প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পুলিশ তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে তাকে মেট্রো স্টেশনে প্রবেশে বাধা দেয়। তিনি দাবি করেছেন যে, প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে মেট্রোরেলে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়।
সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন এবং নিয়মিত দৌড়ান। ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করেন তিনি।
ঘটনার পর সাজ্জাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলছেন।
ভিডিওতে পুলিশ সদস্য জাকিরকে বলতে শোনা যায়, "দাঁড়ান, একটু চুলটা ঠিক করি।" এরপর সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে প্রবেশের কারণ জানতে চান।
পুলিশ সদস্যের জবাব ছিল, "আপনাকে বলা হয়েছে, আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।" এ সময় সাজ্জাদ প্রশ্ন করেন, "কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি কি আপনার নিয়মে লেখা আছে?" পুলিশ সদস্যের উত্তর ছিল, "এটা দেখা আমার দায়িত্ব।"
সাজ্জাদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ শেষে ফার্মগেটে একটি কাজে যান তিনি। পরে বিজয় সরণিতে যাওয়ার জন্য ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে টিকিট কাটেন। স্টেশনে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে থামিয়ে পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান।
সাজ্জাদের অভিযোগ, ওই পুলিশ সদস্য তাকে বলেন, "এই সব কী ড্রেস পরেন, এই সব অশালীন ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না।" তখন তিনি নিজেকে একজন রানিং কোচ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, প্রশিক্ষণ শেষে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাতায়াত নিষিদ্ধ এমন কোনো নিয়ম থাকলে তা দেখানোর অনুরোধও করেন তিনি।
সাজ্জাদের দাবি, সেখানে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্যও তার পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের একজন তাকে ট্রাউজার পরে আসতে বলেন এবং এমনকি হাফপ্যান্ট খুলে রেখে ট্রাউজার পরে আসার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এভাবে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেন সাজ্জাদ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তাও তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই কর্মকর্তা তার ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে মেট্রোরেলে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে সাজ্জাদের অভিযোগ, মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। তবে পোশাকের কারণে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন