০৪:১৮ পি.এম
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের সুধাংশু বিশ্বাস হত্যা মামলায় রবিন বিশ্বাস নামের একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের জেলা দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় প্রদান করেন। আদালতের পি.পি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রবিন বিশ্বাস বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর লখনা গ্রামের রতিশ বিশ্বাসের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় রবিন বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি রবিনের মা চিনু রানী বিশ্বাসকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ জুন আসামি রবিন বিশ্বাসের বোন শিপ্ৰা রানী বিশ্বাস ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে চিনু রানী বিশ্বাস প্রায়ই প্রতিবেশী সুধাংশু বিশ্বাসকে অলক্ষী বলে অপবাদ দিতেন। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২৫ আগস্ট দুপুর ১২ টার সময় চিনু রানী বিশ্বাস এবং তার ছেলে আসামি রবিন বিশ্বাস সুধাংশু বিশ্বাসকে অলক্ষী বলে গালিগালাজ করেন। সুধাংশু বিশ্বাস প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ সময় একই গ্রামের মহেন্দ্র বিশ্বাস প্রকাশ মঙ্গল ও সজলা বিশ্বাসসহ স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সাক্ষী মহেন্দ্র বিশ্বাস সুধাংশু বিশ্বাসকে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় আসামি চিনু রানী বিশ্বাস তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি ছেলে আসামি রবিন বিশ্বাসের হাতে তুলে দিয়ে সুধাংশু বিশ্বাসকে খুন করার নির্দেশ দেন। তখন আসামি রবিন বিশ্বাস ওই লাঠি নিয়ে সুধাংশু বিশ্বাসের পিছু ধাওয়া করে সজলা বিশ্বাসের ঘরের সামনে পৌঁছে তার মাথার পিছনে আঘাত করেন। এতে সুধাংশু বিশ্বাসের মাথায় গুরুতর জখম হয়। গুরুতর আহত সুধাংশু বিশ্বাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এই ঘটনায় রবিন বিশ্বাস এবং তার মা চিনু রানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত শুনানী শেষে আসামি রবিন বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ডের অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিন বিশ্বাস পলাতক ছিলেন। মামলার অন্য আসামি রবিন বিশ্বাসের মা চিনু রানী বিশ্বাস দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তাকে খালাস প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন