বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৮ পি.এম
ভারত আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগের বিষয়টি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকাকে জানায়। একই দিন বিকেলে সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র বা অ্যাগ্রিমোঁর একটি অনুলিপি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ১৩ জুলাই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নাম ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ভারত এখন আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করেছে।
আসাদ আলম সিয়াম বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ইতিমধ্যে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিয়ামের নয়াদিল্লির দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
সিয়ামের নিয়োগের বিষয়ে ভারতের সম্মতি আসার আগে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টে তাঁর নিয়োগের আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিতে দেরি হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ভারতের সম্মতি পাওয়ার পর এ নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটেছে।
আসাদ আলম সিয়াম ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেন এবং তিনি একজন পেশাদার কূটনীতিক। তিনি বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিয়াম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরে তিনি নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিচট স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়, হাওয়াইয়ের এপিসিএসএস, সিউলের আইএফএএনএস এবং ঢাকার জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বেশ কয়েকটি পেশাদার কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
বিদেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, পালাউ, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালক ছিলেন। ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টরের দায়িত্বও পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। অসংখ্য দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিয়েছেন এবং ভিয়েনায় জাতিসংঘের কার্যালয় ও ওপেক তহবিলে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। ব্যাংককে ইউএন এসক্যাপে বাংলাদেশের বিকল্প স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ পান আসাদ আলম সিয়াম। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেয়। পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
নয়াদিল্লিতে সিয়ামের নিয়োগ এমন একটি সময়ে চূড়ান্ত হলো, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ চলছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ঢাকার জন্য অন্যতম কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতিও কিছুটা মন্থর ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লি মিশনের জন্য প্রশাসনের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কূটনীতিককে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর আগে ভারত সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।
সিয়ামের নতুন দায়িত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি সম্ভাব্য ওই সফরের কূটনৈতিক প্রস্তুতিতেও তাঁকে ভূমিকা রাখতে হবে।
দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের বিষয়টিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের দায়িত্ব হবে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় কাজ করা। তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাই নতুন দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই আদেশটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত থেকে আসে।
মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাকসুদাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মাকসুদাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য তদন্তে সহায়ক হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাকসুদার পক্ষে আদালতে কোনো আবেদন করা হয়নি।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালত মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় তার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
মামলাটি ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।
মামলার বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকসুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়েতে তার মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ছিল।
বাদীর দাবি, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে তাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। বাসায় পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান, ভেতরের একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছেন। পরে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের বিছানার ওপর তার নিজের লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা আলোচনায় আসে। গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে তার ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের জামিন পান। এবার মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই আসামি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি কালিয়াকৈর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিয়াকৈর বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিনার উদ্দিন। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন।
মিনার উদ্দিন বলেন, "বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ছয় থেকে সাড়ে ছয় মাস সময় পেয়েছে। এরই মধ্যে দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, "দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাপথে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, রেলপথে আগুন দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
মিনার উদ্দিন আরও বলেন, "বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।"
তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজপথে রয়েছেন। আগামী দিনেও দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজপথে থাকবেন।"
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান নাসির উদ্দিন, গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সদস্য কিরণ মাহমুদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি শমসের তালুকদার, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য কবির হোসেন, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, ওমর ফারুক, হুমায়ুন কবির, রেজাউল করিমসহ শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পরে মিছিলটি কালিয়াকৈর বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
আব্দুল আলীম অভি
কালিয়াকৈর
তারিখ ২২-০৯-২০২৬ ইং
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে আর নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার সকালে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন ব্যাপকভাবে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। বর্তমানে অনুমোদিত ক্লিনিকগুলো যদি সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করে, সেক্ষেত্রেও সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট অ্যান্টিভেনম থাকার পরও সাপের কামড়ে রোগী মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, সাপ কামড়ানোর পর রোগীকে বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনেক সময় হাসপাতালে আসতে দেরি হওয়ায় রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়। তাই সাপ দংশনের সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর মাস থেকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ১০ জন রোগীকে একসঙ্গে ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টারও চালু করা হবে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরলে মন্ত্রী তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন তিথি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত ফারজানা খানসহ আরও অনেকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর সবজির বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবহণ ব্যয়ের বৃদ্ধি কারণে বিভিন্ন সবজির দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য বাড়তি দামের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মান্ডা-মুগদা সবজি বাজার পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, শিমের দাম প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, টমেটো বর্তমানে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা পূর্বে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। শসার দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, করলার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, পটলের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঝিঙার দাম ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। কুমড়ার ফালি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামেই রয়েছে। মাঝারি চালকুমড়ার বর্তমান মূল্য ৬০ টাকা প্রতিপিস।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি রাজধানীতে আনতে ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহণের উপর নির্ভর করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এসব যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাড়তি পরিবহণ ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।
ফজলুল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, "জ্বালানির দাম বাড়ার পর সবজি আনতে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। মোকামে মালের দাম বাড়তি। তাই বাধ্য হয়ে কিছু সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে।"
আরেক ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, "সবজির দাম শুধু আমাদের কারণে বাড়ছে না। কৃষকের কাছ থেকে কেনা, পরিবহণ, শ্রমিকের খরচসহ সব মিলিয়ে বাজারে পণ্য তুলতে খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা দামে পড়ছে। পাইকারি কিনতে তো বেশি দাম দিতেই হচ্ছে।"
অন্যদিকে, বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা ওলিয়ার রহমান জানান, "নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সবজির দামও বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। আগে যে সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।"
ইদ্রিস নামের আরেক ক্রেতা বলেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়তে পারে। কিন্তু এর প্রভাব যেন সব পণ্যের দামে একসঙ্গে না পড়ে, সেটি সংশ্লিষ্টদের দেখা দরকার। সাধারণ মানুষের আয় তো একইভাবে বাড়ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ