ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভিডিও ফাঁসের ভয়, জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যার নেপথ্যে কী?


ভিডিও ফাঁসের ভয়, জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যার নেপথ্যে কী?

হত্যার ঘটনার আগের রাত পর্যন্ত জোবায়েদ ও তার সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। ঘটনার দিন আসলে ওই ছাত্রকে পড়াতে গৃহশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসাইন। কিন্তু তিনি ওই বাসা থেকে আর জীবিত ফিরে আসেননি। প্রায় ৯ মাসের তদন্তের পর পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে তার হত্যা করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই ছিল এ হত্যার মূল কারণ। নজরদারি, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, অস্ত্র কেনা, গতিবিধি অনুসরণসহ সব প্রস্তুতি শেষে তার হত্যা সম্পন্ন হয়।

প্রায় ৯ মাসের তদন্তের শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত হিসেবে বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে (২১) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং আয়লান ছিলেন সহযোগী। অভিযোগপত্রে ৫০ জনের সাক্ষ্যের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামতের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা নামের এক বাসার সিঁড়ি থেকে পুলিশ জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ভবনে তাকে বর্ষা পড়াতেন। একদিন পর মৃত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জোবায়েদ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন এবং ফরাশগঞ্জে মেসে বসবাস করতেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বর্ষা ও মাহির ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে চিনতেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

মোবাইল ফরেনসিক বিশ্লেষণে জোবায়েদ ও বর্ষার অন্তরঙ্গ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মাহিরের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক আবার শুরু হলে, জোবায়েদের কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তাঁকে 'হুমকি' হিসেবে দেখছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উঠে এসেছে, এ কারণেই গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনায় লিপ্ত হন। এক মাস ধরে বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে শেষ পর্যন্ত হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তে জানা যায়, হত্যার ৮ থেকে ৯ দিন আগে মাহির ও তাঁর বন্ধু আয়লান ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি কেনেন। কয়েকদিন ধরে জোবায়েদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্ষা নিয়মিত জোবায়েদের টিউশনে আসা যাওয়ার তথ্য মাহিরকে জানাতেন। ১৯ অক্টোবর ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে জোবায়েদ নিজের লাইভ লোকেশন বর্ষাকে পাঠান। এই তথ্য পাওয়ার পরেই মাহির ও আয়লান হামলা চালান।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, জোবায়েদের ঘাড়ে প্রায় ১০ ইঞ্চি লম্বা সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়, ছুরির আঘাতে জোবায়েদের গলার ডান পাশের ক্যারোটিড আর্টারি ও ইন্টারনাল জুগুলার ভেইন ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া ছুরিতে মাহিরের ডিএনএ পাওয়া যায়।

অভিযোগপত্রে মাহিরের দেওয়া জবানবন্দির উদ্ধৃতি রয়েছে। সেখানে মাহির বলেছেন, বর্ষা তাকে নিয়মিত জোবায়েদকে হত্যা করতে চাপ দিতেন। ধরা পড়লে কি হবে—এমন প্রশ্ন করলে বর্ষা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তাদের পরিবারে অনেক আইনজীবী আছেন।

মাহির তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘মারার পর ধরা পড়লে সামলাবো কেমনে—বর্ষাকে এই প্রশ্ন করলে বর্ষা উত্তর দেয়, তাঁর (বর্ষার) বাসায় অনেক অ্যাডভোকেট আছেন। কোথায় মারা যায়? এই প্রশ্নে বর্ষা জানায়, বর্ষার বাসার নিচে সুনশান নীরবতা, সেখানে মারলে সুবিধা হবে। বর্ষা আমাকে প্রতিনিয়ত মারার জন্য চাপ দিত। ঘটনার দিন ১৯ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে বর্ষা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘কখন মারবা।’

জবানবন্দি অনুযায়ী, জোবায়েদ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বর্ষার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাহির ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে আঘাত করেন। তিনি আয়লানকে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসতে বললে আয়লান যাননি।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

তদন্তে দেখা যায়, হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েদ কোনোভাবে সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে বর্ষার সামনে হাজির হন এবং তাকে বাঁচানোর আকুতি জানালে বর্ষা তাকে বলেন, তোর মতো পাপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়া উচিত।

পুলিশের দাবি, হত্যার কয়েকদিন আগেই মাহির ও আয়লান জোবায়েদকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন। বর্ষাকে আর না পড়ানোর জন্য সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু জোবায়েদ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আশরাফ হোসেন বলেন, হত্যার আগের রাত পর্যন্তও বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকার মতো কথোপকথন ছিল। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্ষা খুব ধূর্তভাবে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। ফলে জোবায়েদ কোনোভাবে হত্যার পরিকল্পনার আভাস পাননি।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি ১৩ জুলাই জিআরও শাখায় পৌঁছেছে। সেই দিন যথাসময়ে উপস্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় আগামী ১২ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের নতুন সময় নির্ধারণ করেছে আদালত।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু।

তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে দেওয়া ডিএনএ প্রতিবেদন মাহিরের সঙ্গে মিলে গেছে। এছাড়া অভিযোগপত্রে তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার সুযোগ নেই। কেউই ছাড় পাবেন না।

অভিযুক্ত বর্ষার মা আনিকা রহমান ১৪ জুলাই বলেন, আমি আগেই বলেছি, আমার মেয়ে নির্দোষ। এখনো বলছি, আমার মেয়ে নির্দোষ।

এদিকে জোবায়েদের বড় ভাই ও মামলার বাদী এনায়েত হোসেন বলেন, অভিযোগপত্রে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা জরুরি: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা জরুরি: শামা ওবায়েদ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণের সুযোগ একদম নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার শিকার হবেন। শেখ হাসিনাসহ ভারতে থাকা অন্যান্য আসামিদের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং সেখানে তার কোনো অফিশিয়াল স্ট্যাটাস নেই। এছাড়া তার কাছে কোনো পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল ডকুমেন্ট নেই, তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই ছবিযুক্ত প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর এবং রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নতুন কোনো দেশের সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি জিইয়ে রেখে আরো ঘনীভূত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি এবং কূটনৈতিক ও অকূটনৈতিক বিভিন্ন চ্যানেলে আলোচনা চলমান রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ক্যানসার হাসপাতালে বিমান হামলা, ২১১ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


ইরানের ক্যানসার হাসপাতালে বিমান হামলা, ২১১ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হলো

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের খুব কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজারের বরাতে আজ বৃহস্পতি বার (১৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বাঘায়ি স্পেশালাইজড হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে গেছে। হামলায় হাসপাতালের ভেতরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও নিরাপত্তার জন্য সব রোগীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বো’আজার আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে ২১১ জন রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ক্যানসার রোগী সহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাধীন অনেক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন।

হামলার বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মী আল জাজিরাকে বলেন, হাসপাতালের আশপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। তিনি জানান, ‘এখানে ক্যানসার রোগীসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাধীন রোগীরা ভর্তি ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালের চারপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। অনেক রোগী অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ শিশুদের কোলে নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইন নিয়ে, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। সবাইকে দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক্সে এক পোস্ট করে বলেন, এই হামলা ছিল বর্বরোচিত এবং এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইসরাইলের হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘এই বর্বরোচিত হামলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি শিশু ও অন্যান্য রোগীরা চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মুখে পড়েছেন।’ তিনি জানান, কেমোথেরাপি গ্রহণরত ২১১ জন রোগীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল খালি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইসাথে হামলার লক্ষ্যবস্তু হাসপাতাল ছিল কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন কোনো মন্তব্য করেনি।

আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় হরমুজ প্রণালীর কাছের কেশম দ্বীপের পাশাপাশি বন্দর আব্বাস এবং চাবাহার এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পাল্টা হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে ‘অঞ্চলজুড়ে সব অবকাঠামো ইস্পাতের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় নদীতে নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


কচুরিপানা পরিষ্কারের সময়  নদীতে নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে সাদিক (২৬) নামে ফায়ার সার্ভিসের এক ডুবুরি নিখোঁজ হয়েছেন। সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নিখোঁজ ডুবুরিকে উদ্ধার করতে নদীতে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ সাদিকের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামে। কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য গত বছর সেরা ডুবুরি হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির আশপাশে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা জমে থাকায় নৌযান চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। সকালে স্পিডবোট নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন সাদিক। একপর্যায়ে তিনি স্পিডবোট থেকে পানিতে পড়ে নদীতে তলিয়ে যান। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উপ-সহকারী পরিচালক আরও জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ সহকর্মীকে খুঁজতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাদিকের কোনো খোঁজ মেলেনি।

এদিকে, সাদিকের নিখোঁজের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা শীতলক্ষ্যা নদীর ডালপট্টি ফায়ার ঘাটে ছুটে আসেন। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিখোঁজ সাদিকের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ কামাল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

টালিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। কিছু মাস ধরে তার পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তিনি নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে এই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে, তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভায় যাওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক পদত্যাগ করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন এই টালি অভিনেত্রী।

গত জুনে কোয়েল মল্লিক যখন প্রথমবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়েছিল, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি নিজে হাজির হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সেই সময় অভিনেত্রী দেশের বাইরে থাকায় তার এই পদত্যাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অবশেষে আজ দিল্লিতে গিয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি সেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন।

কোয়েল মল্লিকের এই পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সংখ্যা এখন ৯-এ দাঁড়াল। দলটির একের পর এক সংসদ সদস্যের এভাবে পদত্যাগ করার কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

দিল্লির রাজনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, পদত্যাগের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎ করেছেন কোয়েল মল্লিক। এই সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তৃণমূলের চারজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর কোয়েল মল্লিক কি তবে এবার বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন?

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস যখন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে, তখন সেখানে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় ও মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি বড় চমক হিসেবে ছিল কোয়েল মল্লিকের নাম। এরপর গত এপ্রিলে দিল্লিতে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।

শপথগ্রহণের পর এই টালি তারকা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এমন নয়। তবে এটি অনেক বড় একটি মহৎ দায়িত্ব। দেশ ও মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় কোনো মহৎ কাজ আর হতে পারে না।’ তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় কোন পরিস্থিতিতে তিনি ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%