সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০১ পি.এম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে পুলিশ।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এই আবেদনটি করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সাথে ভিকটিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫নং বিল্ডিং এর ৩য় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সাথে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় গাজী নজরুল ভিকটিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে তিনি দেখতে পান সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত।
তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভিতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তিনি তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এ সময় বিছানার উপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাপানের জনসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ২৭ লাখ। কিন্তু সেখানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় তিনজনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া, বয়স ১০০ পেরিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা ১ লাখের বেশি। যদিও এটি দীর্ঘায়ুর একটি বড় সাফল্য মনে হচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে নতুন সংকট। প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু শিশুর জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে, যা কর্মী সংকটের সৃষ্টি করছে।
প্রবীণদের পেনশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচও বাড়ছে। অর্থাৎ, যদিও মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচছেন, কিন্তু তাদের দেখভাল করার জন্য তরুণ মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই দীর্ঘায়ুর সাফল্য এখন জাপানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে। ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা টানা ৫৬ বছর ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ নারী।
কিন্তু জাপানিরা এত দীর্ঘায়ু পাচ্ছেন কীভাবে? গবেষকদের মতে, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মাছ, শাকসবজি এবং তুলনামূলকভাবে কম চর্বিযুক্ত খাবার জাপানিদের খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং গণপরিবহন ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকেই দৈনন্দিন জীবনে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন। উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমাও দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচলেও নতুন শিশু জন্মানোর হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০০ নারীর বিপরীতে গড়ে ১১৪টি শিশু জন্মেছে। কিন্তু জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ২১০টি নতুন শিশুর প্রয়োজন ছিল। সংকটের গভীরতা বোঝা যায় যখন দেখা যায়, গেলো বছরে জাপানে ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ৮ লাখের বেশি ছিল, অথচ একই সময়ে নতুন শিশু জন্মেছে মাত্র ৭ লাখের মতো।
কম জন্মহারের পেছনের কারণ
কম জন্মহারের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তরুণদের মধ্যে বিয়ে কমে যাওয়া, দেরিতে বিয়ে, অনিশ্চিত চাকরি, স্থবির মজুরি এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন। সন্তান লালন-পালনের খরচ এবং কর্মজীবনের সঙ্গে পরিবার সামলানোর চাপও বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
এটি জাপানের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অবদান রাখা মানুষের সংখ্যা কমছে। প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পেনশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এই চাপ তরুণ জনগণের ওপর পড়ছে।
আগামীতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। ২০০৮ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ। পূর্বাভাস বলছে, ২০৭০ সালে এটি কমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে আসতে পারে। তখন কমসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষকেই বহন করতে হবে বাড়তে থাকা পেনশন, চিকিৎসা ও বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয়। যা ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতির পূর্বে একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ক্লাব ফুটবলে শেষ ম্যাচে রিভার প্লেটের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদা চোটের শিকার হয়েছেন। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, চোটের কারণে আসন্ন তিনটি প্রীতি ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে হুরাকানের বিরুদ্ধে রিভার প্লেটের ২-১ গোলে পরাজয়ের ম্যাচে আলমাদা শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় তিনি চোট পান। সতীর্থকে পাস দেওয়ার সময় ব্যথা অনুভব করেন এই মিডফিল্ডার। এরপর তিনি ডাগআউটের দিকে ইশারা করে বদলি হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
অল্প সময় মাঠে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি আলমাদা। বাধ্য হয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে আট ম্যাচের পাঁচটিতে অংশ নেওয়া এই ফুটবলারকে হারানো ক্লাব এবং জাতীয় দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত আর্জেন্টিনা দলে আলমাদা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার চোটের পর কোচ লিওনেল স্কালোনিকে বিকল্প খেলোয়াড় দলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে। এরপর ৩ অক্টোবর বুর্কিনা ফাসোর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর ৬ অক্টোবর তারা বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে।
বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ হতে পারে। তাই মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আলমাদার চোট স্কালোনির পরিকল্পনায় নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে প্রভাব পড়েছে। এর ফলে ট্রাকের ভাড়া গন্তব্য অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন ট্রাক মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে মালামাল সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের ট্রাক মালিক আনন্দ হোসেন জানিয়েছেন, হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাক মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ঢাকার জন্য ট্রাক ভাড়া ছিল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, যা এখন ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। চট্টগ্রামের জন্য ভাড়া ছিল ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকা, যা এখন ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন, কারণ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভাড়া নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যদি তেলের দাম কমানো হয়, তাহলে ট্রাক মালিকদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক আকরাম হোসেন জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ট্রাক মালিকরা ভাড়া নির্ধারণে সমস্যায় পড়েছেন। এর ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রাক ভাড়া পেতে কষ্ট হচ্ছে। অনেক পণ্য বন্দরের ভিতরে ট্রাকে লোড অবস্থায় রয়েছে, যার গুণগত মান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।" বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর থেকে গম, ভুট্টা, ভুষি, জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি অব্যাহত থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে এসব নিত্যপণ্য সরবরাহ করতে ব্যবসায়ীদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালতে আসামিদের হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানির পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গাজী নজরুলকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং মামলার এজাহার পর্যালোচনা করেন। পরে তিনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন।
যে পাঁচ কারণে রিমান্ড আবেদন
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার সময় একই বাসায় থাকা আসামিদের প্রভাব ছিল কি না, তা উদঘাটন করা; তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা জানা; মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও অবস্থান শনাক্ত করা; অজ্ঞাতনামা কেউ জড়িত ছিল কি না, তা শনাক্ত করা এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা।
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়ম শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
মামলার বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাসায় অনেক লোকজন দেখতে পান। পরে একটি কক্ষে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মকে আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তাদের প্ররোচনার কারণে আত্মহত্যা করতে হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করছে পুলিশ।
ভিডিও ছড়ানোর পর বিতর্ক
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের কথিত ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়।
এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল।
ওই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানকেই এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ