ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক চুরি, পানির ট্যাপও বাদ নেই


বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক চুরি, পানির ট্যাপও বাদ নেই

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) চুরির ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুটেক্স ক্যাম্পাসের মাঠ সংলগ্ন রাস্তা, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে একাধিক মুঠোফোন, মানিব্যাগ এবং বেসিনের পানির নল চুরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো থেকেও ল্যাপটপ, মুঠোফোন এবং নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার কিংবা ঘটনার কোনো দৃশ্যমান সমাধান পায়নি।

সবশেষ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফুটবল দলের অনুশীলন চলাকালীন মাঠসংলগ্ন বসার আসনে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাগ থেকে দুটি মুঠোফোন ও একটি মানিব্যাগ চুরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক ব্যক্তির ফুটেজ পাওয়া গেলেও তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

ভুক্তভোগী ৪৮তম ব্যাচের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই শিক্ষার্থী শিহাব সালেহীন ও রিয়াসাদ আমিম রিশাদ ফুটবল দলের অনুশীলনে অংশ নেওয়ার সময় তাদের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ একটি ব্যাগের ভেতরে রেখে খেলার মাঠে অনুশীলনে যান। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অনুশীলন শেষে তারা তাদের দুটি মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারেন।

ভুক্তভোগীরা গুগলের ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ ব্যবহার করে একটি ফোনের সবশেষ অবস্থান গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট এলাকায় এবং অন্যটির অবস্থান পরদিন মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় খোঁজ পান।

ঘটনার ভুক্তভোগী শিহাব সালেহীন জানান, "চুরির ঘটনায় আমাদের দুটি মুঠোফোন ও একটি মানিব্যাগ খোয়া গেছে। মানিব্যাগে জাতীয় পরিচয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের পরিচয়পত্র, র‍্যাপিড পাস, ব্যাংক কার্ড ও নগদ টাকা ছিল। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে চোরের অস্পষ্ট ছবি পাওয়া গেলেও তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।"

তিনি আরও জানান, "আমরা দুজনই টিউশন করে ঢাকায় নিজেদের খরচ চালাই। ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতার পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহায়তা পেলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।"

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

ঘটনার আরেক ভুক্তভোগী রিয়াসাদ আমিম রিশাদ জানান, "সিসিটিভি ফুটেজে ওই ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেলেও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। প্রধান ফটক ও পকেট গেটে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা ও ফুটেজের মানও পর্যাপ্ত নয়। আমরা চাই, নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।"

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থাপনাতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টার থেকে একটি মুঠোফোন চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডে-কেয়ার সেন্টারের দরজা খোলা থাকার সুযোগে এক বহিরাগত সেখানে প্রবেশ করে মুঠোফোনটি নিয়ে যায়। মুঠোফোনের মালিক ডে-কেয়ারের কর্মচারী খাইরুন নেসা ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান এবং এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে চুরি যাওয়া মুঠোফোনটি এখনও উদ্ধার হয়নি।

এ ছাড়া, একই মাসে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের বিভিন্ন তলার ওয়াশরুম থেকে একাধিক বেসিনের পানির নল বা ট্যাপ চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতেও একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ জুলাই শহীদ আজিজ হলে ৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অনয় রেজার একটি ল্যাপটপ চুরি হয়।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

এ ছাড়া গত ২০ জুন জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলের ৪৭তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী ফাহিম ও নাইমের মুঠোফোন চুরি হয়।

এর আগে ১ এপ্রিল সকালে বুটেক্সের ছাত্রীদের বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে ল্যাপটপ, একটি মুঠোফোন ও নগদ প্রায় চার হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বহিরাগত ব্যক্তি হলের ভেতর বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে চুরি করে নিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আবাসিক হলগুলোতে কর্মরত আছে অস্থায়ী ৩৫ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং পাশাপাশি ৯ জন স্থায়ী কর্মচারী নিরাপত্তা সেবা দিচ্ছে। তবে এসব নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে অসচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা কর্মস্থলে যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে লুডু খেলাসহ স্মার্টফোন ব্যবহারে সময় কাটান বলে জানা যায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্কতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ ও ফি নির্ধারণ

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকে। খোলা জায়গা বা পাবলিক প্লেসে নিজের জিনিসপত্রের নিরাপত্তার বিষয়টি নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক প্লেসে কে কখন কোন দিক দিয়ে আসে বা কী নিয়ে যায়, সেটা শতভাগ নিশ্চিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।"

তিনি বলেন, "ব্যাগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা মানিব্যাগ রেখে মাঠে খেলতে গেলে সেগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মী এসে কারও ব্যাগ পাহারা দেবে—এটা সম্ভব নয়। এছাড়া খেলার সময় স্পোর্টস ক্লাবের নির্ধারিত জায়গা বা রুমে এসব রাখা যেতে পারে।"

নিরাপত্তার জন্য আনসার মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, "আনসারের বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। এখানে আনসার আসার জন্য তাদের বসবাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সেই সুবিধা দিতে পারছে না। এ কারণে এই মুহূর্তে আনসার আসার সম্ভাবনা নেই।"

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চুয়েট অধ্যাপক আরাফাতকে শিক্ষার্থীদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড প্রধান চ্যালেঞ্জ তারেক রহমানের ভারত সফরে: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড প্রধান চ্যালেঞ্জ তারেক রহমানের ভারত সফরে: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত বঙ্গোপসাগর সংলাপ-এর ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। তার মতে, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারত বা দুই দেশের সম্পর্কের কোনো উপকারে আসছে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটি হবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সফর। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দিল্লিতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।

হাসিনাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা হাসিনা সরকারের পতনে দেশের মানুষ জীবন দিয়েছে। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সূচনা প্রয়োজন।

তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, ভারত হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে বলে তিনি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনোই ভারত সফরে যাবেন না—এমন কথা বলেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লি তার মতামতকে গুরুত্ব দিলে সব পর্যায়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। দুই সরকার জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসলে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকায় বসে কেউ ভারতের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না উল্লেখ করে দিল্লির কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখবে। তবে পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনও বজায় রাখা হবে। পরিবর্তিত বাংলাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ, রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ, রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইবিরিইউ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্রধারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সাকিব আসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ছাত্রদলের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্র বহনের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামসহ অন্তত ৭/৮ সাংবাদিক আহত হন। গুরুতর আহত জাহিদুল ইসলামের মাথায় আঘাত লেগেছে বলেও গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয় এবং একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধির ওপরও ‘সন্ত্রাসী কায়দায়’ হামলা চালানো হয়।

নেতৃবৃন্দ জানান, এটি কেবল গর্হিত কাজ নয় বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং কণ্ঠরোধের একটি দুরভিসন্ধির অংশ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের মারধর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, হুমকি দেওয়া এবং পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি এবং সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় উঠে এসেছে, যা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

ইবিরিইউ অবিলম্বে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের দেওয়া তিন দফা দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বাধীন ও নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

ইবিরিইউ মনে করে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কেবল দুঃখপ্রকাশ বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস যথেষ্ট নয়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। রাষ্ট্রীয় বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রিতা ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা না থাকায় বারংবার হামলা করার দুঃসাহস পাচ্ছে নেতাকর্মীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামদানি শাড়ি ও বেলি ফুলের সাজে মায়াবতী পূর্ণিমার নজরকাড়া লুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


জামদানি শাড়ি ও বেলি ফুলের সাজে মায়াবতী পূর্ণিমার নজরকাড়া লুক

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। একসময় রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। "মনের মাঝে তুমি", "হৃদয়ের কথা", "আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা" এবং "ভালোবাসার লাল গোলাপ"সহ বেশ কিছু সিনেমায় তার অভিনয় আজও দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়ে রয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সৌন্দর্য এবং রুচিশীল সাজের জন্যও ভক্তদের নজর কাড়েন পূর্ণিমা। বাঙালিয়ানার ছোঁয়া কিংবা আধুনিক সাজ—যেভাবেই তিনি হাজির হন, তার উপস্থিতি সবসময় আলাদা করে নজর কাড়ে।

সম্প্রতি জামদানি শাড়িতে নিজেকে সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে তাকে দেখা গেছে বাঙালি নারীর চিরচেনা সাজে। পরনে নান্দনিক জামদানি শাড়ি, আর খোঁপায় ফুলের মালা। ঐতিহ্যবাহী এই সাজে পূর্ণিমার সৌন্দর্যে ফুটে উঠেছে স্নিগ্ধতা ও আভিজাত্যের মিশেল।

ছবিগুলোর সঙ্গে পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘জামদানির আবহ আর কখনো পুরোনো না হওয়া সৌন্দর্য...’। এই ছোট্ট বাক্যেই তিনি নিজের সাজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

পূর্ণিমার এবারের সাজে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। অতিরিক্ত চাকচিক্যের বদলে জামদানির ঐতিহ্য এবং খোঁপায় ফুলের মালার সরল সৌন্দর্যকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। এতে পুরো সাজে তৈরি হয়েছে মায়াবী ও নান্দনিক আবহ।

ছবিগুলো প্রকাশের পর পূর্ণিমার ভক্তদের অনেকেই মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজের সৌন্দর্যকে মিলিয়ে অভিনেত্রীর এই সাজ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সময় বদলালেও জামদানির আবেদন কখনো পুরোনো হওয়ার নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ সংক্রান্ত অভিনন্দন প্রস্তাবটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই বিষয়ে একটি অতিরিক্ত গেজেট জারি করা হয়।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রেখেছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গেজেটে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছিলেন। এরপর তার মা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনাকে বিরল ও অনন্য ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে মোট ২৩টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন।

এছাড়া ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এ প্রেক্ষাপটে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত ওই অভিনন্দন প্রস্তাব সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%