বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৪ পি.এম
বলিউডের কাপুর পরিবারের সদস্য এবং অভিনেতা আদার জৈন ও আলেখা আদভানি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর, রাজকীয় আয়োজনের মাধ্যমে অবশেষে তারা নিজেদের বিয়ের আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমকালো আয়োজনে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে, তখন তাদের বিয়ের আইনি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। সম্প্রতি গণেশ চতুর্থীর দিনে, পারিবারিকভাবে তারা ম্যারেজ রেজিস্ট্রির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সেই বিশেষ মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন আদার ও আলেখা। ছবির সঙ্গে তারা মজার ক্যাপশনে উল্লেখ করেছেন, "ট্রায়াল পিরিয়ড শেষ। এবার আর ফেরত দেওয়া বা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।"
তারা আরও লেখেন, "অফিশিয়ালি মিস্টার অ্যান্ড মিসেস জৈন! অবশেষে আমার পছন্দের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটাকে আইনি রূপ দিলাম। আশীর্বাদ করার জন্য ধন্যবাদ গণপতি বাপ্পা।"
এই পোস্ট প্রকাশের পর, ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে যে, তাহলে কি এতদিন তারা আইনিভাবে বিবাহিত ছিলেন না? মূলত, ২০২৫ সালে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে হলেও, ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা তখন বাকি ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়াও তারা সম্পন্ন করেছেন।
আদার ও আলেখার নতুন পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কাপুর পরিবারের সদস্য ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনি, সাবা পতৌদি এবং অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরসহ অনেকেই।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে বসেছিল চাঁদের হাট। রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর, সাইফ আলি খান, কারিশমা কাপুরসহ কাপুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আম্বানি পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন সেই জমকালো আয়োজনে।
এর আগে, অভিনেত্রী তারা সুতারিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন আদার জৈন। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর, আলেখা আদভানির সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়ান। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ কাপুরের নাতি আদার ২০১৭ সালে ‘কয়েদি ব্যান্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। পরে তাকে ‘হ্যালো চার্লি’ সিনেমায় দেখা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করার মাধ্যমে তার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছে একটি প্রতারক চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও এমপির পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে তার পরিচয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা চাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে পেরে এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারকরা এমপির ব্যবহৃত অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরটি ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায়। সেখানে এমপির পরিচয় ব্যবহার করে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। তবে বার্তা পাওয়া কয়েকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে টাকা না দিয়ে সরাসরি এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা তাকে ঘটনাটি জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এমপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন এবং তার পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা না দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচিত কয়েকজন আমাকে ফোন করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানান। তখনই মোবাইল নম্বর ক্লোনের বিষয়টি জানতে পারি। ইতোমধ্যে সবাইকে সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। নম্বরটি হ্যাকারদের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডশনের উদ্যোগে উপজেলা মডেল মসজিদের হল রুমে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো: আশরাফুল আলম, যিনি মাষ্টার ট্রেইনার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মানিকগঞ্জ।
এছাড়া আলোচনা করেন মো: মাইনুদ্দিন, ফিল্ড সুপারভাইজার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কাজি মো: হাবিবুর রহমান, মডেল কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সাটুরিয়া।
মো: আল আমিন শিকদার, সাধারণ কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া।
মো: রফিকুল ইসলাম, সাধারণ কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া।
এবং মো: আমিনুল ইসলাম, সাধারণ কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া সহ ইসলামিক ফাউন্ডশনের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গজারিয়ায় পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ৭০ বছর বয়সী রহিমা বেগম মারধরের শিকার হয়েছেন তার ছেলের হাতে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে শয্যাশায়ী রহিমা বেগম ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বড় বসুর চর গ্রামে।
আহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, বড় বসুর চর গ্রামের মৃত জব্বার বেপারীর বড় ছেলে আবু আহম্মেদ এবং ছোট ছেলে ইয়াছিন বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বড় ছেলে আবু আহম্মেদ ছোট ভাইয়ের বসতঘরের তালা ভেঙে দখল করতে যায়। এ সময় মা রহিমা বেগম বাধা দিয়ে বলেন, "আমার ছোট ছেলে ঢাকায় আছে। তাছাড়া থানায় যে শালিস বৈঠক হয়েছে, সেই রায় তো তুই মানিস নাই।" মায়ের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ছেলে আবু আহম্মেদ বৃদ্ধা মাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ছোট ছেলে ইয়াছিন বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা চার ভাই। আমি সবার ছোট এবং আমিই মায়ের সমস্ত ভরণপোষণ দিয়ে আসছি, বাকি তিন ভাইয়ের কেউ মায়ের কোনো খোঁজ নেয় না। আমি কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকার সুযোগে বড় ভাই আমার ঘরের তালা ভেঙে দখল করতে আসে। মা বাধা দিলে তাকে মারধর করে।"
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রহিমা বেগম অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "নিজের পেটের সন্তান হয়ে জমি দখলের লোভে আমাকে এভাবে মারধর করবে তা ভাবিনি। সন্তান যখন পশু হয়, মায়ের বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছু থাকে না।" এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবু আহম্মেদর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম জানান, "এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে বাংলাদেশের সরকার নতুন চুক্তির দাবি জানাচ্ছে, যা দেশের স্বার্থ এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করবে। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রাপ্যতার ভিত্তিতে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়ার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশান-তেজগাঁও লিঙ্ক রোডের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘কল্লোলিনী: এ রিভার ডায়ালগ ২০২৬’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট অ্যান্ড এনার্জির আয়োজনে এই জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য ডেভেলপমেন্ট (এএফডি), নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, জিআইজেড এবং বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। রেড অরেঞ্জ লিমিটেড ও ডেল্টারেস এর সমন্বয় করেছে।
সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, শীত, শুকনা মৌসুম ও বর্ষায় কতটা পানির প্রয়োজন, তার হিসাব রয়েছে। সেই হিসাবের ভিত্তিতে চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রাপ্যতার ভিত্তিতে আমি যেন সঠিক সময়ে সঠিক পানিটা পাই, সেটা হল আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকলে এবং গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত না হলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এতে কৃষিকাজ ও মাছের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুফল থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির ঢল ও অতি প্লাবনের কারণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই নতুন চুক্তিতে উভয় মৌসুমের পানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
এ সময় নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নদীগুলোতে চাপ বাড়ছে। নদী দূষণের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নদ-নদী রক্ষায় সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন ৩ হাজার ৯০০ মিলিয়ন লিটার পানির বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতিবছর বাংলাদেশকে বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
তিস্তা ব্যারেজ নিয়েও কাজ চলছে
তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফিজিবিলিটি স্টাডি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে কারিগরি সহায়তাও রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সেই সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্টাডি দ্রুত সম্পন্ন করে তা দৃশ্যমান করার দিকে সরকার নজর দিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই প্রজেক্টটা এখন পর্যন্ত জিওজিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হবে, নাকি জিওজি পর্যায়ে হবে, তা ফিজিবিলিটি স্টাডির পরবর্তী পদক্ষেপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
জাতীয় সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যেও নদী রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। পরিবর্তন ও প্রাণের কারণে নদীর ওপর অনেক চাপ পড়ছে। দেশের নদ-নদী রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
নদীদূষণ রোধসহ নদী রক্ষায় কার্যকর নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত রাখা সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
বাংলাদেশের নদ-নদীর ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে শহরের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা ও সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে এবারের জাতীয় সংলাপের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নদীকে জানি, সিদ্ধান্ত নিই একসঙ্গে’।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, নদীনির্ভর জনগোষ্ঠী ও তরুণদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নদী ব্যবস্থাপনা ও আইনি সুরক্ষা, বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ ও জবাবদিহি, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, এই চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘কোথায় আছি, কোথায় যেতে চাই’ শীর্ষক উদ্বোধনী অধিবেশনে ‘BURIGANGA: Forgotten River Mother’ চলচ্চিত্রের ট্রেলার প্রদর্শন করা হয়। নদী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং রেড অরেঞ্জের সিনিয়র উপদেষ্টা মালিক ফিদা এ. খান সংলাপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
রেড অরেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন এএফডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সিনথিয়া মেলা, বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের হেড অব ডেভেলপমেন্ট ড. মিশাল ক্রেইজা, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং, দৃকের পরিচালক তাপস পাল এবং রিভারাইন পিপলের প্রতিনিধি মাহবুবা রহমান।
পরে ‘বিনিয়োগ থেকে প্রভাব: নদীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা ও উদ্যোগকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
নীতিগত আলোচনার পাশাপাশি সংলাপে নদী নিয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজনও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী আবির আবদুল্লাহর নদীবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দৃক গ্যালারি ও শূন্য আর্ট স্পেসের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, পোস্টার উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল। এ ছাড়া ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর পরিবেশনায় বিষয়ভিত্তিক নাটকের আয়োজনও রয়েছে।
দিনব্যাপী আয়োজনের বিকেলে সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ