০৭:০১ পি.এম
দীর্ঘসময় ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায়, সরকারি আদেশ অমান্য করা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সুবাদে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওই সাবেক যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
সোমবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা একটি প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রিফাত রহমান শামীম যখন ডিএমপিতে যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হিসেবে কাজ করছিলেন, তখন ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির অফিসে সংযুক্ত করা হয়। ১৮ আগস্ট, তিনি ডিএমপির দায়িত্বভার অর্পণ করেন, কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া উপস্থিতি না থেকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এর ফলস্বরূপ, তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তার এই কর্মকাণ্ডটি সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার পাশাপাশি সরকারি আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে গণ্য হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এইসব অভিযোগ 'অসদাচরণ' ও 'পলায়ন' হিসাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ অভিযোগে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করা হয়, তবে তিনি নিধারিত সময়ের মধ্যে কোন লিখিত জবাব দেননি। পরবর্তীতে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত শেষে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার মতামত আসে। এরপর, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিগুলো পর্যালোচনা করে, কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, এ বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
অন্দর এবারের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে প্রথমে তাকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পিএসসি বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন পোষণ করে। পরবর্তীতে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত 'অসদাচরণ' ও 'পলায়ন'-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন