বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৪৬ পি.এম
সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই বাংলাদেশিকে, যাদের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহ করা হচ্ছে, তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে একজনের নাম সাহেদুল ইসলাম (৩৭) এবং অপরজনের নাম রিশাদ তায়ানী (২৫)।
এর আগে, গত বুধবার, বিমানবন্দর থানার জিডিমূলে পুলিশের একটি টিম ওই দুইজনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পর তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ওই দুই যুবক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহ হওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে, সিঙ্গাপুর পুলিশ বিমানে করে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসারের হাতে তুলে দেয়।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) থেকে খবর পেয়ে ঢাকা ইমিগ্রেশনে ডিউটি অফিসারের কক্ষে তাদের হেফাজতে নিতে ব্যবস্থা করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুই যুবকের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায়, দুজনেই সিঙ্গাপুরে থাকার সময় বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত কি না, তারা কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা তা জানার জন্য ও আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জানার উদ্দেশ্যে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন। আদালত এই আবেদন শুনানির পর তাদের তিন দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় প্রদান করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আনোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছেন, ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি লম্বা পাড়া গ্রামে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে স্ত্রী ইসমতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌতুকের কারণে বিভিন্ন সময় ইসমতারা বেগমকে নির্যাতন করা হতো। অবশেষে যৌতুকের কারণে স্বামী আনোয়ার হোসেন তাকে হত্যা করেন। নিহতের ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ১৩ বছর ৭ মাস পর এ রায় প্রদান করা হলো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার যে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য যে, বাস্তুতন্ত্র এবং মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা একভাবে জড়িত। সুতরাং আজকের এই পরিবেশ মেলা এবং বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে আরও কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন সম্পর্কে আমরা সবাই কিছুটা অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছের মাধ্যমে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি। একজন নবজাতকের সঙ্গে একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন এগিয়ে যাক।
তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়। তবে মনে রাখতে হবে, ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কিসের মাটিতে, কী ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা উচিত, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু পরিবেশের জন্য এ ধরনের গাছ কেমন উপযোগী, তা অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তারেক রহমান বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা এবং তারা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটির নিশ্চিতকরণ তার চেয়েও বেশি জরুরি। স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমি আশা করি বনবিভাগ ব্যবস্থা নেয়। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর ভবিষ্যতের উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সর্বোপরি জন জীবনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায়, বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, সেটি শুধু কৃষকদের জন্য বছরজুড়ে কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপর নির্ভর করে না। রাজধানী এবং বিশেষ করে সারাদেশের প্রতিটি নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনাও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতির বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট-বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। আমি প্রতিটি নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছি, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। ঘর ও বাইরের সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থনে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন এবং পরিবারের জন্য পরিবেশ সুন্দর রাখুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা এবং সচেতন হওয়া গেলে সামনে দিনগুলোতে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা কমে আসা সম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালগুলোতে সব বয়সের ডেঙ্গু রোগী মিলছে। অন্যদিকে, আগের তুলনায় হামের রোগী সংখ্যা হাসপাতালগুলোতে কমে যাচ্ছে।
ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগে হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীরা পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় চার মাস ধরে চলতে থাকা হামের প্রকোপের কারণে অনেকেই হাম এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শিশু থেকে বৃদ্ধ বিভিন্ন রকমের রোগী আছে, যাদের মধ্যে অনেকেই তীব্র শরীর ব্যথা, জ্বর নিয়ে ভুগছেন। তারা কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকেই এখন সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন।
ডেঙ্গু থেকে রেহায় পেতে সচেতনতার বিকল্প নেই, জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। জ্বরের প্রথম দুই দিনের মধ্যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ তাদের।
প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হলেও তা ডেঙ্গু বা হামের লক্ষণ হতে পারে। তারা নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি না ঘটানোর দিকে মনোযোগ দেবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিকে, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানিয়েছেন যে, বুধবার উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে নিজেদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং তারপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলাটির মধ্যে মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সাক্ষ্য গ্রহণকালে বাদীর সাক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও মাত্র তিন দিন সময়ের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত ছয়জন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
মামলার আসামিরা হলেন: সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। এরা সকলেই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ