০৭:২৭ পি.এম
যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোতের ফলস্বরূপ টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ কারণে নদী রক্ষা বাঁধ, বসতবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল থেকে গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া যমুনা নদীর ২৫ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়, যার ফলে ওই সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এরপর যানবাহনগুলো বিভিন্ন জায়গা দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে যাতে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। তবে, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে শাখারিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন সমস্যায় জর্জরিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তারা নদীর প্রবল স্রোতের সাথে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এ সময় নদীর স্রোত কমাতে সড়কের পাশে গাছের বড় বড় ডালপালা ও গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ولكن স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সাময়িক উদ্যোগ মাত্র। স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছর একি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, ফলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন ব্যয় ও জনভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত রহমান জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে যমুনার তীব্র স্রোত ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন অংশ বিলীন হচ্ছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরো বিস্তৃত হয়ে মহাসড়ক গ্রাস করতে পারে, যা ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসখানেক ধরে নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। যদি প্রথম থেকেই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সড়কটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ বন্ধসহ হাজারও পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় শিক্ষিকা ময়না মনে করেন, কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এছাড়া, একটি স্থায়ী বাধের ব্যবস্থা হলে সড়ক এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন জানান, এই সড়কটি ভেঙ্গে গেলে টাঙ্গাইলের উত্তর এলাকার ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম তলিয়ে যাবে। এতে করে লাখ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়বে। যত দ্রুত সম্ভব এই বাঁধ রক্ষা করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙনরোধের জন্য জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি জানান, আপাতত তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো সংস্কার করা হবে। আর এটা করলে এই সড়কটি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন