০৭:১৪ পি.এম
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ঘোষিত নৌ অবরোধ এবং ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতির অংশ হিসেবে ইয়ানবু উপকূলের বিপরীতে, লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে ‘ওয়াফা’ নামে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আরও জানান, গত ২২ জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এ পর্যন্ত আটটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সময়ে ২৯টি জাহাজকে তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি বলেছেন, লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে, এবং সৌদি আরবগামী সব সামুদ্রিক রুট কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে এসব অভিযানগুলো আরও জোরদার করা হবে।
তবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর এই দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া হামলার ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতি বা ট্যাংকারে আঘাত হানার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের পরই লোহিত সাগরে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে রাজধানী সানাজুড়ে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েমেন নেট দাবি করেছে, সৌদি যুদ্ধবিমান সানার আকাশে উড়তে দেখা যাওয়ার একই সময়ে শহরজুড়ে কয়েকটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে কয়েকটি আরব সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর ও শিল্পাঞ্চলেও আজ বুধবার ভোরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ইরাক নিউজ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেবেল আলি শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান বিমানবন্দরে সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, ‘স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে চালানো এই হামলায় ড্রোনটি নিখুঁতভাবে তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
তিনি জানিয়েছেন, সৌদি আরব সম্প্রতি ড্রোন ব্যবহার করে ইয়েমেনের সা’দা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এরই পাল্টা জবাব হিসেবে দেশটির বিমানবন্দরে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হুতি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হলে তা কোনোভাবেই শাস্তিহীন বা জবাব ছাড়া পার পাবে না।
সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জের ধরে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। ফলে ২০২২ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর হুতি বিদ্রোহী ও রিয়াদের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এর জেরে গত ২০ জুলাই হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে। এই অবরোধের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি আরবের ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুইটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় গোষ্ঠীটি।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত ২৪ ও ২৫ জুলাই হুথি-নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদেইদাহ এবং কামারান দ্বীপে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি বিমান হামলার পরপরই দেশটির লোহিত সাগর তীরবর্তী শহর ইয়ানবু ও জিজানে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকো-এর স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করে হুতিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন