০৫:১২ পি.এম
ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ছয় জন প্রার্থী বৃহস্পতিবার একটি বিতর্কে অংশগ্রহণ করে, যেখানে তারা সংকটে থাকা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এ বিতর্কটি আয়োজিত হয়।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এখনও পর্যন্ত কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে যেতে পারেননি, যার কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন গতি দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশাল কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রশ্ন করে। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারে ব্লুমবার্গ সহযোগিতা করেছে।
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার জন্য যারা দৌড়ে আছেন তারা হলেন, চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল। গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিতর্কে প্রতিটি প্রার্থী তাদের মহাসচিব হওয়ার যোগ্যতা তুলে ধরেন। তারা বৈশ্বিক সংঘাতের এই কঠিন সময়ে সংকট মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের সক্ষমতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা এবং সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনের (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেন, ‘পাঁচ বছর পর আমি চাই না কেউ আমাকে আবার জিজ্ঞেস করুক,‘জাতিসংঘ কোথায়?’ সেটিই হবে আমার সাফল্যের মানদণ্ড। আমি এমন একটি জাতিসংঘ দেখতে চাই, যা আবার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং মাঠপর্যায়ে ফল নিশ্চিত করবে।’
সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি জাতিসংঘের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও মানবপ্রধান করার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ‘জাতিসংঘ শুনবে, পদক্ষেপ নেবে এবং মানুষকে একত্র করবে।’
গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটও প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি জাতিসংঘের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তিনি বলেন, ‘আমি এমন মহাসচিব হতে চাই, যিনি ইরান, হাইতি, সুদান অথবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র- যেখানেই সংকট হোক না কেন, উদ্যোগ নেব।’
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময়ে জাতিসংঘের আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষপাতি হন। তিনি জানান, যদি কোনো সদস্য রাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসন চালায়, তাহলে ‘এটি এতটাই গুরুতর বিষয় যে মহাসচিবের অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।’
গ্রোসি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে বৈধ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। এরপর হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করতে হবে।’
বর্তমানে জাতিসংঘ গভীর আর্থিক ও আস্থার সংকটের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ব্যয়, অবৈধ সম্প্রসারণ এবং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
যুক্তরাষ্ট্র চায়, জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্বে আরও গুরুত্ব প্রদান করুক। তবে অন্যান্য বহু দেশ মনে করে, জাতিসংঘের দুই অপর ভিত্তি- মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বেশিরভাগ প্রার্থীই জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার জন্য চলমান সংস্কার সবদিক থেকে অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন।
আগামী ৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য জাতিসংঘের মহাসচিব পদের প্রার্থীদের প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট গ্রহণ করবেন।
এরপরে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েক দফা একই ধরনের ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে হলে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া ভেটো ধারণ করে রাখতে পারবে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এএফপির সঙ্গে কথা বলা বিভিন্ন কূটনীতিক ফলাফল সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, অনেক দেশের রাজধানী এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান এএফপি’কে বলেন, ‘এখনও সবচেয়ে আলোচিত শীর্ষ প্রার্থী গ্রোসি। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে পারেননি। গ্রিনস্প্যান ও রড্রিগেজ-বিরকেটেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থক রয়েছে।’
জাতিসংঘের বিভিন্ন মহল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও কয়েকটি নামের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
সব সময় অনুসরণ না করলেও ভৌগোলিক রোটেশনের প্রচলিত রীতির কারণে, এবার লাতিন আমেরিকা এ পদটির দাবি জানিয়েছে। ম্যাকি সাল ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই এ অঞ্চল থেকে এসেছেন।
এছাড়া, অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন