মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১০ পি.এম
গাজার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে যে পরিবেশগত প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে, তা এখন ইসরাইলের জনস্বাস্থ্যের ওপরও আঘাত হানতে শুরু করেছে। গাজার অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন, দূষিত ধ্বংসস্তূপ এবং বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য ভূমধ্যসাগর, উপকূলীয় পরিবেশ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তার প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরাইলেও পৌঁছাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতিনিধিরা ইসরাইল ও গাজাকে প্রভাবিত করা পয়োনিষ্কাশন ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কর্মগোষ্ঠী গঠনে সম্মত হয়েছেন। তবে, ওই কমিটিতে কারা থাকবেন এবং কীভাবে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
গাজার বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হওয়ায় প্রতিদিন এক লাখ ঘনমিটারেরও বেশি অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি ভূমধ্যসাগর কিংবা স্থলভাগে ছড়িয়ে পড়ছে। ওই অঞ্চলের সমুদ্রস্রোত সাধারণত দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে প্রবাহিত হওয়ায়, এসব বর্জ্য উপকূল ধরে ইসরাইলের জলসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।
দূষিত পানির কারণে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের আশকেলন লবণমুক্তকরণ বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট একাধিকবার বন্ধ করতে হয়েছে। গাজার বর্জ্যপানিতে উচ্চমাত্রার মলজাতীয় ব্যাকটেরিয়া দূষণের কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সমুদ্রে বিষাক্ত শৈবালের বিস্তার ঘটাতে পারে। এসব শৈবাল পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থার ফিল্টার আটকে দেওয়ার পাশাপাশি মাছ ধরার এলাকাগুলোতে ‘ডেড জোন’ তৈরি করতে পারে।
পয়োবর্জ্যের বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং রোগজীবাণু সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে জমা হতে পারে। মাছ এক জলসীমা থেকে অন্য জলসীমায় চলাচল করার ফলে, দূষিত সামুদ্রিক খাবার ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি—উভয় পক্ষের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত পয়োবর্জ্যে থাকা রোগজীবাণু সামুদ্রিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি, উত্তরমুখী স্রোতের কারণে ইসরাইলের উপকূলীয় শহরগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ভূগর্ভস্থ পানিতেও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
গাজার ভূগর্ভস্থ পানির দূষণও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগজীবাণু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ পানিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে, এমন দূষিত পানি সরাসরি ইসরাইলের পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢোকার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, লবণ ও বিভিন্ন রাসায়নিক দূষক আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে, দুই পক্ষের ব্যবহৃত অভিন্ন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বা অ্যাকুইফার দীর্ঘমেয়াদে দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সেচ, কৃষিকাজ এবং পানীয় জলের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির মান ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যেতে পারে।
গাজার ধ্বংসস্তূপও ইসরাইল ও পশ্চিম তীরে যাচ্ছে। গাজায় আনুমানিক ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। সম্প্রতি এর একটি অংশ ইসরাইল ও পশ্চিম তীরের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে, ধ্বংসস্তূপে থাকা দূষক সরাসরি এসব এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরো-মেড মনিটরের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ইসরাইলি ট্রাক গাজা থেকে ধ্বংসাবশেষ নিয়ে বের হয়েছে। এই বর্জ্যের মধ্যে সীসা, পারদ এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু থাকতে পারে। বিশেষ ধরনের অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ, সাদা ফসফরাসের কণা, অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক, শিল্পকারখানার রাসায়নিক এবং পুরোনো ভবন ধ্বংসের ফলে বিপুল পরিমাণ অ্যাসবেস্টস ফাইবারও থাকতে পারে।
ভারী ধাতু এবং এসব রাসায়নিক মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, কিডনির সমস্যা এবং পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থ জমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ধ্বংসস্তূপে পচনশীল মানবদেহের অবশিষ্টাংশ, জৈব বর্জ্য, রোগজীবাণু, পোকামাকড় ও ইঁদুরও থাকতে পারে। বাতাসে বিষাক্ত ধুলা, অ্যাসবেস্টস এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে পড়লে বায়ুর মান খারাপ হবে। পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরণের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
পরিবেশগত নিয়ম মানার আহ্বান
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দূষিত দুর্যোগ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা বিধি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেলে কার্যক্রম তাৎক্ষণিক বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা এসব প্রটোকলের অংশ।
ধ্বংসস্তূপ সীমান্ত বা প্রশাসনিক এলাকা পার করে অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর আইন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সমালোচকেরা বলছেন, গণকবর থাকতে পারে এমন স্থানে বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো যুদ্ধাপরাধের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে যথাযথ পরিবেশগত বিধি না মেনে এসব বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া সংগ্রহ ও ফেলার স্থানগুলোর আশপাশে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, গাজা ও ইসরাইলের পরিবেশগত বাস্তবতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে, গাজার মানবিক ও পয়োনিষ্কাশন সংকট শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের জনস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
১৯৯০ সালে জেরুজালেমের সাবেক মেয়র টেডি কোলেকও স্বীকার করেছিলেন যে, পূর্ব জেরুজালেমের আরব অধ্যুষিত এলাকায় অবহেলার কারণে কলেরা ছড়িয়ে পশ্চিম জেরুজালেমে পৌঁছানোর আশঙ্কায় তার প্রশাসন অন্তত মৌলিক পানি ও পয়োনিষ্কাশন লাইন সম্প্রসারণ করেছিল।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু একটি যুদ্ধ বা মানবিক সংকটের বিষয় নয়; এটি একটি আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সংকটও। মানবাধিকারগত দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন ছাড়াও, পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ম মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ইসরাইলি জনগণকেও ভোগ করতে হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজার ৮০০টিরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এই তথ্য মেহের নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে তিনি খাতাম আল-আনবিয়া এয়ার ডিফেন্স বেসের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সাদেঘিয়ান বলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান চারটি দায়িত্ব হলো আকাশপথে আসা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, নজরদারি চালানো, বাধা প্রদান এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করা। তার মতে, আকাশ প্রতিরক্ষার মূল কাজ হলো ইরানের আকাশসীমা এবং এর বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তুকে শনাক্ত করা। এরপর সেগুলোর পরিচয় নির্ধারণ করা হয় এবং প্রয়োজন হলে যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষের বিমানকে তাদের মিশন সম্পন্ন করতে বাধা দেওয়া এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করা।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির পাশাপাশি শান্তিকালেও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে সাদেঘিয়ান বলেন, ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশকারী সব যাত্রীবাহী বিমান, বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী উড়োজাহাজ এবং উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমান আকাশ প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় ও অনুমতির আওতায় পরিচালিত হয়।
তিনি আরও জানান, মরুভূমি, উপকূল, দ্বীপাঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
সাদেঘিয়ান বলেন, উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত নজরদারি ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমা ও এর বাইরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইউরেশীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক শুরু হয়েছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের আয়োজক কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ইয়ন্তিমাক অর্দো কমপ্লেক্সে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত জানান। এরপর নেতারা ঐতিহ্যবাহী দলীয় ছবিতে অংশগ্রহণ করেন।
জাপারভ উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এ বছর এসসিও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে—‘টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে’ বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠন বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি প্রভাবশালী বৈশ্বিক জোটে পরিণত হয়েছে।
জাপারভের বক্তব্য অনুযায়ী, এসসিওর সদস্য দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
কিরগিজস্তানের এসসিও সভাপতিত্বের মূল দর্শন হিসেবে জাপারভ উল্লেখ করেন, ‘ঐক্যই সমৃদ্ধির ভিত্তি’—যা তার মতে ‘সাংহাই স্পিরিট’-এর মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এসসিওর উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু করবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের কাউন্সিলের বৈঠক উদ্বোধন করেন।
এরপর নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। সম্মেলনের শেষে সংগঠনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘বিশকেক ঘোষণা’ সই করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ
তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান
উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়য়েভ।
রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক শেষে ‘এসসিও প্লাস’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তুরস্ক এসসিওর পূর্ণ সদস্য নয়, তবে ২০১২ সাল থেকে দেশটি সংগঠনটির ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন, যিনি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। ফাইনালে পরাজয়ের কয়েক সপ্তাহ পরেই সাবেক বার্সেলোনা তারকা এই অবসরের ঘোষণা দেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মেসি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি আর কখনো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়াবেন না।
এটি তার প্রথম অবসর নয়; এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনাকে বিদায় জানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে আর্জেন্টিনা পরাজিত হওয়ার পর মেসি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কথা জানান, যা গোটা ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করে। সেই সময় তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন।
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে টাইব্রেকারে শট মিস করার পর মেসি জাতীয় দলের হয়ে আর কখনো না খেলার সিদ্ধান্ত নেন। টানা ফাইনালে পরাজয়ের দুঃখে ভেঙে পড়ার কারণে তার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকে চরম ধাক্কা দিয়েছিল, বিশেষ করে তার বয়স মাত্র ২৯ বছর হওয়ায়।
রোনালদো তখন মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, "মেসি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মানুষের তা বোঝা উচিত।" তিনি আরও বলেন, "সে হার বা হতাশা দেখতে অভ্যস্ত নয়, রানার্সআপ হওয়া তো দূরের কথা। একটি পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না। মেসিকে কাঁদতে দেখাটা কষ্টদায়ক এবং আমি আশা করি সে তার জাতীয় দলে ফিরে যাবে, কারণ তার এটি প্রয়োজন।"
পরে মেসি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অবসর ভেঙে জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি গায়ে এই ক্ষুদে জাদুকর তার প্রত্যাবর্তন ঘটান এবং দেশের হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জেতেন।
যদিও এবারের ঘোষণার পর মেসির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম, তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ‘চ্যাট লক’ নামে একটি নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট চ্যাটগুলোকে সাধারণ ইনবক্স থেকে সরিয়ে একটি আলাদা সুরক্ষিত ফোল্ডারে রাখতে পারেন। ফলে অন্য কেউ ফোনটি ব্যবহার করলেও সেই কথোপকথন সহজে দেখতে পারবে না।
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান হয়ে থাকে। এই কারণে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চ্যাট লক সুবিধাটি চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি। লক করা চ্যাটে প্রবেশ করতে ফোনের পাসকোড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি অথবা ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সিক্রেট কোড প্রয়োজন হয়।
চ্যাট লক সক্ষম করতে প্রথমে যে ব্যক্তির কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে চান, সেই চ্যাটটি খুলতে হবে। এরপর চ্যাটের সেটিংস বা অপশন মেনু থেকে ‘চ্যাট লক’ নির্বাচন করলে কথোপকথনটি ‘লকড চ্যাটস’ ফোল্ডারে স্থানান্তরিত হবে। একবার লক করা হলে সেটি আর সাধারণ চ্যাট তালিকায় দেখা যাবে না। প্রয়োজন হলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে পরে আনলকও করা যাবে।
এই ফিচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লক করা চ্যাটে নতুন বার্তা এলে নোটিফিকেশনে সাধারণত বার্তার বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শিত হয় না। এর ফলে ফোনের স্ক্রিনে অন্য কারও সামনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘সিক্রেট কোড’ ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। এই সুবিধা অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন—দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যায়। সিক্রেট কোড ব্যবহার করে শুধু চ্যাট নয়, ‘লকড চ্যাটস’ ফোল্ডারটিকেও আড়ালে রাখা সম্ভব। এতে অন্য কেউ সহজে বুঝতে পারবে না যে ফোনে কোনো লুকানো চ্যাট রয়েছে।
সিক্রেট কোড দিয়ে লুকানো চ্যাট দেখতে হলে হোয়াটসঅ্যাপের সার্চ বক্সে নির্ধারিত কোড লিখতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করলে লক করা চ্যাটগুলো দেখা যাবে।
তবে চ্যাট লক করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল আসা বন্ধ হয় না। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবেই কল গ্রহণ করতে পারবেন। এই ফিচারটি মূলত কথোপকথনকে সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার (রিস্টোর) করলে পূর্বে লক করা চ্যাটগুলো সাধারণত লক অবস্থাতেই থাকে। ফলে ডিভাইস পরিবর্তনের পরও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাট লকের পাশাপাশি শক্তিশালী স্ক্রিন লক, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা এবং হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সুরক্ষা সুবিধা ব্যবহার করলে গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ