বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিকে, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানিয়েছেন যে, বুধবার উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে নিজেদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং তারপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলাটির মধ্যে মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সাক্ষ্য গ্রহণকালে বাদীর সাক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও মাত্র তিন দিন সময়ের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত ছয়জন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
মামলার আসামিরা হলেন: সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। এরা সকলেই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক বর্তমানে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সীমান্তের জাদুকাটা নদী ও রক্তি নদীর পানি বেড়ে গিয়ে এবং পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকা অবস্থিত ‘১০০ মিটার’ নামক জায়গাটি প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি, তবে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও স্থানীয় লোকজন চলাচল করছেন।
সূত্র থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সীমান্তের জাদুকাটা ও রক্তি নদীর পানি বুধবার (৮ জুলাই) থেকেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাশাপাশি তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। রক্তি নদীর পানি শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি বিপৎসীমার ০ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে আজ সকালে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা এলাকার ১০০ মিটার নামের স্থাপনাটি পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়।
তাহিরপুর আলিম মাদরাসার প্রভাষক আশিকুর রহমান বলেন, আমি সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শক্তিয়ারখলা এলাকায় পৌঁছালে দেখি, পাকা সড়কের বেশ কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেখানে পানি প্রায় দেড় ফুটের উপরে রয়েছে, ফলে সবাই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক জানান, ভারি বৃষ্টির ফলে জাদুকাটা এবং রক্তি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের একটি অংশ প্লাবিত হয়েছে। তিনি জানান, এই পানি বেশিক্ষণ থাকবে না।
বিশ্বম্ভরপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, সড়ক প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন যে, যে অংশটুকু প্লাবিত হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে এটি প্রতি বছর কয়েকবার প্লাবিত হয়ে থাকে। তিনি আরও জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢল কমলে সড়কের এই প্লাবিত অংশ আবার জেগে উঠবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তল্লাশির সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার এবং নতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার নাসিরাবাদ এলাকার মো. ফিরোজ (৪৬) এবং অপরজন হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মো. মিলন গাজী (৩৮)।
দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে একটি প্রাইভেটকারযোগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিল ইয়াবার একটি চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা টোল প্লাজার এলাকায় ওই প্রাইভেটকারটি আটক করে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় ওই যানবাহন থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। ঘটনাটির সাথে জড়িত দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ওরফে ইরা মনিকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যারভাবে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মূল অভিযুক্ত একমাত্র আসামি বাবু শেখ (৪৫) কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার আওতায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই রায় ঘোষণা করেন। এই সময় আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়টি শোনার পর শিশু ইরা মনির পরিবার দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ইরাকে আসামি ডাকেন। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করার পর যখন শিশুটি চিৎকার করে, তখন তাকে ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে রক্তাক্ত ও গলা কাটা অবস্থায় শিশু ইরা মনির জঙ্গল থেকে হেঁটে বের হয়ে শ্রমিকদের কাছে আশ্রয় নেয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় আজকের রায়টি ঘোষণা করা হলো। এই মামলায় মাত্র ১০ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত এই রায় প্রদান করলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার সময় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। এই গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- ১। মোঃ সাইদ (২৪) ২। আকাশ (২৩) ৩। মোঃ ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক (২৬) ৪। কর্ণেল (১৯) ৫। মোঃ মাইন উদ্দিন (২১) ৬। মোঃ সিফাত ওরফে হিটার (২২) এবং ৭। মোঃ নাহিদুল (২৫)। আদাবর থানা সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০:৪৫ ঘটিকায় আদাবর থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদ পাওয়ার পর জানাতে সক্ষম হয় যে, আদাবর থানাধীন শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডে ব্রিজের ঢালে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সামুরাই, চাপাতি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করায়, পালানোর চেষ্টা করে এমন সময় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান চলাকালে তাদের হেফাজত থেকে একটি লোহার চাপাতি, একটি স্টিলের ছোরা, দুটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার কুড়াল ও একটি লোহার শাবল উদ্ধার করা হয়েছে। আদাবর থানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছে।.
গ্রেফতারকৃত মোঃ মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিএমপির মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় ২টি মামলা রয়েছে, মোঃ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দিনাজপুর সদর থানায় ১টি মামলা রয়েছে এবং মোঃ সাইদ এর বিরুদ্ধে আদাবর থানায় ১টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনার পর আদাবর থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ