মধ্য দিয়ে হাঁটছেন। কোথাও হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে, কোথাও জমে উঠছে আড্ডা। এই সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশে কর্মঘণ্টার ক্লান্তি ভুলে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাচ্ছেন কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
এটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র কিংবা শহরের কোনো পার্ক নয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ‘ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড’-এর একপাশে বিস্তৃত পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে ফলের বাগান ও পার্ক।
দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের গাছের পাশাপাশি কর্মীদের বসা, হাঁটা ও সময় কাটানোর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক পরিবেশ। বাগানের দু’পাশে সারি করে বসানো হয়েছে বেঞ্চ। দুপুর কিংবা রাতের খাবারের পর নির্দিষ্ট বিরতিতে কারখানার কর্মীরা সেখানে বসে আয়েশ করেন এবং নির্মল আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠেন।
প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বেপজার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারখানার পরিবেশ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের। সে সময় ক্যানপার্ক অ্যাপারেলসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের চোখে পড়ে ভিন্ন এক পরিবেশ।
ক্যানপার্কের পরিচালক (মানবসম্পদ) মো. খলিলুর রহমান জানান, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত একটি কারখানা। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি লিড-প্লাটিনাম (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এ ধরনের পরিবেশই লিড সার্টিফিকেট অর্জনের পূর্বশর্ত।
তিনি আরও জানান, কর্মীরা এত ভালো পরিবেশে কাজ করেন যে তাদের ক্লান্তির অবকাশ নেই। তাদের জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং বেপজার (বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ) সমন্বয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারখানার আঙিনায় বাগান এবং বিনোদনের জন্য পার্কের পরিবেশ রাখা হয়েছে। এতে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তাদের কাজের মানও উন্নত হয়।
মো. খলিলুর রহমান আরও বলেন, ক্যানপার্কের মূল ইউনিটগুলো কর্ণফুলী ইপিজেডের সেক্টর-৩-এর ৬৯ থেকে ৮৫ নম্বর প্লট এবং সেক্টর-২-এর ১৪ থেকে ২৩ নম্বর প্লটজুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে স্বীকৃত ‘ক্যানপার্ক ইউনিট-২’ প্রায় ১,৮০,১৩০ বর্গফুট আয়তনের ওপর নির্মিত। কারখানাটির চারপাশে ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখা হয়েছে। সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ও পার্ক। পুরো কারখানাটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছেন, যার ৬০ শতাংশই নারী। শ্রমিকদের জন্য কারখানার ভেতরেই মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে। সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
কারখানায় থাকা সবুজের পরিসর শুধু চোখের প্রশান্তি দেয় না, বরং কর্মীদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝে দুদণ্ড স্বস্তি এনে দেয়। দীর্ঘ সময় কারখানার ভেতরে কাজ করার পর কিছু সময়ের জন্য গাছের ছায়ায় বসা, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করা কিংবা বাগানের ভেতর হাঁটার সুযোগকে কর্মীরা নিজেদের জন্য আলাদা এক প্রশান্তি হিসেবে দেখছেন।
কারখানার সুইং অপারেটর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের কারখানার পরিবেশ এত ভালো যে কখনও ক্লান্তি আসে না। ভেতরে সেন্ট্রাল এসিতে (কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) কাজ করি। আবার সেখান থেকে বেরিয়ে দু’কদম হাঁটলেই সবুজের রাজ্য খুঁজে পাই। বাগানের বিভিন্ন গাছ থেকে মৌসুমভেদে কখনও আম, কখনও বরই, পেয়ারা কিংবা সফেদা নিজের হাতে পেড়ে খাই। এটাকে খুবই অসাধারণ বলে মনে হয়।’
কারখানা কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কারখানাটিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সবুজায়ন ও কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত সবুজ পরিসর তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই ব্যবস্থায় ভবনের জ্বালানি ও পানি সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। সেই বৃহত্তর সবুজ ভাবনারই দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠেছে কারখানা প্রাঙ্গণের এই ফলের বাগান।
এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘সারাদিন কাজের মধ্যে থাকতে হয়। লাঞ্চের পর বাগানে গিয়ে কিছুক্ষণ বসতে পারলে শরীর-মন দুটোই হালকা লাগে। আগে কারখানা বলতে শুধু কাজের জায়গাই বুঝতাম। এখানে এসে মনে হয়, কাজের পাশাপাশি আমাদের জন্য বিশ্রাম ও আনন্দের কথাও ভাবা হয়েছে।’
কারখানার ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যে এ ধরনের ছোট আনন্দই কর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ কিছু। শহুরে কর্মপরিবেশে যেখানে কংক্রিট আর যন্ত্রপাতির ভিড়ই স্বাভাবিক দৃশ্য, সেখানে সুপরিসরে তৈরি এই সবুজ বাগান কর্মীদের জন্য প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড ২০০৭ সাল থেকে কর্ণফুলী ইপিজেডে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি শ্রীলংকা ও আমেরিকার একটি যৌথ উদ্যোগ। বাংলাদেশে তাদের প্রথম বিনিয়োগ শুরু করে ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে (সিইপিজেড)।
২০০৬ সালে কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ২০০৭ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে চতুর্থ কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কারখানাটিতে মূলত বটম ওয়্যার (প্যান্ট) তৈরি হয়। প্রতিদিন ১ লাখ পিস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় এসব পণ্য রপ্তানি হয়। বিশ্বের সেরা অনেক ব্র্যান্ড কারখানাটির ক্রেতা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটির রপ্তানির পরিমাণ ৩৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ