০৮:৫৪ পি.এম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেন মুখোমুখি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ের তীব্র লড়াইয়ের শেষে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি অর্জন করেছে স্প্যানিশরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটি গ্রহণ করে স্পেনের দল। স্পেনের এই বিশ্বজয়ের আনন্দ ফিলিস্তিনজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষভাবে অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এই জয় কেবল ফুটবলের সাফল্য হিসেবে নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর স্পেনের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হয়ে উঠেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় তাঁবু অথবা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খেলা দেখা সম্ভব হয়নি। ফলে গাজার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে শত শত ফিলিস্তিনি ক্যাফে ও খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে ম্যাচটি উপভোগ করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সাথে সেই জমায়েত এক স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপনে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনি শিশুরা ও তরুণেরা স্পেনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে এবং করতালির মাধ্যমে স্প্যানিশ দলকে অভিনন্দন জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি নৃশংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গাজার শিশুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দের এই বিরল মুহূর্তটি উদযাপন করছে।
ওমানের সমাজকর্মী শাবান আহমেদ আল-আজিলিসহ অনেকেই এক্সে লিখেছেন, গাজা তার পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের কখনো ভুলবে না; এই জয় কেবল ফুটবলের নয়, এটি ধ্বংসস্তূপ ও গণহত্যার বেদনার ভেতর থেকে আসা কৃতজ্ঞতার একটি প্রকাশ।
ফুটবল মাঠের এই জয়ের ফলে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক মহলেও দারুণ সাড়া ফেলেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় এই জয়কে একটি ‘মহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা বাসেম নাঈম স্পেনের এই বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিন ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসের মতো শহরগুলোতেও শত শত ফিলিস্তিনি স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে রাস্তায় বিজয় মিছিল করেছে।
ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট আলা আল-লাকতা এবং মোহামদ সাবানেহ তাদের চিত্রের মাধ্যমে লামিন ইয়ামালসহ স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরে দুই দেশের পারস্পরিক সংহতি তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বার্সেলোনার লা লিগা জয়ের উদযাপনেও ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচু করেছিলেন।
ফিলিস্তিনিদের এই বাঁধভাঙা উল্লাসের মূল কারণ হচ্ছে স্পেনের প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। যা ইসরায়েলকে ক্ষুব্ধ করে। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বসতি স্থাপনের ওপর কড়াকড়ি এবং তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ। সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক চুক্তি স্থগিত করার আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনের উন্নয়ন তহবিল বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার পরাজয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আরও একটি স্বস্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে, কারণ আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন প্রকাশ করে আসছেন। যদিও আর্জেন্টিনার সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলা রিমাউই উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলি গণমাধ্যম এবং কর্মকর্তারা রাজনৈতিক কারণে স্পেনের পরাজয় কামনা করেছিল এবং এক ইসরায়েলি রাব্বি স্পেনের হারের জন্য প্রার্থনাও করেছিলেন। সকল বৈরিতা ও যুদ্ধকালীন কষ্টের মাঝে স্পেনের এই বিশ্বজয় ফিলিস্তিনিদের মনে এক টুকরো আনন্দ এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের পাশে থাকা বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এক অনন্য উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন