ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলকাতায় মা-বাবার প্রতিবাদ সাত মাসের শিশুকে নিয়ে


কলকাতায় মা-বাবার প্রতিবাদ সাত মাসের শিশুকে নিয়ে

সর্বোচ্চ মাত্র সাত মাসের একটি শিশু। এ শিশু এখনো কথা বলতে শিখেছে না, হাঁটতেও শেখেনি। কিন্তু সেই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় মা ও বাবা উদ্বিগ্ন। সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের দাবিতে তাই এই সাত মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে কলকাতার রাজপথে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এক দম্পতি।

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ কেলেঙ্কারির কারণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা এবং দিল্লিতে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদের আগুন ছড়ায়।

এখন মিছিলে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ব্যারাকপুরের বাসিন্দা শ্রুতি বিশ্বাস ও সায়ক সরকার দম্পতি। কোলে রয়েছে দুধের শিশু, পিঠের ব্যাগে রয়েছে ফিডিং বোতল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তাদের হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ইভেন مাই সন ইজ মোর এডুকেটেড দেন দ্য গভর্নমেন্ট’ (এমনকি আমার ছেলে সরকারের চেয়ে বেশি শিক্ষিত)।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণ তুলে ধরে মা শ্রুতি বিশ্বাস বলেন, ‘যখন আমার সন্তান বড় হয়ে স্কুলে পড়বে, তখন তাকেও এই একই প্রশাসনিক ব্যবস্থা মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ইতোমধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। একজন অভিভাবক ও নারী হিসেবে আমার মনে হয়েছে প্রতিবাদ করা খুবই জরুরি। মূলত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমি রাজপথে নেমেছি।’

শুক্রবার কলকাতায় এই বিশাল মহামিছিলের ডাক দেয় এসএফআই, এআইডিএসও, ডিওয়াইএফআই, পিডিএসএফ ও এআইএসএ-সহ বামপন্থী আটটি ছাত্র ও যুব সংগঠন। মিছিলে সংহতি জানাতে অংশগ্রহণ করে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র সদস্যরা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ অভিভাবক। এর ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় এই আন্দোলনের তরঙ্গ ছিল অনেক বেশি।

সকাল থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে একত্রিত হতে থাকেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিকেলে সেখান থেকে বিশাল মিছিলটি শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমালোচনাও করা হয়।

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কলকাতা পুলিশের সাথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও রাজপথে মোতায়েন ছিল।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

অন্যদিকে, একই দিনে বিকেলে কলেজ স্কয়ার থেকেও আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ধর্মতলার দিকে চলে যায়। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একসঙ্গে চলতে থাকা আন্দোলনের কারণে কলকাতার যানবাহন চলাচল থমকে যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন তিন বস্তির মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন তিন বস্তির মানুষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হচ্ছে এই হাসপাতাল থেকে।

এছাড়া ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’- এই নীতির আওতায় হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে বস্তিবাসীদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার, আট তলায় দুটি পৃথক ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা) চালু করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান জানান, উদ্বোধনের পর গত আড়াই মাসে বহির্বিভাগে ৬১০ জন সেবা নিয়েছেন। ২৩ জন বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাতজনের অপারেশন করা হয়েছে। আরও তিনজনকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অপারেশন করা হবে।

গত ৫ মে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ বেড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই দিনে তিনি আইসিইউ ইউনিটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীর তিন বস্তির মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বস্তির নিম্নআয়ের মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বস্তিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এই মহতী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক ও বস্তির সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

তারা বলেছেন, এতদিন অর্থের অভাবে তারা বড় হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না, তারা এখন বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং ওষুধ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।

কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ছানির সমস্যার কারণে এক চোখের অপারেশন করাতে তার ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অপর চোখের অপারেশনের জন্য আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এবার এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো টাকা লাগছে না।

বিনামূল্যে এমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত আমেনা বেগম আরও বলেন, ভাগ্য ভালো বলেই আমরা এই বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছি। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বড় উপকার বয়ে এনেছে।

রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারের সময় বস্তিবাসীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার এখন বিনামূল্যে সকল চিকিৎসা পাচ্ছি কুর্মিটোলা হাসপাতালে।

তিনি বলেন, এই হাসপাতালে আমাদের অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হচ্ছে। আমাদের যে খাবারটা দেওয়া হচ্ছে, তা বেশ উন্নত।

হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিন বস্তির মানুষ ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও এখানে বিনামূল্যে পাচ্ছেন। সেবা নেওয়ার জন্য তাদের কেবল ১০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট কাটতে হয়, এরপর বাকি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বস্তির প্রকৃত রোগীদের সহজে শনাক্ত করার জন্য বস্তিগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। একটি সমিতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরাই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে আসার পর তাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টারসহ তাৎক্ষণিক সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক- এই তিন বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তিন বস্তির মানুষকে হাসপাতালে এসে শুধু ১০ টাকা দিয়ে একটা টিকিট কাটতে হয়। বাকি সব দায়িত্ব আমাদের।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও বিনামূল্যে পাচ্ছেন এসব বস্তির মানুষ। এখানে সবারই সমান এক্সেস রয়েছে। বস্তিতেই ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা আছে। একটা সমিতির মাধ্যমে ওনারাই রোগীদের আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। বস্তি থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে নিজস্ব কোনো লোক না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই দায়িত্ব নিয়ে তাদের সম্পূর্ণ সেবা প্রদান করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন বিভাগের হাতে নিঃস্ব হয়েছে কৃষক, ১২০০ ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


বন বিভাগের হাতে নিঃস্ব হয়েছে কৃষক, ১২০০ ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে

একটি পরিবার সোনালি কমলা এবং মাল্টা বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন আপাতভাবে দেখে আসছিল। আট বছরের শ্রম, পরিচর্যা, বিনিয়োগ এবং ঋণের চাপ পেরিয়ে যখন তারা ফলনের পালা গুনছিল, ঠিক তখনই বন বিভাগের করাত এসে বিধ্বস্ত করে তাদের স্বপ্নের বাগান।

অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদের নামে ১ হাজার ২০০টি কমলা ও মাল্টা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া একটি বাগান। বর্তমানে বাগানের গাছগুলো নেই, কেবল কাটা গাছের স্তূপ পড়ে আছে। পরিবারের মধ্যেই যে ভবিষ্যৎ অবস্থান করেছিল, তা যেন এক নিমিষেই ভেঙে পড়েছে।

এ ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায়। সম্প্রতি বন বিভাগের এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় আট বছর আগে সে পাহাড়ি এলাকায় কমলা ও মাল্টার চারা রোপণের কাজ শুরু করেন সালমা বেগম এবং তার স্বামী আলিম উল্লাহ। ধীরে ধীরে এটি বিশাল ফলের বাগানে রূপ নেয়। বছরের পর বছর শ্রম, পরিচর্যা এবং বিনিয়োগের পর তারা চলতি মৌসুমে প্রথম বড় পরিসরে ফলনের আশা করেছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মাত্র তিন মাস পর তারা বাগান থেকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারতেন। ইতোমধ্যে গাছগুলোর মধ্যে হাজার হাজার ফল ধরে ছিল, কিন্তু ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ২০০টি গাছ কেটে ফেলা হয়।

বাগানের মালিক আলিম উল্লাহ অভিযোগ করেন, বন বিভাগের লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বাগান ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই ২০১৮ সালে আমরা কমলা ও মাল্টার বাগান শুরু করি। আট বছর ধরে শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেছি। যখন ফলন এসেছে, তখনই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ার কারণে এমন সর্বনাশ করা হয়েছে।”

একই অভিযোগ করেন সালমা বেগম, যিনি দাবি করেন, আশপাশে আরও বাগান বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাদের বাগানটিই ধ্বংস করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মত, গাছ কাটার পাশাপাশি বাগানের সেচকাজে ব্যবহৃত মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে বন বিভাগ চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা বাগান উচ্ছেদের অংশ হিসেবেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া বলেন, “সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়।”

তবে এ ঘটনায় বহুল প্রশংসিত প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, তারা ২০১৮ সালে বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই বাগান গড়ে তুলেছিলেন। যদি বাগানটি অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে আট বছর ধরে সেটি কীভাবে টিকে থাকল? স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, একটি ফলজ গাছ ফলন দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। আট বছর পর যখন বাগানে ফলন আসছে, তখন কেন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো? আশপাশের অন্যান্য বাগানের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, এ নিয়েও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে আলিম উল্লাহর বাগানে কমলা ও মাল্টার গাছ কাটার ঘটনাটি প্রশাসনের নজর আকর্ষণ করে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পর্যন্ত পৌছায়। প্রকৃত ঘটনা তদন্তে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান, সদস্য সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আব্দুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহিনা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

গুরুত্বপূর্ণ, গত ১৬ জুলাই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগ সরকারি জমি উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে কৃষকের ১২০০ ফলধরা কমলা ও মাল্টা গাছ কেটে ফেলে।

এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বাগানটি কিভাবে গড়ে উঠেছিল, বন বিভাগের অনুমতির বিষয়টি কি ছিল, উচ্ছেদ অভিযান আইনসঙ্গত ছিল কিনা এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা, সব কিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।

একটি পরিবারের আট বছরের শ্রম, স্বপ্ন এবং বিনিয়োগ এখন কাটা গাছের স্তূপে পড়ে আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সৃষ্টি হচ্ছে। যদি বাগানটি অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে তা আট বছর ধরে কীভাবে টিকে থাকল? এবং ফলন আসার ঠিক আগমুহূর্তে কেন বন বিভাগের করাত নামানো হলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন খুঁজছেন ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং তদন্ত কমিটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের আলোচনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের আলোচনায়

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে উঠে এসেছে। রয়টার্স, বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ব্লুমবার্গ এর মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের ব্যাপারটি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই হচ্ছে, এবং তার শারীরিক অসুস্থতার কথা উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার(২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করা দেশের এই শীর্ষ সাংবিধানিক প্রধান এমন একটি সময় বিদায় নিচ্ছেন, যখন দেশে একটি রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত অলঙ্কারিক, তবে নির্বাহী ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তিটি প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণার পরপরই তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর পদত্যাগের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। বিবিসি বাংলার বরাতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকেও ছিল পদত্যাগের জোর দাবি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতার কথা বলা হলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকেই এই পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রাণহানির ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, যার ফলে রাষ্ট্রপতির অবস্থান বঙ্গভবনে আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

হংকংভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমের বরাতে জানায়, অসুস্থতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনটি গোপন সূত্রের বরাতে তারা দাবি করেছে, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেই রাষ্ট্রপতির ওপর সরকারের তরফ থেকে পদত্যাগের পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই পদত্যাগের ফলে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রের উচ্চপর্যায়ে তার শেষ সংবিধানসম্মত মিত্রকেও হারালেন।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৮ সালের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ৭৬ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির অসময়ে বিদায় বাংলাদেশে আরেকটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে সাহাবুদ্দিনই ছিলেন অন্যতম প্রধান সংবিধানসম্মত পথ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান উল্লেখ করে জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হয়ে যায়। বিদেশে চিকিৎসাধীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সংবিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, সেহেতু তাদের মনোনীত প্রার্থীই বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক সেবনের অভিযোগে যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


মাদক সেবনের অভিযোগে যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মাদক সেবনের অভিযোগে একটি যুবককে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সেই সাথে তাকে ৫০ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দীনের নেতৃত্বে পৌরসভার স্লুইসগেট এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম আব্দুল জিহাদ, বয়স ২১ বছর। তাকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইকড়ছই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে আব্দুল জিহাদের কাছ থেকে ২টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২০ গ্রাম গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

এ সময় জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিলসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দীন বলেন, "সামাজিক পরিবেশকে মাদক মুক্ত রাখতে আমাদের এ বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।"

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত যুবককে শনিবার সুনামগঞ্জের কারাগারে পাঠানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%