বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার জন্য আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত স্টাইপেন্ড বা শিক্ষাভাতায় থাকা, খাওয়া এবং দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব কি না? এর উত্তর এককভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক সময় স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও এটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের ওপর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন মওকুফ, স্বাস্থ্য বীমা এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ জানাচ্ছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধুমাত্র টিউশন নয়, ফি এবং জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। শহর থেকে শহরে থাকার খরচে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পেয়ে থাকেন, তবে শুধুমাত্র এই পরিমাণ দেখে ফান্ডিংয়ের মান ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য বীমার খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত টাকা থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের ভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে।
এডুকেশনইউএসএ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন মওকুফ এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এই ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে অত্যন্ত প্রচলিত।
শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম ভাড়ার বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু ভাড়া নয়, ভাড়া এবং পরিবহন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি।
খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পরিবহণের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহন নির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা উপশহরে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, গাড়ির বীমা, গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়।
এ কারণে একই পরিমাণ স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু ভাড়াতেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের পরিমাণের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মাস্টার্স এবং পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং প্রশাসনিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন মওকুফ অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
অতএব, যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার এবং ফান্ডিং অফারের শর্তগুলি ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ডের পরিমাণ, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা মওকুফ হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং স্বাস্থ্য বীমার কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের পরিমাণে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য ছানি দায়ী। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে দক্ষ সার্জনের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ২০০। ফলে চিকিৎসাযোগ্য এই রোগটি দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষের দৃষ্টিহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি হলেও ছানি অস্ত্রোপচারে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ সার্জনের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৮০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই হিসাবে অপেক্ষমাণ প্রতি ৮৩৩ রোগীর বিপরীতে একজন দক্ষ সার্জন রয়েছেন। প্রতিবছর নতুন করে ছানির রোগী যুক্ত হচ্ছেন এক লাখের বেশি।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সার্জনের অভাব, প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা না পৌঁছানো, রোগ শনাক্তকরণে দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব এবং নারী-পুরুষের চিকিৎসা পাওয়ার বৈষম্য ছানি চিকিৎসার প্রধান বাধা।
আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন করা হচ্ছে দেশে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘লাভ ইউর আইস’ বা চোখকে ভালোবাসুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহার এবং ছানি দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করানো গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও চক্ষুরোগ ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানিজনিত অন্ধত্বের দীর্ঘ ব্যাকলগে রয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে বছরে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ ছানি অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা রয়েছে। তবে প্রতিবছর নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
তার মতে, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর অতিরিক্ত অন্তত ২ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার করা না গেলে বিদ্যমান ব্যাকলগ কমানো কঠিন হবে। এজন্য রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে জেলা হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে সক্ষম করে তুলতে হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ২৫০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে এত বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানটিকে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ জনের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। রোগীদের প্রয়োজনীয় লেন্সও বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রেজওয়ানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২৫০ শয্যার জনবল কাঠামো নিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বয়স বাড়ার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াকে অনেকে স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। অথচ ছানি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, চোখের প্রাকৃতিক লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে দৃষ্টি ঝাপসা বা কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তীব্র আলো কিংবা গাড়ির হেডলাইটের সামনে দেখতে সমস্যা হওয়া ছানির অন্যতম লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে বা কাছের জিনিস দেখতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডা. রেজওয়ানুর রহমান জানান, ছানি রোগীদের বড় অংশ বয়স্ক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর। হাসপাতালে যাতায়াতের খরচ, সঙ্গে কাউকে নেওয়ার প্রয়োজন এবং চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে নারীরা আরও পিছিয়ে রয়েছেন।
দেশের আট জেলায় ২১ হাজার ৫৯৬ জনের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ছানি অস্ত্রোপচারের হার পুরুষদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
জাতীয় অন্ধত্ব জরিপ-২০২০ অনুযায়ী, দেশে ৩০ বছর ও এর বেশি বয়সীদের মধ্যে অন্ধত্বের হার প্রায় ১ শতাংশ। এ বয়সী জনগণের প্রতি ১০০ জনের প্রায় পাঁচজন কোনো না কোনো মাত্রার দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আনুমানিক ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৩ জন অন্ধত্ব নিয়ে বসবাস করছেন। এর মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি।
২০০০ সালের জরিপে বয়স ও লিঙ্গ সমন্বয় করা অন্ধত্বের হার ছিল ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২০ সালে তা কমে ১ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ দুই দশকে অন্ধত্বের হার কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার কমলেও চিকিৎসাযোগ্য অন্ধত্বের বোঝা এখনও বড়। গুরুতর দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণও ছানি।
শুধু ছানি নয়, চশমার অভাবেও দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দৃষ্টিসমস্যায় ভুগছেন। ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিত্রুটি থাকলেও চশমা ব্যবহারের সুযোগ পান মাত্র ২৬ শতাংশ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে চালসে, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের মধ্যেও অনেক সময় দৃষ্টিসমস্যা শনাক্ত হয় না।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ২০ বছরে অন্ধত্ব নিরসনে বড় সাফল্য এসেছে। ধীরে ধীরে এই সংখ্যা আরও কমবে বলে আশা করা যায়। সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বেসরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে ছানি অস্ত্রোপচার ও চোখের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলে জুনিয়র কনসালট্যান্টদের পদায়নের মাধ্যমে চশমার পাওয়ার নির্ধারণ, ছানি ও নেত্রনালির রোগ শনাক্তকরণ এবং অস্ত্রোপচারের মতো মৌলিক সেবা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী পাঁচ বছরে ছানি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে—এমন সব রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
বৈঠকে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরৎ আসার সাথে সাথে নীল আকাশ, সাদা মেঘ এবং বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল ঋতু পরিবর্তনের সংকেত দেয়। ব্যস্ত রাজধানী ঢাকার কংক্রিটের ভিড়েও নগরবাসী এই সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন খোলা মাঠ, নদীর পাড় এবং জলাভূমিতে সাদা কাশফুল ফুটে উঠেছে। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে এসব জায়গায় ঘুরে আসার সুযোগ রয়েছে নগরবাসীর।
ঢাকার নিকটবর্তী কাশফুল দেখার জন্য দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, পূর্বাচল, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, বসিলা-ওয়াশপুর এবং কেরানীগঞ্জের সারিঘাট আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।
ঢাকার ভেতর থেকেই কাশফুল দেখতে চাইলে উত্তরা দিয়াবাড়ি সহজ একটি গন্তব্য হতে পারে। উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরতের সময়ে কাশফুল দেখা যায়।
কাশবনের পাশে হাঁটা, ছবি তোলা অথবা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি লেকের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। দিয়াবাড়ি বটতলা থেকে সামনে ৩ নম্বর সেতুর দুই পাশে লেকের পাড়ে নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। আশপাশে খাবারের দোকান থাকায় বিকেলের ছোট ভ্রমণে বাড়তি আয়োজন করা সম্ভব।
দিয়াবাড়িতে যেতে মেট্রোরেল ব্যবহার করে উত্তরা উত্তর বা উত্তরা কেন্দ্র এলাকায় নেমে রিকশা অথবা স্থানীয় যানবাহনে যাওয়া যেতে পারে।
রাজধানীর ভেতর থেকেই শরতের আবহ উপভোগ করতে চাইলে আফতাবনগরও একটি ভালো বিকল্প। রামপুরা সেতুর দিক থেকে আফতাবনগরের ভেতরে বিভিন্ন খোলা জায়গায় কাশফুল দেখা যায়।
বিশেষ করে বিকেলের দিকে নরম সূর্যের আলোয় কাশফুলের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে এসব এলাকার অনেক কাশবন অনির্ধারিত বা খোলা জমিতে হওয়ায় সেখানে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে পথ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
কিছুটা দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে পূর্বাচল এবং ৩০০ ফিট এলাকার খোলা জায়গাগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট সড়ক ধরে পূর্বাচলের দিকে এগোলে বিভিন্ন স্থানে কাশফুলের দেখা মেলে।
বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর, বড় আকাশ এবং সাদা কাশফুল সব মিলিয়ে শরতের আবহ উপভোগের সুযোগ রয়েছে এখানে। তবে ছবি তুলতে গিয়ে ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়ানো বা রাস্তার ওপর অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঢাকার কাছাকাছি একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে ঘুরতে চাইলে আশুলিয়ার পথে যাওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে আশুলিয়ার দিকে যেতে যেতে বিভিন্ন জায়গায় কাশবনের দেখা মিলতে পারে।
এই পথে কাশফুলের পাশাপাশি খোলা জায়গা, জলাভূমি এবং গ্রামীণ পরিবেশও উপভোগ করা সম্ভব। নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় আটকে না থেকে পথের সুবিধাজনক এবং নিরাপদ স্থানে কিছুক্ষণ থেমে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যেতে পারে। তবে বের হওয়ার আগে সড়কের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।
কাশফুল দেখার পাশাপাশি নৌভ্রমণের সুযোগ চাইলে বিরুলিয়া আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। তুরাগ নদীর তীরে হওয়ায় এখানে নদীর পাড়ের সৌন্দর্যের সাথে নৌকায় ঘোরার সুযোগও রয়েছে।
বৃষ্টি এবং বর্ষার প্রভাবে কোথাও পানিতে ভরা জমি, আবার কোথাও নদীর পাড়ের সবুজের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে কাশফুল। ফলে বিকেলের ভ্রমণে কাশবন এবং নৌভ্রমণ দুটিই উপভোগ করা সম্ভব।
ঢাকার একেবারে কাছেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কেরানীগঞ্জের সারিঘাটও পছন্দের জায়গা হতে পারে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই এলাকায় শরতের সময়ে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে কাশফুল দেখা যায়।
নদী, সবুজ এবং সাদা কাশফুল মিলিয়ে সারিঘাটে তৈরি হয় অন্যরকম শরতের আবহ। বিকেলের দিকে গেলে রোদের তীব্রতাও কিছুটা কমে আসে। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে গেলে নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটা এবং ছবি তোলাই ভালো।
খুব বেশি দূরে যেতে না চাইলে মোহাম্মদপুরের বসিলা সেতুর ওপার, ওয়াশপুর এবং ঘাটারচরের দিকের খোলা জমি এবং নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও কাশফুলের দেখা মিলতে পারে।
তবে এসব এলাকার কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, নির্মাণাধীন এলাকা অথবা অনির্ধারিত খোলা জায়গা হতে পারে। তাই স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত জমিতে প্রবেশ না করাই নিরাপদ।
সাধারণত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত ঢাকার আশপাশে কাশফুলের সৌন্দর্য বেশি চোখে পড়ে। তবে জায়গাভেদে ফুল ফোটার সময় এবং স্থায়িত্বে পার্থক্য হতে পারে। বৃষ্টি এবং বাতাসের কারণে কাশফুল নুয়ে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সেদিনের আবহাওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো।
বিকেলের শেষভাগ কাশফুল দেখার জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক সময়। এই সময় ছবি তোলার জন্যও পাওয়া যায় নরম আলো।
তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে কাশফুল ছেঁড়া অথবা গাছ মাড়িয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। কাশবন অক্ষত থাকলেই শরতের এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব।
শরতের স্থায়িত্ব খুব বেশি নয়। তাই নীল আকাশ, সাদা মেঘ এবং দুলতে থাকা কাশফুলের এই মৌসুমে ব্যস্ত শহর থেকে অল্প সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়তে পারেন ঢাকার আশপাশের এসব গন্তব্যে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো একটি বিকেল হয়ে উঠতে পারে ছুটির দিনের দারুণ স্মৃতি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় অটোরিকশা ও ই-বাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি উল্লেখ করেন, দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন চারটি করে মোট আটটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া, প্রতিটি জোনে এসব যানবাহনের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে কোনো রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সরকার ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এর মধ্যে উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি জোন থাকবে।
চারটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রতিটি জোনের অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। যেমন, একটি জোনে সবুজ রঙের রিকশা থাকবে, অন্য জোনে থাকবে কমলা রঙের। এভাবে চারটি জোনে ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করা হবে, যাতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে না পারে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা নিয়ে রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাট পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। এই কারণে অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, যারা বর্তমানে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তারা যাতে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে রাজধানীতে যানজট সৃষ্টি করে মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করতে না পারেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটোরিকশাচালকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন। ফলে এটি শুধু অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো মহলের চেষ্টা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সরকারের প্রধান শক্তি জনগণ। অতএব কোনো ধরনের অরাজকতা বা অপশক্তিকে মোকাবিলা করা হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিবাদ করা হবে।
অটোরিকশা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, জোনভিত্তিক চাহিদার তালিকা করা হবে। সেই চাহিদা অনুযায়ী অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি জোনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকবে এবং সেই সংখ্যার বাইরে নতুন করে কেউ নিবন্ধনের সুযোগ পাবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ