ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ, তবে চাইলেই কি সম্ভব?


বাংলাদেশে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ, তবে চাইলেই কি সম্ভব?

বিভিন্ন কারণে অনেক নারী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দেন। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে গর্ভধারণের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। বিশেষ করে মধ্য ত্রিশের পর এই সম্ভাবনা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে বয়স বৃদ্ধির ফলে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ফলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এই প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তবে যে কোনো নারী চাইলেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা পাবে, এমনটি বলা যায় না।

বয়স কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৩০ বছর বয়সের পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মধ্য ত্রিশের পর এই হার আরও দ্রুত হ্রাস পায়। ৪৫ বছর বয়সের দিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিম্বাণুর গুণগত মানও হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ফলে গর্ভধারণের সময় ভ্রূণের কিছু জিনগত বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ কীভাবে করা হয়?

ডিম্বাশয়ে অবস্থিত ডিম্বাণুগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলে সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এজন্য প্রথমে হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে একসাথে একাধিক ডিম্বাণুকে পরিণত করে তোলা হয়। সাধারণত ৮ থেকে ১২ দিন পর নির্দিষ্ট সময়ে ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

এই সময়ে রোগীকে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক প্রদান করা হয়। এরপর ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফি বা টিভিএস প্রোবের মাধ্যমে বিশেষ সূচের সাহায্যে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

সংগৃহীত ডিম্বাণু তরল নাইট্রোজেনের অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব।

পরবর্তী সময়ে ওই নারী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সংরক্ষিত ডিম্বাণু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনা হয়। এরপর শুক্রাণুর মাধ্যমে ডিম্বাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে সেই ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

কারা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করতে পারেন?

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো নারীর চিকিৎসার কারণে ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সম্ভাবনা ধরে রাখার সুযোগ দিতে পারে।

এছাড়া সুস্থ কোনো নারী যদি ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে চান, তিনিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণ তাঁর জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ভর করবে বয়স, শারীরিক অবস্থা, ডিম্বাণুর মজুত ও গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই কি সন্তানধারণ নিশ্চিত?

না। ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে সংরক্ষিত ডিম্বাণু পরে গলিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার সময় কিছু ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরপর নিষেক ও ভ্রূণ তৈরির ক্ষেত্রে সাফল্য নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এছাড়া বয়স বৃদ্ধির সাথে নারীর অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপনের পরও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা থাকতে পারে। ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেও ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্মগত ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব এমন নিশ্চয়তাও নেই।

ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডিম্বাণু সংগ্রহের আগে দেওয়া হরমোন ইনজেকশনের কারণে কারও কারও ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) হতে পারে। এতে ডিম্বাশয় ফুলে যাওয়া, শরীরে পানি জমা, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।

জটিলতা বেশি হলে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

এছাড়া হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয় বড় ও ভারী হয়ে গেলে সেটি নিজের অক্ষের ওপর মুচড়ে যেতে পারে, যাকে ওভারিয়ান টরশন বলা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন একটি পরিস্থিতি।

ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় যোনিপথ বা ডিম্বাশয়ের রক্তনালিতে আঘাত লাগারও আশঙ্কা থাকে। বিরল ক্ষেত্রে মূত্রথলি, অন্ত্র বা আশপাশের রক্তনালিতেও আঘাত লাগতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকিও পুরোপুরি বাদ যায় না।

খরচও কম নয়

ডিম্বাণু সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। ডিম্বাণু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ফ্রিজারে সংরক্ষিত ডিম্বাণুর জন্য প্রতিবছর অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

আরও পড়ুন: খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ মেশানোর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

তাহলে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। একই সাথে যে প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে, সেখানে ডিম্বাণু সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ভবিষ্যতে ব্যবহারের প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সব মিলিয়ে মোট খরচ সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সুযোগ ধরে রাখার প্রযুক্তি হলেও এটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। কার জন্য এটি উপযুক্ত, কখন করা ভালো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা, এসব সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেদের ট্রলারে মাছের বদলে উদ্ধার সাড়ে ৭ কোটি টাকার শাড়ি-পাঞ্জাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


জেলেদের ট্রলারে মাছের বদলে উদ্ধার সাড়ে ৭ কোটি টাকার শাড়ি-পাঞ্জাবি

বরগুনার পাথরঘাটায় মাছ ধরার ট্রলারে চোরাচালানের সময় কোস্টগার্ড পাঁচজনকে আটক করেছে। একই সঙ্গে, ট্রলার ও একটি কাভার্ডভ্যান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও পাঞ্জাবি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া এলাকার সোহাগ সরদার (৩২), মৌডুবি এলাকার সাগর হাওলাদার (৩৮), কুয়াকাটার মহিপুর এলাকার মঞ্জু মোল্লা (৩২), কলাপাড়া উপজেলার খলিলপুর এলাকার রেজাউল গাজী (৩৭) এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নবানখালী এলাকার বিল্লাল হাওলাদার (৪৫)।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ২ টার দিকে পাথরঘাটার কাকচিরা ইউনিয়নের বিষখালী নদী সংলগ্ন এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সন্দেহভাজন একটি মাছ ধরার ট্রলার ও কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালানোর সময় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১৩ হাজার ৫০৭টি শাড়ি ও ১ হাজার ৪৬৬টি পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

পরবর্তীতে, উদ্ধারকৃত শাড়ি ও পাঞ্জাবিসহ চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত ট্রলার এবং কাভার্ড ভ্যানটিকে জব্দ করা হয় এবং জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, জব্দ করা সব আলামত ও আটক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে?

ফ্রিজ থেকে পাউরুটির প্যাকেট বের করে দেখা গেল, গায়ে লেখা ‘বেস্ট বাই’ তারিখটি দুই দিন আগে পার হয়ে গেছে। তবে পাউরুটির চেহারা স্বাভাবিক, এবং কোনো বাজে গন্ধও নেই। তাহলে কি নিশ্চিন্তে এটি খাওয়া যাবে?

প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার আগে অনেকেই তারিখের দিকে নজর দেন না। আবার কিছু মানুষ মনে করেন, তারিখ পার হলেও খাবারের গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন না হলে তা খাওয়া নিরাপদ। কিন্তু খাবারের মেয়াদের তারিখ এবং খাবার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সবসময় এক নয়।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশনিস্ট শরীফা আক্তার শাম্মী গণমাধ্যমকে জানান, খাবারের প্যাকেটে দেওয়া তারিখ ও সংরক্ষণবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

খাবারের মেয়াদের তারিখ বলতে কী বোঝায়

খাবারের মোড়কে যে তারিখ লেখা থাকে, সাধারণত তা পর্যন্ত খাবারের নির্দিষ্ট গুণগত মান বজায় থাকবে বলে প্রস্তুতকারক আশা করেন।

তবে প্যাকেটের গায়ে লেখা বিভিন্ন তারিখের অর্থ এক নয়। তাই শুধুমাত্র তারিখ পার হয়েছে দেখেই সব খাবারকে একইভাবে অনিরাপদ বলা যায় না।

‘বেস্ট বাই’ বা ‘বিফোর’ তারিখ

এই তারিখ সাধারণত খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গুণগত মান সবচেয়ে ভালো থাকার সময় নির্দেশ করে। তারিখ পার হয়ে গেলে খাবারের সতেজতা বা মান কমে যেতে পারে।

তবে খাবারে নষ্ট হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকলে শুধু এই তারিখ পার হওয়ার কারণে খাবারটি অবশ্যই অনিরাপদ হয়ে গেছে—এমন নয়। খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

‘সেল বাই’ তারিখ

এই তারিখ মূলত বিক্রেতাদের জন্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ ওই তারিখ পর্যন্ত পণ্যটি বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা উচিত।

এই তারিখ পার হলেই খাবারটি অনিরাপদ হয়ে গেছে—এমন অর্থ নয়।

‘ইউজ বাই’ তারিখ

এই তারিখ সাধারণত খাবার ব্যবহারের সময়সীমা বোঝায়। তবে কোন খাবারে কীভাবে এই তারিখ ব্যবহার করা হবে, তা দেশ ও প্রস্তুতকারকভেদে আলাদা হতে পারে।

তাহলে খাবারের প্যাকেটের নির্দেশনা এবং সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

নষ্ট খাবার খেলে কী হতে পারে

খাবার মেয়াদ পেরিয়ে নষ্ট হয়ে গেলে তা খাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া: নষ্ট খাবারে সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ই-কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। এমন খাবার খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, জ্বর ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হজমের সমস্যা: খাবার নষ্ট হয়ে গেলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। খাবারের সতেজতা নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিকর জীবাণু তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

হতে পারে গুরুতর অসুস্থতাও

সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছু খাবার গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে কৌটাজাত খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তাতে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফলে বটুলিজমের মতো গুরুতর অসুস্থতা হতে পারে, যা কখনো জীবনহানির কারণও হতে পারে।

আবার ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়া খাবারে মাইকোটক্সিন তৈরি হতে পারে। এসব বিষাক্ত পদার্থ লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা

শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হতে পারে। তাই তাদের ক্ষেত্রে নষ্ট বা সন্দেহজনক খাবার খাওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।

সামান্য সংক্রমণও তাদের ক্ষেত্রে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের ব্যক্তিদের খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

গন্ধ ঠিক থাকলেই খাবার নিরাপদ নয়

খাবারের গন্ধ বা রঙে পরিবর্তন না থাকলে অনেকেই সেটিকে নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু ক্ষতিকর জীবাণু বা বিষাক্ত পদার্থ সবসময় চোখে দেখা যায় না কিংবা গন্ধের মাধ্যমে বোঝা যায় না।

তাহলে শুধু গন্ধ, রং বা দেখতে স্বাভাবিক লাগছে কি না—এগুলো দেখে খাবার নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

খাবার কেনার আগে যা দেখবেন

প্যাকেটজাত খাবার কেনা বা খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে লেখা তারিখ ও সংরক্ষণের নির্দেশনা দেখে নিন। খাবার নির্ধারিত তাপমাত্রায় এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও জরুরি।

কোনো খাবারের গন্ধ, রং, প্যাকেট বা চেহারায় অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। বিশেষ করে খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ থাকলে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।

খাবারের গায়ে লেখা তারিখকে তাই শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে না দেখে এর অর্থ বোঝা জরুরি। একই সঙ্গে খাবারের সংরক্ষণ পদ্ধতি ও অবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চালু হলো ৫ নতুন কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চালু হলো ৫ নতুন কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক উদ্বোধন করেছেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গাবতলীর প্রস্তাবিত কাঁচাবাজারে ডিএনসিসির পরিবহন ডিপোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই ট্রাকগুলোর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, অতি বৃষ্টিপাতের কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংস্কার কার্যক্রম এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এই সমস্যা সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রায় সফলতা অর্জন করেছি।

তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য এসটিএস এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে ৫টি ক্যারিয়ার ট্রাক উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামীতে আরও ১০টি কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সহজ এবং দ্রুততর করার মাধ্যমে নগরবাসীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেওয়ার জন্য ডিএনসিসি সর্বদা সচেষ্ট এবং দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতিদিন ১৮০-২০০টি গাড়ির মাধ্যমে ঢাকা শহরের চার হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করছে ডিএনসিসি।

তিনি বলেন, নগরবাসীকে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে নতুন পাঁচটি কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হলো। এই গাড়িগুলোর মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না মাদক কারবারি, ধরিয়ে দিল ওয়াই-ফাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না মাদক কারবারি, ধরিয়ে দিল ওয়াই-ফাই

এক মাদক কারবারির গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। তিনি নিজের বাড়ির আলমারিতে লুকিয়ে ছিলেন, কিন্তু প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ তার অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য মেট্রো-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারির নাম জোয়েল লুইস।

৩৪ বছর বয়সী লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলিতে বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে ‘ববি’ নামে একটি মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। নর্থ কিলবার্ন এলাকায় তার চক্র কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করত।

মাদক সরবরাহের সন্দেহে কয়েকজন শিশুকে আটক করে তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর লুইসের চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৭ জুলাই ওয়েম্বলিতে লুইসের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের অভিযান টের পেয়ে লুইস একটি আলমারির ভেতর লুকিয়ে পড়েন। তবে পুলিশ তাকে দ্রুত খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর বিস্মিত লুইস পুলিশকে প্রশ্ন করেন, "আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?"

তদন্তকারীরা জানান, লুইস তার ডিভাইসে ভিপিএন ব্যবহার করে নিজের অবস্থান গোপন রাখতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু যে ঠিকানায় তিনি অবস্থান করছিলেন, সেখানে একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার ডিভাইস সংযুক্ত হয়ে যায়। সেই সংযোগের সূত্র ধরেই পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

অভিযানের সময় লুইসের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড মূল্যের ‘এ’ শ্রেণির মাদক কোকেন ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি গুলিসহ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড ৯ মিমি গুলি, একটি মাচেতে ও একটি ফ্লিপ নাইফ জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর একটি সরাসরি ‘ববি’ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। লুইসের ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ২৫০ জন মাদকসেবীর একটি কন্টাক্ট তালিকা পাওয়া যায়। এসব নম্বর থেকে প্রতিদিন তার ফোনে শতাধিক কল আসত বলে তদন্তে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, "নর্থ কিলবার্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের কাজে তরুণদের ব্যবহার করতেন লুইস। এর ফলে তারা সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ত।"

কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের অপরাধে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট জোয়েল লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%