ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মৃত্যুঝুঁকিতে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস


মৃত্যুঝুঁকিতে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার যেন প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে বসবাস করছে। ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের একেবারে ওপর দিয়ে ঝুলে আছে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। কোথাও কোথাও বসতঘরের ছাদ থেকে তারের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগে এলাকাটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ লাইনটি স্থাপন করা হয়। সময়ের সঙ্গে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি সরানো কিংবা নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো তারও অনেক জায়গায় ঝুলে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে আড়পাড়া, নদীপাড়া, মধুপট্টি, কোটচাঁদপুর রোড, মাঠপাড়া, দরগাপাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য বসতবাড়ির ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। অনেক বাড়ির ছাদে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন বাসিন্দারা। ছাদে কাপড় শুকানো, নির্মাণকাজ কিংবা সামান্য কোনো মেরামতের কাজ করতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

আড়পাড়া দরগাপাড়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এলাকার বহু বাড়ির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের তার ঝুলে আছে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে।

নদীপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো. শওকত আলী বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর আগে যখন লাইনটি স্থাপন করা হয়, তখন এখানে তেমন বসতবাড়ি ছিল না। পরে ধীরে ধীরে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। তার দাবি, গত তিন দশকে এই এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে অন্তত চার-পাঁচজনের প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের তারগুলো এখন অনেক ঘরের ছাদ ও চালের সঙ্গে প্রায় লেগে থাকার মতো অবস্থায়। কত মানুষ যে এই লাইনের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন, তার হিসাব নেই। আমরা চাই, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, প্রায়ই ছাদে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা শোনা যায়। ২০২৩ সালে কালুখালী গ্রামের এক রংমিস্ত্রি নদীপাড়ায় একটি বাড়িতে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনায় আহত অনেককে চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণে অনেক পরিবার ছাদে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

নদীপাড়ার বাসিন্দা আক্তার হোসেন দোলা বলেন, আমাদের বাড়ির ওপর দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের তার গেছে। বাড়ি নির্মাণের সময় আমরা বুঝতে পারিনি এটি কতটা ভয়ংকর। এখন ছাদে উঠতেও ভয় লাগে। কয়েক বছর আগে ডিসলাইনের কাজ করার সময় উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের সঙ্গে সামান্য সংযোগে বিকট শব্দ হয় এবং অনেক বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটলেও দীর্ঘদিনেও ঝুঁকি নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উচ্চ ভোল্টেজের লাইনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় অনেকে নতুন করে বাড়ি নির্মাণও করতে পারছেন না। কেউ কেউ জমি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না; আবার কেউ কষ্ট করে কেনা জমি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দাদের মতে, লাইনটি মেরামত করে আরও উঁচু করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অথবা সম্ভব হলে ঘনবসতি থেকে সরিয়ে সড়কের পাশ দিয়ে নেওয়া হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসতে পারে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোনো একদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলতে পারবেন না। তিনি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। কালীগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।

কালীগঞ্জে আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (অফিস হেড) জয়দীপ সরকার বলেন, লাইনটি অনেক আগে স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে এটি সরানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ বিষয়ে আবেদন করা হলে আমি তা করতে পারি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইস্টিমেট চাইবেন। ব্যয়ের হিসাব দেখার পর কর্তৃপক্ষ এটি এখনই করবে কি না, সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

এদিকে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে বসবাস করা স্থানীয় পরিবারগুলোর দাবি, কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা দ্রুত লাইনটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া অথবা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, কালীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধী সমাজ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার অপেক্ষা না করে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরীক্ষায় যাওয়ার পথে সড়কে প্রাণ হারালেন নাফিসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


পরীক্ষায় যাওয়ার পথে সড়কে প্রাণ হারালেন নাফিসা

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে নাফিসা নাওয়াল (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী মারা গেছেন, পরে ক্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ফলে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে নগরীর নেভি হাসপাতাল গেটের বিপরীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নাফিসা যখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন একটি ক্রেনের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে এবং এরপর তিনি রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তিনি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে মারিয়া নামের একটি ইন্টার্ন চিকিৎসক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত হিসেবে ঘোষণা করেন।

নাফিসা নাওয়াল সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকার আসমত আলী বাড়ির মামুন মিয়ার সন্তান। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন।

ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মরদেহ চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘাতক ক্রেনটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক কারবারি পালালো পুলিশের হাতকড়াসহ, অতঃপর গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


মাদক কারবারি পালালো পুলিশের হাতকড়াসহ, অতঃপর গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পরে পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ যিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি হলেন মো. রাজু মিয়া নামে এক মাদক কারবারি। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় তার বড় ভাই আক্তার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাইকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার রাতের দিকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা এলাকায় অভিযান চালায়। এই অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. রাজু মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে হাতকড়া পরানো হয় এবং ফাঁড়িতে নিয়ে আসার সময় রাজুর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কিছু লোক তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় রাজু মিয়া সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দীনের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান।

ঘটনার পর পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুনরায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে হাতকড়াসহ রাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে মাদক কারবারে এবং আসামি পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা অভিযোগে তার বড় ভাই আক্তার হোসেনকেও আটক করা হয়।

তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন জানান, হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক কারবারে এবং পুলিশকে আক্রমণ করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার ভাইকেও আইনে আনা হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে দণ্ডিত দুই ভাইকে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘গবেষণা নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারলে শিক্ষার অগ্রগতি সম্ভব নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


‘গবেষণা নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারলে শিক্ষার অগ্রগতি সম্ভব নয়’

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যদি আমরা গবেষণা-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে অক্ষম হই, তাহলে শিক্ষার অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আরও বেশি গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন; সেই সঙ্গে এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের শেষ দিনের সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয় এবং এভাবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্র বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। গবেষণার বিনিময়ে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বাজেটের যে সমস্যা আছে তা সমাধান হবে।

রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, এ দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদেশে ব্যতিক্রমী ফলাফল দেখাচ্ছে। একই সাথে গবেষণা ক্ষেত্রেও তারা বৃহত্তর সাফল্য অর্জন করছে। তাই শিক্ষকদের এবং শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সেই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষক কার্ড সম্পর্কে জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


কৃষক কার্ড সম্পর্কে জরুরি নির্দেশনা

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের জন্য দেশব্যাপী কৃষক ও সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও হালনাগাদের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) দিয়েছে। এই জরুরি নির্দেশনায় সব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএই’র মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সই করা একটি চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক কার্ড প্রদানের অংশ হিসেবে কৃষক ও সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংগৃহীত তথ্যের নিয়মিত যাচাই ও অনুমোদনের পাশাপাশি তথ্যের সঠিকতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলোতে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সংগৃহীত তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই ও অনুমোদন করতে হবে। সেই সঙ্গে সার ডিলারদের তথ্য বিদ্যমান অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যে দু’টি ব্লকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো বাদে বাকি দু’টি ব্লকের তথ্য আগামী রবিবার (২৩ আগস্ট) এর মধ্যে সংগ্রহ শেষ করতে বলা হয়েছে। আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) এর মধ্যে অবশিষ্ট সব ব্লকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ক্ষেত্রে আপাতত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের আওতাধীন সব বিদ্যমান ব্লকের নাম সিস্টেমে সংযুক্ত করতে হবে। তবে কোনো ব্লক বাদ না পড়ার বিষয়টি চিঠিতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্লকের আওতাধীন সব মৌজা ও গ্রামের তথ্য যথাযথভাবে ওই ব্লকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়, তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে তথ্যের নির্ভুলতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক কার্ড কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষক ও সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও হালনাগাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করে তথ্যভান্ডার সঠিক ও হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%