বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:১৭ পি.এম
অনলাইন প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভুয়া পরিচয়ে বার্তা পাঠানো, এককালীন গোপন নম্বর হাতিয়ে নেওয়া, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার মতো বিভিন্ন কৌশলে প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপও বর্তমানে প্রতারকদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। তবে কিছু সহজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করলে এই ঝুঁকিগুলো অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
প্রথমে, অচেনা নম্বরের কল বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নিন। অপরিচিত নম্বর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে কল এলে বিরক্তি অনুভবের পাশাপাশি প্রতারণার ঝুঁকিও থাকছে। সেজন্য, অচেনা নম্বরের কল নীরব রাখার সুবিধাটি চালু করলে সেই নম্বরের কল আর আপনার ফোনে বাজবে না। তবে কলের তথ্য তালিকায় দেখা যাবে।
দ্বিতীয়ত, অচেনা নম্বরের তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করুন। অপরিচিত নম্বর থেকে যখনই বার্তা আসে, সেটি আপনার পরিচিত তালিকায় আছে কি না, সাধারণ কোন গ্রুপে যুক্ত আছে কি না কিংবা এটি নতুন নম্বর কি না—এসব তথ্য দেখে নম্বরটির বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়।
তৃতীয়ত, স্ক্রিন শেয়ার করার আগে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ভিডিও কলে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় প্রতারকরা অনেক সময় ব্যাংকিং তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই অপরিচিত কারও অনুরোধে কখনোই স্ক্রিন শেয়ার করা উচিত নয়।
চতুর্থত, নতুন যন্ত্রে সংযোগের সতর্কবার্তার প্রতি গুরুত্ব দিন। আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ হোয়াটসঅ্যাপ অন্য যন্ত্রে চালু করার চেষ্টা করলে এর জন্য সতর্কবার্তা আসে। সেই ধরনের বার্তা পেলে যদি আপনি নিজে অনুরোধ না করে থাকেন তবে সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল করুন।
পঞ্চমত, দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করুন। হোয়াটসঅ্যাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো দুই ধাপের যাচাই। এটি চালু থাকলে এককালীন গোপন নম্বরের পাশাপাশি অতিরিক্ত ছয় সংখ্যার গোপন নম্বর প্রদান করতে হয়। ফলে অন্য কেউ সহজে আপনার হিসাবে প্রবেশ করতে পারে না।
নিরাপদ থাকার জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কখনোই এককালীন গোপন নম্বর বা যাচাই নম্বর অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করবেন না। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সন্দেহজনক সংযোগে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন। ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে কেউ ভিডিও কল বা স্ক্রিন শেয়ার করার অনুরোধ করলে সতর্ক থাকুন। পাশাপাশি নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ আপডেট করলে সর্বশেষ নিরাপত্তা সুবিধাগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করলেই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব এবং হোয়াটসঅ্যাপ হিসাবকে সাইবার প্রতারকদের হাত থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় হঠাৎ করে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের সবাইকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় জনের স্বাস্থ্যগত অবস্থান বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী থানার পশ্চিমবঙ্গ বানু মেম্বার টেক পৌরসভা এলাকার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ঘটে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা মেডিকেল ওয়ান এসআই আলা উদ্দিন নিশ্চিত করে জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, শ্রমিকরা যখন কাজের মধ্যে ছিলেন, তখন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই বিপর্যয়ের কারণে ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে তৎক্ষণাত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধ ১০ শ্রমিকের মধ্যে আছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার রুহুল আমিনের ছেলে দিদারুল আলম (৩২), রাঙ্গুনিয়া থানার বিরাজ মোহন দাশের ছেলে উজ্জ্বল দাশ (৫৩), সদরঘাট থানার আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগড়া থানার ছালে আহমদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজান থানার মৃত আমিনুল হকের ছেলে জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালী থানার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮), বোয়ালখালী থানার নূর চ্চাপার ছেলে নূর নবী (২৫), পটিয়া থানার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলম (৪৫), পটিয়া থানার খায়ের আহমদের ছেলে মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশ থানার আলতাজ মিয়ার ছেলে সেলিম উদ্দিন (৩০)।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, দগ্ধদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ আমরা বিশ্ব সাপ দিবস পালন করছি। সাপ হলো পৃথিবীর অন্যতম ভুল বোঝা প্রাণী। এর কারণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই প্রতি বছর ১৬ জুলাই এই দিনটি উদ্যাপন করা হয়।
সাপের নাম শুনলেই অনেকের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে সাপের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০ হলেও এর মধ্যে বিষধর সাপের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এই অর্থে, সব সাপ মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়।
মানুষের সমাজে সাপকে ঘিরে নানা নেতিবাচক ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। কাউকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ‘সাপ’ বলে সম্বোধন করা থেকে শুরু করে লোককাহিনি ও বিভিন্ন গল্পে সাপকে ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব কারণে মানুষের মনে সাপ সম্পর্কে অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়ে গেছে।
তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বহু প্রাচীন সভ্যতা ও ধর্মে সাপের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। সনাতন ধর্মে সাপকে দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। আবার প্রাচীন মিশরীয়রা সাপকে দেবতার প্রতীক মনে করতেন। তারা বিশ্বাস করতেন, সাপের প্রতীক তাদের সুরক্ষা দেয়। সুতরাং, তারা পোশাক ও অলংকারে সাপের নকশা ব্যবহার করতেন।
আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে একটি জনপ্রিয় লোককাহিনি রয়েছে। সেখানে বলা হয়, এক ধর্মপ্রচারক পাহাড়ে দীর্ঘদিন উপবাস থাকার সময় সাপের আক্রমণের শিকার হন। পরে তিনি দ্বীপ থেকে সব সাপকে সমুদ্রে তাড়িয়ে দেন। গবেষকদের মতে, এটি কেবল একটি কিংবদন্তি, বাস্তব ঘটনা নয়।
চীনের লোককাহিনিতেও সাপের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। সেখানে বিশাল আকৃতির সাদা সাপকে পানির দেবতা হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। মানুষের ও সাপরূপী দেবীর প্রেম নিয়েও বহু গল্প ও নাটক তৈরি হয়েছে। তবে এসব কাহিনির শেষভাগে সাপকে ভয়ংকর রূপে দেখানো হয়েছে, যা মানুষের মনে সাপ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা আরও বাড়িয়েছে।
গ্রিক পুরাণেও সাপের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে এক দেবীর মাথাভর্তি জীবন্ত সাপের বর্ণনা রয়েছে, যা আজও বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পৌরাণিক কাহিনির অংশ হয়ে আছে।
গবেষকদের ধারণা, সাপের পূর্বপুরুষ ছিল স্থলচর টিকটিকি জাতীয় প্রাণী। প্রায় ১৬৭ মিলিয়ন বছর আগে বর্তমান ইংল্যান্ড অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন জীবাশ্ম সাপের অস্তিত্ব ছিল বলেও জানা গেছে।
বিশ্ব সাপ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে জানানো যে, সব সাপ বিষধর নয় এবং অযথা ভয় বা ভুল ধারণার কারণে এই প্রাণীকে হত্যা না করে প্রকৃতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে ৪২তম ক্যাডেট এসআইদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড মাঠে এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারী ও ৪৮১ জন পুরুষসহ মোট ৫০০ শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন।
প্যারেড পরিদর্শন শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
এক বছর মেয়াদি এই প্রশিক্ষণে বেস্ট ক্যাডেট হিসেবে শাহরিয়ার হাসান সিজান, বেস্ট একাডেমিক হিসেবে সাইফুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ ক্যাডেট তৌকির আহমেদ, বেস্ট সুইমার আশরাফুল ইসলাম ও বেস্ট শুটার কামরান শেখ পুরষ্কার পেয়েছেন।
পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির বক্তব্যে বলেছেন, ‘সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর মত অপরাধ এখন আমদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষতার বিকল্প নেই। নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে, প্রতিনিয়ত আপডেট হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক এর মত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’
আইজিপি আলী হোসেন ফকির আরও জানিয়েছেন, ‘সব প্রকার ভয়ভীতি, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে মামলা তদন্ত, সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
পুলিশের নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্য করে আইজিপি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নিরপরাধ, বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। পুলিশ সদস্যদের আচরণ দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রমাণ দিতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।’
সারদা পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য মোট ৫০০ এসআই ছিলেন। তারা ২০২৫ সালে সারদায় বনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু করেন। আজ তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। এরপর তারা মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় এক দীর্ঘ সময় ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকট চলমান রয়েছে। এই সংকটের কারণে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এবং জলাবদ্ধতার ফলে পানিও দূষিত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার ফলস্বরূপ বছরের পর বছর ধরে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি।
রাজধানীর পূর্ব রামপুরার পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি গলিতে প্রতিদিনের সকালে, সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সন্ধানে বের হচ্ছেন। কেউ বোতল, কেউ বালতি কিংবা ড্রাম নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এলাকার একটি পাম্পে। রান্না, গৃহস্থালির প্রায় সকল কাজের জন্য বর্তমানে তাদের ভরসা হচ্ছে এই পাম্পের পানি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসা কর্তৃক সরবরাহিত পানিতে দুর্গন্ধ ও ঘোলাভাব রয়েছে। ফলে, সেই পানি ব্যবহার করে অনেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, লাইনে আসা পানি গাদাগাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত। এই পানি পান করার ফলে নানা ধরনের অসুখের সৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি শরীরেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সংকটের জন্য ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা, দোকান এবং বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় নোংরা ড্রেনের পানি খাবার পানির সঙ্গে মিশে যায়। এক বাসিন্দা জানান, অল্প বৃষ্টিতেই এলাকায় পানি জমে যায়, কারণ রাস্তা ও অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। পানি জমে গেলে, ময়লা পানির মধ্যে লাইনের অংশ ডুবে যায়।
আরেক বাসিন্দার মত, ড্রেন ও সুয়ারেজ লাইনের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকে। নিয়মিত পানির বিল এবং ট্যাক্স প্রদান করলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা জানান, সমস্যার কথা জানালে এক সংস্থার দায়ভার অন্য সংস্থা উপর চাপানো হয়।
এক বাসিন্দা বলেন, সুয়ারেজ লাইন সঠিক করা সবচেয়ে জরুরি। এ বিষয়ে তারা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন উভয়েই অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ওয়াসাকে দোষারোপ করে এবং ওয়াসা সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করে।
তবে, সিটি করপোরেশনের কোনো গাফিলতির কারণে পানি সরবরাহে সমস্যা হলে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, যদি ড্রেনের পানি ওয়াসার পাইপে প্রবাহিত হয়ে যায়, তবে ধরে নিতে হবে পানির পাইপে কোথাও ফেটে গেছে, যা মেরামতের কাজ ওয়াসার। একইভাবে, সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে সমস্যা হলে তা সমাধানও তারা করবেন।
এদিকে, অবৈধ সংযোগের কারণে সুয়ারেজ লাইনে ময়লা মিশছে জানিয়ে ওয়াসা জানিয়েছে, সমন্বিতভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন কৌশলে পানির পাইপে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়। যার ফলস্বরূপ, দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে প্রবাহিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে।
পূর্ব রামপুরার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই দুর্ভোগের দ্রুত সমাপ্তি চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ