০৫:১৬ পি.এম
ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কহার পেয়েছে। সুতরাং, এর ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
আজ শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শেষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেছে।
২৩ জুলাই ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ওয়াশিংটন সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায় পূর্বে আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে ফলো করা নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলো।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের সাথে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক স্তরে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশও এ তালিকায় থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি বাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলো চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক রাখা হয়েছে। এর ফলে এসব দেশের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০১ ধারার অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা লাভ করবেন। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধি, নীতিমালা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সরকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন