বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৯ পি.এম
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। সরকারের তৎপরতার অংশ হিসেবে, এই মহাপরিকল্পনার মূল প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত তিস্তা-সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পূরণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করার পূর্বে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই উদ্যোগ অনুমোদন পেলে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। এটি মেগা প্রকল্পটির স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।
সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ২২৪ কিলোমিটার শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণ, নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার ও কৃষি-শিল্প কাজে ব্যবহারের পথ উন্মোচন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন মন্তব্য করেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা কেবল নদী রক্ষাই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর তৈরি সড়ক উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে। বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানে সরকারের এই বহুমুখী বাঁধ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ জানান, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে। বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে এ সমীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। এরপরেই এই প্রকল্পের কাজে গতি পেয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মতো প্রান্তিক জেলাগুলোর অর্থনীতি যুগ যুগ ধরে তিস্তা নদীর খেয়ালিপনার শিকার। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব এবং বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনে গৃহহীন হতো লাখো মানুষ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার উদ্ধারকৃত জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিএনপি সরকারের উদ্যোগে সূচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মত বিশেজ্ঞদের। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেল ফিউচার প্রাইস ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। খবরটি এসেছে রয়টার্সের মাধ্যমে।
একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছেছে।
বর্তমান সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ১০৬ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম চলতি মাসে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার জানাচ্ছে, গত ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণে বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। এই দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল সরবরাহ হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোর প্রাথমিক তথ্য যাচাই ও চূড়ান্ত হিসাবের পর তেল পরিবহনের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেপলারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ রপ্তানি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কোনো জেলা বা উপজেলায় চাকরিপ্রার্থীরা জানেন না তাদের এলাকায় কোন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোও জানে না কোন এলাকায় দক্ষ কর্মী উপলব্ধ। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, প্রথমে কিছু নির্বাচিত জেলা ও উপজেলায় এই কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক (পাইলট) শুরু হবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে এটি দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। উদ্যোগটির বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুন নাহার জানান, কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আমরা পাইলট কার্যক্রম শুরু করব। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে পাইলট কার্যক্রমের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকাগুলোকে এর আওতায় আনা হবে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার তথ্য একটি সিস্টেমের মাধ্যমে একত্রিত করা। চাকরিপ্রার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের শূন্য পদ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবে।
এরপর প্রার্থীর যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে পদের প্রয়োজনীয়তা মিলিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করার ব্যবস্থা থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রয়োজন হলে, স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো চাকরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকে, তবে তাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে, কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীরা প্রথম ধাপে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শূন্য পদের তথ্য দেবে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোন দপ্তর এটি সমন্বয় করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এ উদ্যোগের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে লেবার ডিমান্ড সার্ভিস সার্ভে নিয়ে কাজ করছে। এতে বিভিন্ন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কী দক্ষতা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়তে পারে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, একজন চাকরিপ্রার্থী হয়তো কাজ খুঁজছেন, কিন্তু তার এলাকায় যে কাজটি রয়েছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তার নেই। আবার, তার যে দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, সেই কাজ হয়তো অন্য জেলায়। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই তথ্যের অমিল কমানোর চেষ্টা করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের জন্য সিলেটে একাধিক এআই ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী জানান, সিলেট থেকে এই কার্যক্রম শুরু করে ধাপে ধাপে বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতে এটি সম্প্রসারিত করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং এবং আন্তর্জাতিক আইটি খাতে কাজের জন্য প্রস্তুত করা হবে, পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে বিশেষ করে সিলেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিশাল সম্ভাবনা বিদ্যমান। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ মাসে ৫০০ থেকে ২ হাজার, ৪ হাজার অথবা ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। কিছু উচ্চ পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারের আয় আরও বেশি।
এই সম্ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মন্ত্রী বলেন, এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন একঝাঁক তরুণ-তরুণীকে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, যেখানে তারা নিজেদের উপার্জনে সক্ষম হবেন। ফ্রিল্যান্সিং এবং তথ্যপ্রযুক্তির কাজে তারা দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে সক্ষম হবেন এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আইটি-সংশ্লিষ্ট কাজ বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারবেন।
মন্ত্রী দেশের উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গবেষণায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। বিশ্বের যেসব দেশ টেকসইভাবে এগিয়েছে, তাদের মৌলিক বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের স্তরে পৌঁছানোর আগে বাংলাদেশকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিক বিনিয়োগ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকারের দুটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যায়ক্রমে এ দুই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রত্যেকটিতে জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে।
তবে তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এ পর্যায়ে পৌঁছানো সহজ নয় এবং এজন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।
সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ জনপদ— উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অঞ্চলটির অবস্থান প্রত্যাশিত নয়। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকার চিত্র রয়েছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, এ পিছিয়ে থাকার কারণ সিলেটের মানুষের মেধা বা সক্ষমতার ঘাটতি নয়।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, রাজনীতি, ব্যবসা ও নানা পেশায় উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে অঞ্চলটির শিক্ষাগত পিছিয়ে পড়ার কারণ খুঁজতে হলে অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও অন্যান্য কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকে নজর দিতে হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দেশ গঠনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্যও কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করবে। একইসঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া সিলেট বিভাগের তিন জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সফলভাবে সম্পন্ন করা কৃতি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কাওছার, দৈনিক ‘আগামীর সময়’ পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী ও ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহসভাপতি শাকেরা বখস।
অনুষ্ঠানে সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ধানের মিলের ঘরের জানালার সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।
নিহত ইমাম রেজার (১৮) বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার উলপুর পূর্বপাড়া গ্রামে মামা বাড়ির এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম জহিরুল মৃধা। ইমাম রেজা গোপালগঞ্জ শহরের একটি শাড়ির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনদের অভিযোগ, ইমামকে হত্যা করে পরিত্যক্ত ঘরের জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক শফিউল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ