ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য


সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য

সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। এই ঘটনায় ওই পরিবারের আরও দুই সন্তান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনায় তারা মারা যান।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে মো. নিয়ামত (৪৫), তার স্ত্রী উসুফা বেগম, তার মেয়ে আয়শা আক্তার (৫) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. লালন মিয়া (২৬)৷

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এই ঘটনায় নিহত নিয়ামত ও উসুফার দম্পতির আরও এক ছেলে ও এক মেয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।

নিহত মো. নিয়ামতের মামা আব্দুল আউয়াল জানান, নিহত নিয়ামত এবং উসুফা দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুরে বসবাস করছিলেন। তাদের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। শনিবার কিশোরগঞ্জ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জগন্নাথপুর যাচ্ছিলেন নিয়ামত। বাস থেকে অটোরিকশায় করে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী পদ্মা কোম্পানির তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশার চালকসহ চারজনের মৃত্যু হয়।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিসে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ আগুন লাগিয়েছেন ইসরায়েলি পর্যটকরা, এর পরবর্তী ঘটনার চিত্র...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


গ্রিসে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ আগুন লাগিয়েছেন ইসরায়েলি পর্যটকরা, এর পরবর্তী ঘটনার চিত্র...

যারা ইউরোপের দেশ গ্রিসে ঘুরতে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইসরায়েলি পর্যটক ভয়াবহ একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাদের লাগানো সেই আগুন থেকে ভয়ংকর দাবানল ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে, যা গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সংগঠিত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রায় ৪ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর, গ্রিসের পুলিশ ওই ইসরায়েলি পর্যটকদের একজনকে আটক করেছে।

সংবাদ সূত্র অনুযায়ী, রোববার (২৩ আগস্ট) ৩৫ বছর বয়সী আলী ওই ইসরায়েলি পর্যটককে আদালতে সোপর্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। খবরটি দ্য জেরুজালেম পোস্ট থেকে পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনার সময়ের বিস্তারিত তথ্য জানায়। তারা জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে পর্যটন শহর প্লাকিয়াসের কাছাকাছি দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল একটি ভাড়া করা ভিলার আঙিনা থেকে যেখানে কিছু ইসরায়েলি পর্যটক অবস্থান করছিলেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তীব্র বাতাস ও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতার মধ্যেও তারা বারবিকিউ জ্বালিয়েছিলেন। ভিলার মালিক জানান, নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকায় বারবিকিউ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল এবং সেই বিষয়ে তাদের লিখিতভাবে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল।

যদিও মেনে না চলেই, ইসরায়েলিরা বারবিকিউ জ্বালান। এরপর আগুনের স্ফুলিঙ্গ বাতাসে উড়ে শুকনো গাছপালায় পড়ে যায়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের খোলা এলাকায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট পাঠানো হয়। তাছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পানি বহনকারী ট্যাংকার, হেলিকপ্টার এবং স্বেচ্ছাসেবকরা আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, গ্রিস কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ দাবানলের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রেথিমনো এলাকায় বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। ন্যাশনাল অবজারভেটরি অব অ্যাথেন্সের তথ্যমতে, মাত্র দুইদিনে রেথিমনোর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার জমির গাছপালা পুড়ে যায়।

ওই সময় আট হাজারের বেশি বাসিন্দা ও পর্যটককে বাড়ি ও হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে ২২৪ জন দমকলকর্মী, ৫৩টি ফায়ার ইঞ্জিন এবং ১১টি বিশেষ ইউনিট কাজ করেছিল। আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্লেন এবং হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই অভিযানে দুই দমকলকর্মীর নিহতের ঘটনাও ঘটে। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে। কিছু এলাকায় ঝোড়ো বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, যা আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে কঠিন করে দেয়।

এ বছর একাধিক দাবানলের পর গ্রিসের কর্তৃপক্ষ আগুন প্রতিরোধের নিয়ম ভাঙার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। উচ্চ অগ্নিঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ জ্বালানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, শুকনো গাছপালা পোড়ানো বা আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করতে পারে—এমন যে কোনো কাজও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিস্ত্রিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০১ পি.এম


মিস্ত্রিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পুলিশ কর্মকর্তা

ফরিদপুরের বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. আবীর হোসেন (৫৫) নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় খোদাবক্স রোডের ওই পুলিশ কর্মকর্তার নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবীর হোসেন শরীয়তপুরের নড়িয়া সার্কেল অফিসে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আবু বকর মোল্লার ছেলে। কর্মস্থল থেকে ছুটিতে তিনি গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ফরিদপুরের নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন।

এলাকাবাসী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, পুলিশ কর্মকর্তা আবীর হোসেনের বাড়ির ছাদে বিদ্যুতের মিস্ত্রিরা কাজ করছিলেন। ঘটনার সময় মিস্ত্রি (ইলেকট্রিশিয়ান) আব্দুল আজিজকে (২৫) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আবীরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত আব্দুল আজিজ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল कॉलेज হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানার সামনে বউ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


থানার সামনে বউ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে ছোট ভাই নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার ফলে দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের সময় ভাঙ্গা থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অংশগ্রহণকারী দুই ভাই হলেন—ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মালয়েশিয়াপ্রবাসী একরাম শেখ এবং আব্দুল্লাহ শেখ।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, একরাম আলী পার্শ্ববর্তী সোনাখোলা গ্রামের বাঁকা শেখের মেয়ে পূর্ণিমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহ পূর্ণিমাকে নিয়ে আসা-নেওয়া করতে শুরু করেন। তখন অভিযোগ উঠেছে যে আব্দুল্লাহ এবং তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। কয়েক মাস আগে একরাম দেশে ফিরে তার স্ত্রী পূর্ণিমার সাথে সংসার শুরু করেন। এই অবস্থার মধ্যে গত বুধবার সকালে পূর্ণিমা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ছোট ভাই আব্দুল্লাহর সাথে ঢাকার সাভারে চলে যান বলে পরিবারের অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে শনিবার দুপুরে ওই নারীর বাবা এবং বড় ভাই সাভার থেকে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসেন। থানার চত্বরে পৌঁছানোর পর পূর্ণিমাকে নিয়ে দুই ভাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও টানাটানির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে থানার সামনে থেকে সরিয়ে নেয়।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, থানার গেটের সামনে এক নারীকে নিয়ে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ ঘটেছে। পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুঝুঁকিতে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


মৃত্যুঝুঁকিতে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার যেন প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে বসবাস করছে। ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের একেবারে ওপর দিয়ে ঝুলে আছে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। কোথাও কোথাও বসতঘরের ছাদ থেকে তারের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগে এলাকাটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ লাইনটি স্থাপন করা হয়। সময়ের সঙ্গে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি সরানো কিংবা নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো তারও অনেক জায়গায় ঝুলে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে আড়পাড়া, নদীপাড়া, মধুপট্টি, কোটচাঁদপুর রোড, মাঠপাড়া, দরগাপাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য বসতবাড়ির ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। অনেক বাড়ির ছাদে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন বাসিন্দারা। ছাদে কাপড় শুকানো, নির্মাণকাজ কিংবা সামান্য কোনো মেরামতের কাজ করতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।

আড়পাড়া দরগাপাড়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এলাকার বহু বাড়ির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের তার ঝুলে আছে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে।

নদীপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো. শওকত আলী বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর আগে যখন লাইনটি স্থাপন করা হয়, তখন এখানে তেমন বসতবাড়ি ছিল না। পরে ধীরে ধীরে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। তার দাবি, গত তিন দশকে এই এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে অন্তত চার-পাঁচজনের প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের তারগুলো এখন অনেক ঘরের ছাদ ও চালের সঙ্গে প্রায় লেগে থাকার মতো অবস্থায়। কত মানুষ যে এই লাইনের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন, তার হিসাব নেই। আমরা চাই, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, প্রায়ই ছাদে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা শোনা যায়। ২০২৩ সালে কালুখালী গ্রামের এক রংমিস্ত্রি নদীপাড়ায় একটি বাড়িতে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনায় আহত অনেককে চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণে অনেক পরিবার ছাদে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

নদীপাড়ার বাসিন্দা আক্তার হোসেন দোলা বলেন, আমাদের বাড়ির ওপর দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের তার গেছে। বাড়ি নির্মাণের সময় আমরা বুঝতে পারিনি এটি কতটা ভয়ংকর। এখন ছাদে উঠতেও ভয় লাগে। কয়েক বছর আগে ডিসলাইনের কাজ করার সময় উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের সঙ্গে সামান্য সংযোগে বিকট শব্দ হয় এবং অনেক বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটলেও দীর্ঘদিনেও ঝুঁকি নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উচ্চ ভোল্টেজের লাইনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় অনেকে নতুন করে বাড়ি নির্মাণও করতে পারছেন না। কেউ কেউ জমি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না; আবার কেউ কষ্ট করে কেনা জমি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দাদের মতে, লাইনটি মেরামত করে আরও উঁচু করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অথবা সম্ভব হলে ঘনবসতি থেকে সরিয়ে সড়কের পাশ দিয়ে নেওয়া হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসতে পারে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোনো একদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলতে পারবেন না। তিনি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। কালীগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।

কালীগঞ্জে আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (অফিস হেড) জয়দীপ সরকার বলেন, লাইনটি অনেক আগে স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে এটি সরানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ বিষয়ে আবেদন করা হলে আমি তা করতে পারি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইস্টিমেট চাইবেন। ব্যয়ের হিসাব দেখার পর কর্তৃপক্ষ এটি এখনই করবে কি না, সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

এদিকে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে বসবাস করা স্থানীয় পরিবারগুলোর দাবি, কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা দ্রুত লাইনটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া অথবা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, কালীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধী সমাজ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার অপেক্ষা না করে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%