শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৫ পি.এম
মাধবপুরের হবিগঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মহসিনুর রহমান মুর্শেদের আবাসে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ভেন্টিলেটর ভেঙে প্রবেশ করে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আইপিএস, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
এই চুরির ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে, উপজেলার বহরা ইউনিয়নের উত্তর শিক গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মহসিনুর রহমান মুর্শেদ তার পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করেন। তার ছোট ভাই মিশু পোল্যান্ডের নাগরিক। এই কারণে বাড়িটি বেশিরভাগ সময় ফাঁকা থাকে। স্থানীয়দের ধারণা, এই সুযোগ নিয়ে চোরেরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে চুরি করেছে।
চোরেরা ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করার পর বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে। এরপর তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আইপিএস, টেলিভিশনসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
চুরির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পুলিশ মাধবপুর থানার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তবে, তাৎক্ষণিকভাবে চুরি হওয়া মালামালের তালিকা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানিয়েছেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) চীনের দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেছে। সফরের অংশ হিসেবে তারা মাওলানা ভাসানীর মাজার এবং ভাসানী জাদুঘরে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ট্রাক্টরটি পরিদর্শন করেন, যা মাও সেতুংয়ের উপহার। তারা মাভাবিপ্রবির সাথে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পৌঁছানোর পর, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং ও থার্ড সেক্রেটারি শিয়া ডাওজিং-কে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিনিধি দলটি মাওলানা ভাসানীর মাজার, মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার, ভাসানী জাদুঘর এবং সেখানে সংরক্ষিত মাও সেতুংয়ের উপহার দেওয়া ট্রাক্টর পরিদর্শন করেন। তারা ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্লাসরুম, গবেষণাগার, সেমিনার লাইব্রেরি, গ্যালারি রুম ও অতিথি ডরমিটরিও ঘুরে দেখেন।
কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং মন্তব্য করেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির সঙ্গে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করা সম্ভব। চীনা ভাষা কোর্স চালু, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা এবং মাওলানা ভাসানী গবেষণা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করার বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
লি শাওফেং জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছু প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, যা তিনি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং আধুনিক গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের স্থপতি ও তৎকালীন চেয়ারম্যান মাও সে-তুং ১৯৬৬ সালে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চীন সফরকালে তাকে একটি ঐতিহাসিক ট্রাক্টর উপহার দিয়েছিলেন। এই ট্রাক্টরটি ১৯৬৭ সালে সমবায়ভিত্তিক কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। মাও সে-তুং-এর দেওয়া এই বিশেষ ট্রাক্টরটি তৎকালীন সময়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য প্রতীক ছিল, যা দিয়ে একসাথে প্রায় ৫০ একর জমি চাষ করা যেত এবং মওলানা ভাসানী নিজে এটি চালিয়ে স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করতেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন ৯৪৮ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একটি বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বার্তায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি, তবে সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।
এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় পুলিশ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। তবে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, আটক ২৩ জন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসির একাধিক টিম উপস্থিত রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান এ বিষয়ে বলেন, "তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।" তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে এবং তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। চলতি বছরের জন্য মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪৭ জন। যদিও ডেঙ্গুতে নতুন করে কেউ মারা যাননি, তবে এ বছরের মোট মৃত্যু সংখ্যা ১৭৬ জনে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭৬ জনের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক এবং জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে। এই মাসে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৭৯ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২৩ এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, বরিশালে ১৩, চট্টগ্রামে ১৬, রাজশাহীতে আট, রংপুরে চার এবং সিলেটে একজন মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩০১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন। জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইতে নয় হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ