বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৯ পি.এম
কালিয়াকৈরে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি কালিয়াকৈর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিয়াকৈর বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিনার উদ্দিন। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন।
মিনার উদ্দিন বলেন, "বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ছয় থেকে সাড়ে ছয় মাস সময় পেয়েছে। এরই মধ্যে দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, "দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাপথে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, রেলপথে আগুন দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
মিনার উদ্দিন আরও বলেন, "বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।"
তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজপথে রয়েছেন। আগামী দিনেও দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজপথে থাকবেন।"
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান নাসির উদ্দিন, গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সদস্য কিরণ মাহমুদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি শমসের তালুকদার, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য কবির হোসেন, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, ওমর ফারুক, হুমায়ুন কবির, রেজাউল করিমসহ শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পরে মিছিলটি কালিয়াকৈর বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
আব্দুল আলীম অভি
কালিয়াকৈর
তারিখ ২২-০৯-২০২৬ ইং
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে আর নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার সকালে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন ব্যাপকভাবে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। বর্তমানে অনুমোদিত ক্লিনিকগুলো যদি সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করে, সেক্ষেত্রেও সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট অ্যান্টিভেনম থাকার পরও সাপের কামড়ে রোগী মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, সাপ কামড়ানোর পর রোগীকে বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনেক সময় হাসপাতালে আসতে দেরি হওয়ায় রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়। তাই সাপ দংশনের সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর মাস থেকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ১০ জন রোগীকে একসঙ্গে ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টারও চালু করা হবে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরলে মন্ত্রী তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন তিথি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত ফারজানা খানসহ আরও অনেকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর সবজির বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবহণ ব্যয়ের বৃদ্ধি কারণে বিভিন্ন সবজির দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য বাড়তি দামের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মান্ডা-মুগদা সবজি বাজার পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, শিমের দাম প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, টমেটো বর্তমানে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা পূর্বে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। শসার দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, করলার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, পটলের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঝিঙার দাম ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। কুমড়ার ফালি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামেই রয়েছে। মাঝারি চালকুমড়ার বর্তমান মূল্য ৬০ টাকা প্রতিপিস।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি রাজধানীতে আনতে ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহণের উপর নির্ভর করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এসব যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাড়তি পরিবহণ ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।
ফজলুল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, "জ্বালানির দাম বাড়ার পর সবজি আনতে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। মোকামে মালের দাম বাড়তি। তাই বাধ্য হয়ে কিছু সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে।"
আরেক ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, "সবজির দাম শুধু আমাদের কারণে বাড়ছে না। কৃষকের কাছ থেকে কেনা, পরিবহণ, শ্রমিকের খরচসহ সব মিলিয়ে বাজারে পণ্য তুলতে খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা দামে পড়ছে। পাইকারি কিনতে তো বেশি দাম দিতেই হচ্ছে।"
অন্যদিকে, বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা ওলিয়ার রহমান জানান, "নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সবজির দামও বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। আগে যে সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।"
ইদ্রিস নামের আরেক ক্রেতা বলেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়তে পারে। কিন্তু এর প্রভাব যেন সব পণ্যের দামে একসঙ্গে না পড়ে, সেটি সংশ্লিষ্টদের দেখা দরকার। সাধারণ মানুষের আয় তো একইভাবে বাড়ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন।
বিশ্বনেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় তার সময় অতিবাহিত হচ্ছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। এই কার্যক্রমের মধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নির্ধারিত ভাষণসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
নিউইয়র্ক সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈশিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক বিষয়াবলি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো মূল বিষয়গুলোতে আলোকপাত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউএনজিএ-তে অংশগ্রহণের প্রথম দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদল প্রধান ও তাদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ সভায় তিনি যোগদান করেন।
এরপর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেন।
দিনব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমে’র সঙ্গে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও তিনি অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী দিনভর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
সন্ধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলোর মূল কেন্দ্রে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকবে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ সভায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন। গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: আ রিনিউড কল ফর আ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার ভাষণ।
সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বিকেলের সেশনের ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এবং তার বক্তব্যের জন্য ১৫ মিনিটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওইদিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলার ওপর আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে তিনি যোগদান করবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত ১৫ সার ডিলারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ আসামি জামিনের জন্য হাজির হন। শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের মধ্যে একজনকে জামিন প্রদান করেন এবং বাকি ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জন্য জামিন নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে তার জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে যাওয়া সার ডিলারদের মধ্যে রয়েছেন—সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া ও মো. বাদশা মিয়া।
গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার কালোবাজারে বিক্রি করেন। এসব সারের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া ৮২১ টন ডিএপি সার, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ১৩৪ টন টিএসপি সার, যার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মান্নান জানান, মামলার ২০ আসামি বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহ করে জামিন নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালত ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ