বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৭ পি.এম
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি, যা বেনিনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। বিদায়ের আগে, লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন দলটি আরও দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে। তবে, বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ নিশ্চিত করেছেন যে, মেসির আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি আপাতত অন্য কেউ পরিধান করবেন না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কর্দোবার কেম্পেস স্টেডিয়ামে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বলিভিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। এরপর, তারা বুরকিনা ফাসো এবং আগামী ৭ অক্টোবর বুয়েন্স আয়ার্সে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা বেনিনের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো দেখা দেবেন। তবে, আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম দুই ম্যাচে তিনি বিশ্রামে থাকবেন।
পরবর্তী ম্যাচগুলোর পরিকল্পনা সম্পর্কে কোচ স্কালোনি বলেন, এটি মূলত নতুন ফুটবলারদের পরীক্ষা করার সুযোগ। মেসি-পরবর্তী সময়ে দলের কৌশল নিয়ে বাস্তববাদী স্কালোনি মন্তব্য করেন, "আমরা অন্যভাবে খেলার নতুন পথ খুঁজে নেব।" আক্রমণভাগে এবার হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজকে একসঙ্গে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মেসির আইকনিক ১০ নম্বর জার্সি প্রসঙ্গে কোচ বলেন, "লিওর বিদায়ী ম্যাচ পর্যন্ত এই জার্সি কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।" তবে, ভবিষ্যতে অবশ্যই অন্য কেউ এটি পরিধান করবে, কারণ এটি পরিধান করা বিশেষ সম্মানের বিষয়। ২০২২ বিশ্বকাপ জয় এবং দীর্ঘ ২০৭ ম্যাচের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় এই নম্বরটি পরেই খেলেছেন মেসি।
এদিকে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচের পদে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এএফএ সভাপতি ক্ল Claudio তাপিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি বৃদ্ধির ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
স্কালোনি জানান, নতুন প্রতিভাদের উঠে আসা এবং দলের ক্ষুধা দেখেই তিনি পদে বহাল থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় মাদরাসার ছাদে খেলার সময় ঘটে যাওয়া একটি ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও এক কিশোরী মারা গেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনি (১৪) নামের ওই কিশোরীর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার ফলে ওই বিস্ফোরণে দগ্ধ দুইজনের মৃত্যু হলো।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার এ বিষয়ে জানান, জিদনির শরীরের ৮২ শতাংশ দগ্ধ ছিল। একই ঘটনার কারণে দগ্ধ লামিয়া বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, সুমাইয়া আক্তার ও আছিয়া আক্তারের দগ্ধের পরিমাণ কম হওয়ায় তাদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে তাদের শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।
২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে ফতুল্লার হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদরাসার ছাদে ছাত্রীরা খেলাধুলা করছিল। হঠাৎ করে পাশের বৈদ্যুতিক লাইনে ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা ছাদে এসে আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার ফলে পাঁচ শিক্ষার্থী দগ্ধ হয় এবং তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্নের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন। তিনি জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর ফেনীতে প্রথম সফর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
বেলা ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর বেলা দুইটায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
বেলা তিনটায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি শেষে বিকেল পাঁচটায় তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত নয়টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ফেনীতে প্রস্তুতি কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। পরশুরামের মুহুরী নদী–সংলগ্ন ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থলের অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনী ফলকও ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জনসভায় অংশগ্রহণকারী মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন–ব্যবস্থার কাজ চলছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানিয়েছেন, সভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন যারা, তাদের বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে। যারা এই কার্ড পাবেন, তারাই কেবল ইয়েলো জোনে যেতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে যে এলাকা থাকবে, সেটি হোয়াইট জোন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই জোনে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় এসএসএফ, পিজিআর ছাড়াও সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নয় প্লাটুন বিজিবি, তিন হাজারের মতো পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, এসআরবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী প্রধানমন্ত্রীর নানার বাড়ি। এই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীর মানুষ প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। সরকারের তৎপরতার অংশ হিসেবে, এই মহাপরিকল্পনার মূল প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত তিস্তা-সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পূরণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করার পূর্বে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই উদ্যোগ অনুমোদন পেলে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। এটি মেগা প্রকল্পটির স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।
সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ২২৪ কিলোমিটার শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণ, নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার ও কৃষি-শিল্প কাজে ব্যবহারের পথ উন্মোচন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন মন্তব্য করেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা কেবল নদী রক্ষাই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর তৈরি সড়ক উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে। বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানে সরকারের এই বহুমুখী বাঁধ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ জানান, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে। বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে এ সমীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। এরপরেই এই প্রকল্পের কাজে গতি পেয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মতো প্রান্তিক জেলাগুলোর অর্থনীতি যুগ যুগ ধরে তিস্তা নদীর খেয়ালিপনার শিকার। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব এবং বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনে গৃহহীন হতো লাখো মানুষ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার উদ্ধারকৃত জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিএনপি সরকারের উদ্যোগে সূচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মত বিশেজ্ঞদের। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেল ফিউচার প্রাইস ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। খবরটি এসেছে রয়টার্সের মাধ্যমে।
একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছেছে।
বর্তমান সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ১০৬ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম চলতি মাসে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার জানাচ্ছে, গত ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণে বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। এই দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল সরবরাহ হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোর প্রাথমিক তথ্য যাচাই ও চূড়ান্ত হিসাবের পর তেল পরিবহনের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেপলারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ রপ্তানি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ