প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বর্তমান সরকার যে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য যে, বাস্তুতন্ত্র এবং মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা একভাবে জড়িত। সুতরাং আজকের এই পরিবেশ মেলা এবং বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে আরও কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন সম্পর্কে আমরা সবাই কিছুটা অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছের মাধ্যমে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি। একজন নবজাতকের সঙ্গে একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন এগিয়ে যাক।
তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়। তবে মনে রাখতে হবে, ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কিসের মাটিতে, কী ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা উচিত, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু পরিবেশের জন্য এ ধরনের গাছ কেমন উপযোগী, তা অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তারেক রহমান বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা এবং তারা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটির নিশ্চিতকরণ তার চেয়েও বেশি জরুরি। স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমি আশা করি বনবিভাগ ব্যবস্থা নেয়। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর ভবিষ্যতের উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সর্বোপরি জন জীবনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায়, বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, সেটি শুধু কৃষকদের জন্য বছরজুড়ে কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপর নির্ভর করে না। রাজধানী এবং বিশেষ করে সারাদেশের প্রতিটি নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনাও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতির বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট-বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। আমি প্রতিটি নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছি, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। ঘর ও বাইরের সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থনে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন এবং পরিবারের জন্য পরিবেশ সুন্দর রাখুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন