০৩:৫৩ পি.এম
ইরানের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশ স্পেনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ন্যাটোর অন্যান্য অংশীদারদেরও স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
এই দিন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তিনি তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সম্মেলনে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর মধ্যে ‘ভয়ানক এক অংশীদার’ হলো স্পেন। তারা ন্যাটোর জিডিপির ৫% নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রায় রাজি হয়নি। এর পাশাপাশি, ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় দেশটির সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্ব। ট্রাম্প বলেন, স্পেন কোনো কিছুতেই সম্মতি দেয় না এবং আমাদের তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।
এ সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আমি স্পেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না, ঠিক আছে? এটা অবিলম্বে করুন, তাদের সঙ্গে কোনো কথাবার্তাও বলবেন না। তারা অযোগ্য এবং খারাপ লোক। আমি তাদের সঙ্গে কোনো ব্যবসা করতে চাই না।
স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরোন বিমান ঘাঁটি। এপ্রিল মাসে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে সেইসব ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার বিভিন্ন বিকল্পের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস যে তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে জোট থেকে স্পেনকে স্থগিত করার বিষয়টিও রয়েছে।
গত মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি স্পেন। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য যেন আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প স্বাভাবিকভাবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
শীর্ষ সম্মেলনে এ সময় ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে।’
এর আগে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সম্প্রতি এক দফার হামলায় ইরানের ৮০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিশানা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ইতিমধ্যে মার্কিন এ হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সব মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে; নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন