প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার জন্য আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত স্টাইপেন্ড বা শিক্ষাভাতায় থাকা, খাওয়া এবং দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব কি না? এর উত্তর এককভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক সময় স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও এটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের ওপর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন মওকুফ, স্বাস্থ্য বীমা এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ জানাচ্ছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধুমাত্র টিউশন নয়, ফি এবং জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। শহর থেকে শহরে থাকার খরচে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পেয়ে থাকেন, তবে শুধুমাত্র এই পরিমাণ দেখে ফান্ডিংয়ের মান ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য বীমার খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত টাকা থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের ভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে।
এডুকেশনইউএসএ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন মওকুফ এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এই ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে অত্যন্ত প্রচলিত।
শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম ভাড়ার বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু ভাড়া নয়, ভাড়া এবং পরিবহন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি।
খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পরিবহণের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহন নির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা উপশহরে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, গাড়ির বীমা, গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়।
এ কারণে একই পরিমাণ স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু ভাড়াতেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের পরিমাণের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মাস্টার্স এবং পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং প্রশাসনিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন মওকুফ অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
অতএব, যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার এবং ফান্ডিং অফারের শর্তগুলি ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ডের পরিমাণ, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা মওকুফ হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং স্বাস্থ্য বীমার কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের পরিমাণে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন