ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্তমান সরকারকে ১৩০০ প্রকল্পের বিশাল আর্থিক দায় বহন করতে হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী


বর্তমান সরকারকে ১৩০০ প্রকল্পের বিশাল আর্থিক দায় বহন করতে হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকারকে বিপুল পরিমাণ অপরিকল্পিত ঋণ এবং প্রায় ১,৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিশাল আর্থিক দায়ভার বহন করতে হচ্ছে। এটি তিনি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই অধিবেশনে সংসদ সদস্য জনাব রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকায় পৌঁছেছে। জনগণের ওপর থেকে এই ঋণের চাপ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনা। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের নতুন ঋণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অহেতুক ব্যয় সাশ্রয়ী করতে অগ্রাধিকারবহির্ভূত প্রকল্পগুলো বন্ধ বা স্থগিত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারকে সুসংহত করার জন্য এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজার কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ ঠেকাতে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এর সুদের হারকে বাজারভিত্তিক করার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে। এছাড়া হঠাৎ অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত অর্থায়ন এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ এবং নগদ প্রবাহের নিখুঁত হিসাব রাখতে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের অর্থনৈতিক দূরভিসন্ধি ও প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ সদস্য রানু তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, বর্তমান ঋণের ৭৮ শতাংশই বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে নেওয়া হয়েছে, যা সাড়ে ১৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি এবং এর বড় অংশই পাচার করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জবাবে বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অপচয়মূলক ঋণের খেসারত ও বিশাল দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। স্বল্প সময়ে নেওয়া এসব ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতি চরম চাপের মুখে পড়েছে এবং সরকারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

বিনিয়োগের মূলনীতি সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেকোনো টেকসই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত দিক- এই চারটি নীতি অনুসরণ করা আবশ্যক। তবে বিগত সরকারের আমলে অধিকাংশ প্রজেক্টেই এর কোনোটিই তোয়াক্কা করা হয়নি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আমাদের ওপর প্রায় ১৩০০টি প্রকল্পের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি প্রজেক্টের আলাদা ইভ্যালুয়েশন করছি। ইতোমধ্যেই বহু অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে, যেগুলো সমাপ্তির কাছাকাছি, সেগুলো শেষ করা ছাড়া উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ভিশন ও দিকনির্দেশনায় আমরা সব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনব।

বিদেশফেরত কর্মী ও প্রবাসীদের দেশের বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দুই পর্যায়ে মোট ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন ঋণ দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, প্রবাসীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্মানজনক পুনর্বাসনে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে দুই দফায় ১,০০০ কোটি টাকা করে মোট ২,০০০ কোটি টাকার এই বিশেষ তহবিল ১০ বছর মেয়াদে মাত্র ৪ শতাংশ ব্যাংক রেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাহক বা সুবিধাভোগী পর্যায়ে এ ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ।

এই ঋণের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীরা এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, সেবা ও বাণিজ্যসহ নানা উৎপাদনশীল খাতে এই অর্থের বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

তিনি আরও বলেন, ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাক-অর্থায়ন কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৪২ হাজার ৭৬২ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪২ হাজার ৩০৩ জন সুবিধাভোগী প্রত্যক্ষভাবে ঋণ গ্রহণ করেছেন। প্রথম পর্যায়ের সফল বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় ধাপের বিতরণ কাজও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ টাকায় প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বেল্লাল প্যাদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


২০ টাকায় প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বেল্লাল প্যাদা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বেল্লাল প্যাদা (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশাল বন্দর থানার এসআই রুনু সরদার তাকে আটক করেন। এই ঘটনার পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেল্লাল প্যাদাকে একমাত্র আসামি করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া বেল্লাল প্যাদা রানিরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েটি নদীর ঘাটে গোসল করতে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এসে গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি অভিযোগ করে, গোসলের সময় বেল্লাল প্যাদা তাকে ফুঁসলিয়ে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে গোসল করিয়ে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য নেয় এবং কথিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি বন্দর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে এসআই রুনু সরদার অভিযান চালিয়ে বেল্লাল প্যাদাকে আটক করেন। এদিকে, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে বেল্লাল প্যাদার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও বেল্লালের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে হলতা বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে তার মাথার চুল কামিয়ে জুতার মালা পড়িয়ে বাজারে ঘোরানো হয়েছিল। এছাড়া নারীদেরকে কু-দৃষ্টিতে দেখা, ধর্ষণচেষ্টা এবং এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগের কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। তবে এসব পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক মামলা বা আদালতের নথি পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারীদের প্রতি অসদাচরণ ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বারবার আলোচনায় আসা বেল্লাল এবার একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতেই পারে না। এমন একটি শিশুকে যদি কেউ ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে থাকে, তাহলে তার কোনোভাবেই ছাড় পাওয়া উচিত নয়।" তাদের দাবি, বেল্লালের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগের কথা শুনেছি। এবার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতের মাধ্যমে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুক। ভবিষ্যতে যেন কোনো অপরাধী এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাঈল হোসেন বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বেল্লাল প্যাদা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধের জন্য সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নির্ধারণের সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন করার তাগিদ দেন।

পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় আসে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠে এর প্রতিফলন থাকতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যবিপ্রবির ২৩ শিক্ষক ফেরেননি, বকেয়া ৩ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যবিপ্রবির ২৩ শিক্ষক ফেরেননি, বকেয়া ৩ কোটি টাকা

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে ফিরতে ব্যর্থ হয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২৩ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করার পাশাপাশি, তারা ছুটির সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতার অর্থও ফেরত দেননি। এই শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাওনার পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। তথ্য অধিকার আইনে যবিপ্রবির শিক্ষকদের শিক্ষা ছুটিসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক মাস্টার্স, পিএইচডি এবং পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন। তবে, ২৩ জন শিক্ষকের শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তারা এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। এই শিক্ষকদের মধ্যে সিএসই ও এমবি বিভাগের চারজন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তিনজন, ফার্মেসি ও ইএসটি বিভাগের দুজন এবং আইপিই, সিএইচই, পিএমই, ইইই, বিএমই, জিইবিটি, এআইএস ও এনএফটি বিভাগের ১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দিন মন্তব্য করেন, যারা শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যোগদান করেননি, তাদেরকে কয়েক দফায় চিঠি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। যদি তারা সন্তোষজনক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তীতে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান জানান, শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এসব শিক্ষক রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, শিক্ষা ছুটি শেষে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিভাগগুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে। তাই যারা দীর্ঘ সময় ধরে যোগদান করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশিদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বৃদ্ধি পেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


বিদেশে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশিদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বৃদ্ধি পেল

বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে ১৮ হাজার ডলারে উন্নীত করেছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা বিদ্যমান ভ্রমণ-সুবিধাকে সংশোধন করে। এর ফলে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার অথবা এর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। এই পরিমাণের মধ্যে, প্রতি ভ্রমণে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার নগদে এবং বাকি অর্থ কার্ডের মাধ্যমে খরচ করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে। তবে, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ৯ হাজার ডলার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%