ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদ


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দ দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও ভাঙা সড়কে পানি জমে রয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেক জায়গায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পথচারী এবং যানবাহনচালকেরা।

প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আগে বিভিন্ন সড়কে সাময়িক সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান দিতে পারছে না, এমন অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সংযোগ সড়কের অবস্থাও নাজুক। প্রায় ২০টি স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থাও একই রকম। জিরো পয়েন্ট থেকে ২ নম্বর গেট এবং সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় থেকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনের সড়কে একটি বড় ভাঙা অংশ রয়েছে, যেখানে প্রায় সব সময় পানি জমে থাকে। সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়েই নিয়মিত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজ বলেন, "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হলো ২ নম্বর গেট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল পর্যন্ত রাস্তাটি। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল ও বেশ কয়েকটি আবাসিক হল রয়েছে। এ ছাড়া ২ নম্বর গেটের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ রাস্তা দিয়ে ক্লাসে যাতায়াত করেন।"

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি আরও বলেন, "ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এখানে প্রায় সব সময় পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হোক বা না হোক, সড়কে পানি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের সড়কগুলো যেন দ্রুত মেরামত করা হয়।"

অটোরিকশাচালক সুমন বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে আমাদের যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাস্তার ভাঙা অংশ ও গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত রাস্তাটি ঠিক করে দিক।"

১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক নিয়েও চালকদের একই অভিযোগ রয়েছে। এ সড়কে চলাচলকারী এক সিএনজিচালক বলেন, "রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিমুহূর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে আমাদের গাড়ি চালাতে হয়। আমাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি মেরামত করা হোক।"

এদিকে, সড়কগুলোর দুরবস্থার বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান আরটিভি নিউজকে বলেন, "জিরো পয়েন্ট থেকে ২ নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কের কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। আমরা বর্ষাকাল চলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। বর্ষা শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।"

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

তিনি আরও জানান, "প্রথমে চলাচলের উপযোগী করার জন্য রাস্তা মেরামত করা হবে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি রাস্তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করছি, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এসব রাস্তার মেরামতকাজ শুরু হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব পর্যটন দিবসে বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


বিশ্ব পর্যটন দিবসে বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ

বিশ্ব পর্যটন দিবসের উপলক্ষে বান্দরবানের চারটি পর্যটনকেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের একটি বিজ্ঞপ্তিতে, যা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সজীব কান্তি রুদ্র দ্বারা স্বাক্ষরিত, জানানো হয়েছে যে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, বান্দরবান পার্বত্য জেলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর হবে।

এই সুবিধার আওতায় বান্দরবানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো, যেমন নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক এবং চিম্বুক-এ পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি নেওয়া হবে না।

প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি পর্যটনের গুরুত্ব, স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের ভূমিকা এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে পালিত হয়।

বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশের এই উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতও উপকৃত হবে বলে মনে করছেন বান্দরবান হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ দিনে ভর্তি ১০৪ ডেঙ্গু রোগী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ দিনে ভর্তি ১০৪ ডেঙ্গু রোগী

খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৬ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। রোগীর চাপ সামলাতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা ৫টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হলেও, তাতেও সংকুলান হচ্ছে না। কিছু রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ৬ জন, জুনে ৪ জন, জুলাইয়ে ১৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরের ২৬ দিনেই ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৪ জনে।

হাসপাতাল সূত্র জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাত্র পাঁচটি শয্যা নির্ধারিত ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় আরও ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৫টি শয্যা রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় এসব শয্যায় জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অন্যান্য রোগীসহ প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শাকিলা আফরোজ বলেন, "বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। পাশের উপজেলা থেকেও অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে তাঁদের কষ্ট হচ্ছে।"

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ ময়না জানান, "প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, "চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।"

এদিকে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, "চলতি মৌসুমের শুরু থেকে মশক নিধনে তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন ড্রেন, নালা ও মশার প্রজননস্থল অপরিষ্কার থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।"

রমেশ মন্ডল নামের আরেক বাসিন্দা মন্তব্য করেন, "শুধু ওষুধ ছিটালে হবে না। ড্রেন-নালা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো দরকার।"

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মশক নিধনে কার্যক্রম চলছে। পৌরসভার সচিব লালু সরদার বলেন, "স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌরসভার অর্থায়নে গত ৩০ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। নিয়মিত ড্রেনও পরিষ্কার করা হচ্ছে।"

পাইকগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, "ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদেরও সচেতন করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বিড়াল বিক্রিতে গতি, পোষা প্রাণীর বাজার চাঙ্গা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে বিড়াল বিক্রিতে গতি, পোষা প্রাণীর বাজার চাঙ্গা

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে। তবে পোষা প্রাণী বিড়ালের বাজারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন একটি চিত্র। বিড়ালের খাবার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্যে ভোক্তাদের খরচ ক্রমাগত বাড়ছে এবং বিড়াল বিক্রিতে এসেছে গতি। কিন্তু কুকুরের পণ্য বিক্রির হার কমে গেছে। এসব তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পেট প্রডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন। খবরটি সিএনবিসি থেকে জানা গেছে।

জেনারেল মিলস, চিউই এবং পেটকো হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান তাদের সাম্প্রতিক আয়ের প্রতিবেদনে বিড়ালের পণ্যের বাজারকে ব্যবসার একটি শক্তিশালী দিক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পেট প্রডাক্টস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিড়াল পালনের হার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ পরিবারে বিড়াল পোষ্য হিসেবে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিড়াল পালনের হার ২৩ শতাংশ বেড়েছিল।

পোষা প্রাণী খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কুকুরের তুলনায় বিড়াল পালনের খরচ এবং যত্ন নেওয়া সহজ। তাছাড়া, অ্যাপার্টমেন্টের মতো ছোট জায়গায়ও বিড়াল রাখা সম্ভব। এসব কারণে বিড়াল পালনে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে।

জেনারেল মিলস সম্প্রতি জানিয়েছে, কোম্পানির বিড়ালের খাবার বিক্রি বেড়েছে। এর মধ্যে টিকি ক্যাট ব্র্যান্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে কুকুরের খাবার বিক্রির হার কমেছে।

অন্যান্য পোষা প্রাণী সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতারাও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করছে। চিউইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমিত সিং বলেছেন, কুকুরের পণ্যের বিক্রি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও বিড়ালের পণ্যের বাজারে বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পেটকোও দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিড়ালের পণ্যে শক্তিশালী বিক্রির তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সময়ে বিড়ালের খাবার, সাপ্লিমেন্ট, বিছানা এবং আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্যে বিক্রি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা, ক্রেতা ধরতে সুপারশপগুলোতে ডিসকাউন্টের হিড়িক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা, ক্রেতা ধরতে সুপারশপগুলোতে ডিসকাউন্টের হিড়িক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির আবারও বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং অন্যান্য কারণে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই দেশের বড় খুচরা বিক্রেতারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের উদ্বেগ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় প্রদান শুরু করেছে। হ্যালোউইন এবং উৎসবের মৌসুমের প্রেক্ষাপটে বাজারে মূল্যছাড় দেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

ডিসকাউন্ট চেইন আলডি গত বুধবার জানিয়েছে, কোম্পানিটি আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাজা খাবারের বিভিন্ন পণ্যে প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমপরিমাণের মূল্যছাড় দেবে। এছাড়া, আলডির দোকানে থাকা মোট পণ্যের এক-তৃতীয়াংশের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ সুপারশপ চেইন ক্রোগার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহকারী কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ মূল্যের কারণে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ক্রোগার সম্প্রতি কিছু দোকান থেকে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড রেড বুল ও বোয়ার্স হেডের পণ্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ক্রোগার জানিয়েছে, বাড়তি দামে পণ্য কিনে গ্রাহকদের ওপর বোঝার ভার না চাপানোর জন্য তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন মুদিপণ্য কেনাকাটায় দাম কমানোর প্রতিযোগিতাও দেখা যাচ্ছে। নিত্যপণ্য সরবরাহের প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাকার্ট গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় গ্রোসারি চেইন ‘নো মার্কআপ’ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। এর মানে হলো, একজন গ্রাহক দোকানে গিয়ে সরাসরি যে দামে পণ্য কিনতে পারেন, অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করলেও তাকে ঠিক একই দামে বা অফারে পণ্য দেয়া হবে। অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো দাম রাখা হবে না।

ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস রজার্স জানিয়েছেন, ক্রেতারা এখন সেসব অনলাইনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন যেখানে বাড়তি দাম নেই। "এছাড়া, অনলাইনে একই দামে পণ্য বিক্রি করা রিটেইলারদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়তি দাম নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।"

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় জায়ান্ট কস্টকো প্রতিটি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে দাম কমানোর হিসাব তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আখরোট, কফি ও কালো গোলমরিচের মতো দৈনন্দিন পণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাম কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কস্টকোর সিইও রন ভ্যাচরিস বলেছেন, ‘পণ্যের উৎস পর্যায়ে কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে, কীভাবে পণ্যের দাম যতদূর সম্ভব নিচে নামিয়ে রাখা যায়। নতুন নতুন উপায়ে দাম কমানোটাই আমাদের মূল কাজ।’

দাম কমানোর এ প্রবণতা নতুন নয়। খুচরা বাজারের সবচেয়ে বড় নাম ওয়ালমার্ট চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫০টি পণ্যে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এটি ছিল বড় পরিসরে দাম কমানোর পরিকল্পনার একটি ছোট অংশ মাত্র। ওয়ালমার্ট চলতি বছরজুড়ে প্রায় ১১ হাজারের বেশি পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছে।

সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের খুচরা বাণিজ্য সম্মেলনে ওয়ালমার্ট ইউএসের সিইও গুগিনা বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে পণ্যের সাময়িক মূল্যছাড়কে স্থায়ীভাবে কম দামে রূপান্তর করা, যাতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে পারেন।’

অতীতের অর্থনৈতিক মন্দাগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাজারে আর্থিক চাপ তৈরি হলে ওয়ালমার্ট, কস্টকো ও অলডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার হিস্যা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। কম খরচে কেনাকাটার সুযোগ খোঁজার জন্য নতুন ক্রেতারা শুরুতে বাধ্য হয়ে এসব সুপারশপে আসেন। পরে পণ্যের সঠিক দাম ও মানের কারণে তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হন।

বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্লেসার ডটএআইয়ের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মুদি বিক্রেতাদের মধ্যে আলডির দোকানে ক্রেতাদের যাতায়াত সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। কম দামে পণ্য দেয়ার কৌশলই এর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ক্রেতাদের আকর্ষণ করাই শেষ লক্ষ্য নয়। কম দামের কারণে নতুন ক্রেতারা দোকানে এলেও তাদের নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত করার চেষ্টা করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক বছরগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির এ সমস্যা হুট করে একদিনে সমাধান করার মতো কোনো জাদুকরী উপায় বা ম্যাজিক বুলেট কারো কাছে নেই। তবে সংকটময় সময়ে সুপারশপগুলোর এভাবে আগাম দাম কমানো ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা সাধারণ মানুষের ওপর থেকে মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ কিছুটা হলেও লাঘব করতে সাহায্য করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%