ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাহারোলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে অনুদান বিতরণ


কাহারোলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে অনুদান বিতরণ

দিনাজপুরের কাহারোলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সহায়তা প্রদানের কাজের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করতে দেখা গেছে।

শনিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে এসব উপকরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোকলেদা খাতুন মীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মনজুরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে, ২৪ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে, আর ১৬ জনকে ৭ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া, ১২ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ১২টি বাইসাইকেল এবং ৮টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ৮টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কাহারোল উপজেলার ১৫টি ঝড়াক্রান্ত ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ১৫ বান ঢেউটিন বিতরণ করেন এবং ঘর মেরামতের জন্য প্রতিটি পরিবারের জন্য ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করেন।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. শামীম আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোত্তালেব সরকার, উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নারায়ন মার্ডী, উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সদস্য সচিব রনিব মার্ডী, এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুলা উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা, ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁটের লক্ষ্য সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


তুলা উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা, ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁটের লক্ষ্য সরকারের

তুলার আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য এবং স্থানীয় বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশীয় তুলার আঁশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বর্তমানে, বাংলাদেশ ২.২৪ লাখ গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদন করে, যা দেশের বস্ত্র খাতের চাহিদার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশ পূরণ করে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিকতায়, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশ উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে পৌঁছানোর পর, ২০৫০ সালের মধ্যে এটি আরও বেড়ে ১৯ লাখ গাঁটে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) উপ-পরিচালক কুতুব উদ্দিন মন্তব্য করেন, হাইব্রিড তুলার জাত উদ্ভাবন, চাষযোগ্য জমির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের ধারাবাহিক প্রণোদনা সহায়তার মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত জমির ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করে বাংলাদেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশটি আমদানিকৃত তুলার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে এবং পোশাক খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন)কে আরও শক্তিশালী করা যাবে।

সিডিবির তথ্যমতে, বর্তমানে সারাদেশে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলার চাষ হয়, যদিও প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার প্রধানত চরাঞ্চল, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী উপযুক্ত সমতল ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব না ফেলেই তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের জন্য প্রতি বছর ৯০ লাখ গাঁট কাঁচা তুলার প্রয়োজন হয়, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশে পরিণত করেছে। এই চাহিদা পূরণ করতে বাংলাদেশ বছরে আনুমানিক ৭৫-৮০ লাখ গাঁট তুলা আমদানি করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় চাহিদার যোগান দিতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ৭৩ লাখ গাঁট কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়েছে, যা দেশের তুলা উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে।

সিবিডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশের উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে উন্নীত করতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব এবং বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যাবে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তুলা চাষীদের প্রণোদনা দেওয়া, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় তুলা চাষীদের আনা এবং কার্বন ট্রেডিং উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ সুবিধার সম্প্রসারণ।

বিশ্বের তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৪০তম। অন্যদিকে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ব্রাজিল বিশ্বে তুলা উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

তুলা কেবল দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল নয়, এটি থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপজাতও পাওয়া যায়। তুলার বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল তৈরি করা হয় এবং খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা এই ফসলের অর্থনৈতিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্বেও বাংলাদেশে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এখনো একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

সিডিবি উপ-পরিচালক ড. মো. তাসদিকুর রহমান বলেন, তুলা চাষ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি- এর মধ্যে রয়েছে নীতিগত পর্যালোচনার অভাব, ফসলের তুলনামূলক দীর্ঘ উৎপাদন সময়, অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসলের সাথে প্রতিযোগিতা, চাষযোগ্য জমির অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, মূল্যের ওঠানামা এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ।

তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সরকার ইতোমধ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বস্ত্র খাতকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

উৎপাদন ত্বরান্বিত করার জন্য তুলা চাষের এলাকা আরও সম্প্রসারণ, সিডিবির সাংগঠনিক সংস্কার, বৃহত্তর নীতিগত সহায়তা, তুলা চাষিদের জন্য মূল্য ভর্তুকি এবং বিশেষ কৃষি ঋণের প্রয়োজনীয়তার ওপরেও জোর দেন তিনি।

সরকারের সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিবিডি) মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. এম গাজী গোলাম মুর্তুজা বলেন, ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন। উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আরও বেশি তুলা চাষে উৎসাহিত করাই এই প্রণোদনা কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

তুলাকে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত করে ড. মুর্তুজা বলেন, পাট চাষ কমে যাওয়ায় এই ফসলটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খুব কম ফসলই আছে যা তুলার সমতুল্য আয় দেয়। কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করলে তাদের আয় বাড়ে এবং দেশের আমদানি ব্যয়ও কমে।

সিবিডির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, কৃষকদের জন্য তুলা চাষ অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়। তার মতে, এক বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদন করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যেখানে কৃষকরা প্রায় ১৫ মণ কাঁচা তুলা সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতি কেজি তুলা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলার আমদানি খরচ সাশ্রয় করে। যা স্থানীয় উৎপাদনকে কৃষক ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।

সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তুলার বীজ বপন করা হয় এবং ডিসেম্বরে তা কাটা হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উন্নত বীজ প্রযুক্তি এবং উন্নত চাষাবাদের পদ্ধতির পাশাপাশি জিনগতভাবে পরিবর্তিত তুলার জাতের প্রবর্তন উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং জলবায়ুগত পরিস্থিতি তুলা চাষের জন্য অনুকূল। বিশেষ করে দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য অঞ্চলের ৩২টিরও বেশি জেলায় উঁচু ও পাহাড়ি এলাকায় তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তা, চাষাবাদ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দশকগুলোতে অভ্যন্তরীণ তুলা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে, আমদানিকৃত কাঁচা তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে বিশ্লেষকদের পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে বিশ্লেষকদের পরামর্শ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমানে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতাকেই বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণে রেখে জনসম্পৃক্ত ইস্যু উত্থাপন এবং নীতি নিয়ে আলোচনায় সক্ষম হতে হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতিকে। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় পারদর্শী হতে হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অভিভাবক।

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভিভাবক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পদটি অনেক সময় অস্বস্তি এবং বিতর্কের সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার সরে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাধ্যবাধকতায় এখন প্রশ্ন উঠছে- ক্ষমতাসীন বিএনপি কি রাজনৈতিক নাকি অরাজনৈতিক কাউকে নির্বাচিত করবে?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ’২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জনগণের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম এই বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, দেশ কিন্তু একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অবস্থান করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে যে ধরনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করি, সেখানে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিরোধী দল, সরকারি দল—সব জায়গা থেকেই সমর্থন পাওয়া যাবে। জনগণের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির প্রতি আস্থা তৈরি হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান এবিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) পলিসিগুলো নিয়ে পুরোপুরি কথা বলার সমর্থন করবেন, প্রয়োজনে গাইডলাইনও দিতে সক্ষম হবেন। কোনো বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে সেটিও জানাতে সচেষ্ট হবেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে একজন অনুঘটক হিসেবে কাজ করবেন।’

বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক বিবেচনায় অতীত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বিএনপি নিজ মতাদর্শের কাউকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেবে। পাশাপাশি জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিকেও ক্ষমতাসীনরা নজরে রাখবে।

ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেছেন, ‘একদিকে বিএনপি এমন কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইবে না, যিনি পুরোপুরি নির্দলীয় বা নন-পার্টিজান। আবার জুলাই চার্টারে রাষ্ট্রপতিকে যে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে, বিএনপির যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, সেগুলিও তারা বিবেচনায় নেবে।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন—যেটিই হোক, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে। এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ছয়জনের নাম এখন পর্যন্ত বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে, যার মধ্যে চারজন বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য, একজন সাবেক বিচারপতি এবং অবশিষ্টজন সরকারি চুক্তিভিত্তিক একজন সচিব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় জালনোটের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


সাতক্ষীরায় জালনোটের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : জেলায় আজ জালনোট প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সাতক্ষীরা শাখার আয়োজনে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব ভবনে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক- এর খুলনা অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনজুর রহমান।

সোনালী ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (শাখা প্রধান) এ.এস.এম. আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিস, সাতক্ষীরার উপ-মহা ব্যবস্থাপক (ইনচার্জ) এ. কে. এম. ফারুক ফয়সল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা অফিসের যুগ্ম-পরিচালক (ব্যাংকিং) মো. মিজানুর রহমান।

কর্মশালায় জালনোট শনাক্তকরণ, জালনোটের প্রচলন রোধে করণীয় এবং জালনোট বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় উল্লেখ করা হয় যে, খুলনা বিভাগের জালনোট-সংক্রান্ত মামলার তালিকায় সাতক্ষীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। জেলায় মোট ৯০টি জালনোট-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩৩টি, আশাশুনিতে ১৩টি, কালিগঞ্জে ১২টি, শ্যামনগরে ৯টি, তালায় ৮টি, কলারোয়ায় ৭টি, দেবহাটায় ৫টি এবং পাটকেলঘাটায় ৩টি মামলা রয়েছে।

বক্তারা জালনোটের বিস্তার রোধে ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। একইসঙ্গে লেনদেনের সময় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নোট গ্রহণের এবং সন্দেহজনক নোট দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এ কারণে যাত্রী এবং কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত হবে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) বসানো হবে। এর সাথে যুক্ত থাকবে শতাধিক স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট।

পুরো টার্মিনাল কমপ্লেক্সজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ দিতে এই ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, এই নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে জটিল ইনডোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে। যেখানে রি-ইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও বিশাল কাঁচের দেয়াল রেডিও সংকেতকে দুর্বল করে দেয়।

৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিটের সাহায্যে অ্যাক্টিভ ডাস কাঠামোর মাধ্যমে সংকেত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই যাত্রী এবং কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের বিমান চলাচল প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করেই এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যাত্রী, এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ৪জি ও ৫জি উপযোগী নেটওয়ার্ক আগামী দিনে বিমানবন্দরের আধুনিক পরিচালনায় সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্রের জন্য একটি সম্প্রসারণযোগ্য যোগাযোগ কাঠামো তৈরি হবে।

৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরো তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধা।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয় হিসেবে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই টাকা মূলত মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডাস উপকরণ, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই ডিভাইসসহ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে খরচ হতে হবে।

রাজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হবে। অন্যদিকে দৈব এবং মূল্যবৃদ্ধিজনিত সম্ভাব্য খরচের জন্য ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নবনির্মিত এই টার্মিনালে এখনো ব্যাপক ইনডোর মোবাইল কভারেজের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, বিভিন্ন ইনডোর এলাকায় দুর্বল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পুরো টার্মিনালজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করাই নতুন এই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর লক্ষ্য।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রতিবছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রকল্প বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রবেশদ্বারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ও উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় গতি আনতে এবং পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বিমানবন্দর এবং অন্যান্য প্রধান জনবান্ধব স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%