বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:২৮ পি.এম
আজ আমরা বিশ্ব সাপ দিবস পালন করছি। সাপ হলো পৃথিবীর অন্যতম ভুল বোঝা প্রাণী। এর কারণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই প্রতি বছর ১৬ জুলাই এই দিনটি উদ্যাপন করা হয়।
সাপের নাম শুনলেই অনেকের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে সাপের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০ হলেও এর মধ্যে বিষধর সাপের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এই অর্থে, সব সাপ মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়।
মানুষের সমাজে সাপকে ঘিরে নানা নেতিবাচক ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। কাউকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ‘সাপ’ বলে সম্বোধন করা থেকে শুরু করে লোককাহিনি ও বিভিন্ন গল্পে সাপকে ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব কারণে মানুষের মনে সাপ সম্পর্কে অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়ে গেছে।
তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বহু প্রাচীন সভ্যতা ও ধর্মে সাপের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। সনাতন ধর্মে সাপকে দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। আবার প্রাচীন মিশরীয়রা সাপকে দেবতার প্রতীক মনে করতেন। তারা বিশ্বাস করতেন, সাপের প্রতীক তাদের সুরক্ষা দেয়। সুতরাং, তারা পোশাক ও অলংকারে সাপের নকশা ব্যবহার করতেন।
আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে একটি জনপ্রিয় লোককাহিনি রয়েছে। সেখানে বলা হয়, এক ধর্মপ্রচারক পাহাড়ে দীর্ঘদিন উপবাস থাকার সময় সাপের আক্রমণের শিকার হন। পরে তিনি দ্বীপ থেকে সব সাপকে সমুদ্রে তাড়িয়ে দেন। গবেষকদের মতে, এটি কেবল একটি কিংবদন্তি, বাস্তব ঘটনা নয়।
চীনের লোককাহিনিতেও সাপের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। সেখানে বিশাল আকৃতির সাদা সাপকে পানির দেবতা হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। মানুষের ও সাপরূপী দেবীর প্রেম নিয়েও বহু গল্প ও নাটক তৈরি হয়েছে। তবে এসব কাহিনির শেষভাগে সাপকে ভয়ংকর রূপে দেখানো হয়েছে, যা মানুষের মনে সাপ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা আরও বাড়িয়েছে।
গ্রিক পুরাণেও সাপের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে এক দেবীর মাথাভর্তি জীবন্ত সাপের বর্ণনা রয়েছে, যা আজও বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পৌরাণিক কাহিনির অংশ হয়ে আছে।
গবেষকদের ধারণা, সাপের পূর্বপুরুষ ছিল স্থলচর টিকটিকি জাতীয় প্রাণী। প্রায় ১৬৭ মিলিয়ন বছর আগে বর্তমান ইংল্যান্ড অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন জীবাশ্ম সাপের অস্তিত্ব ছিল বলেও জানা গেছে।
বিশ্ব সাপ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে জানানো যে, সব সাপ বিষধর নয় এবং অযথা ভয় বা ভুল ধারণার কারণে এই প্রাণীকে হত্যা না করে প্রকৃতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে ৪২তম ক্যাডেট এসআইদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড মাঠে এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারী ও ৪৮১ জন পুরুষসহ মোট ৫০০ শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন।
প্যারেড পরিদর্শন শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
এক বছর মেয়াদি এই প্রশিক্ষণে বেস্ট ক্যাডেট হিসেবে শাহরিয়ার হাসান সিজান, বেস্ট একাডেমিক হিসেবে সাইফুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ ক্যাডেট তৌকির আহমেদ, বেস্ট সুইমার আশরাফুল ইসলাম ও বেস্ট শুটার কামরান শেখ পুরষ্কার পেয়েছেন।
পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির বক্তব্যে বলেছেন, ‘সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর মত অপরাধ এখন আমদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষতার বিকল্প নেই। নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে, প্রতিনিয়ত আপডেট হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক এর মত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’
আইজিপি আলী হোসেন ফকির আরও জানিয়েছেন, ‘সব প্রকার ভয়ভীতি, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে মামলা তদন্ত, সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
পুলিশের নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্য করে আইজিপি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নিরপরাধ, বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। পুলিশ সদস্যদের আচরণ দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রমাণ দিতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।’
সারদা পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য মোট ৫০০ এসআই ছিলেন। তারা ২০২৫ সালে সারদায় বনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু করেন। আজ তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। এরপর তারা মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় এক দীর্ঘ সময় ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকট চলমান রয়েছে। এই সংকটের কারণে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এবং জলাবদ্ধতার ফলে পানিও দূষিত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার ফলস্বরূপ বছরের পর বছর ধরে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি।
রাজধানীর পূর্ব রামপুরার পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি গলিতে প্রতিদিনের সকালে, সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সন্ধানে বের হচ্ছেন। কেউ বোতল, কেউ বালতি কিংবা ড্রাম নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এলাকার একটি পাম্পে। রান্না, গৃহস্থালির প্রায় সকল কাজের জন্য বর্তমানে তাদের ভরসা হচ্ছে এই পাম্পের পানি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসা কর্তৃক সরবরাহিত পানিতে দুর্গন্ধ ও ঘোলাভাব রয়েছে। ফলে, সেই পানি ব্যবহার করে অনেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, লাইনে আসা পানি গাদাগাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত। এই পানি পান করার ফলে নানা ধরনের অসুখের সৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি শরীরেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সংকটের জন্য ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা, দোকান এবং বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় নোংরা ড্রেনের পানি খাবার পানির সঙ্গে মিশে যায়। এক বাসিন্দা জানান, অল্প বৃষ্টিতেই এলাকায় পানি জমে যায়, কারণ রাস্তা ও অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। পানি জমে গেলে, ময়লা পানির মধ্যে লাইনের অংশ ডুবে যায়।
আরেক বাসিন্দার মত, ড্রেন ও সুয়ারেজ লাইনের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকে। নিয়মিত পানির বিল এবং ট্যাক্স প্রদান করলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা জানান, সমস্যার কথা জানালে এক সংস্থার দায়ভার অন্য সংস্থা উপর চাপানো হয়।
এক বাসিন্দা বলেন, সুয়ারেজ লাইন সঠিক করা সবচেয়ে জরুরি। এ বিষয়ে তারা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন উভয়েই অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ওয়াসাকে দোষারোপ করে এবং ওয়াসা সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করে।
তবে, সিটি করপোরেশনের কোনো গাফিলতির কারণে পানি সরবরাহে সমস্যা হলে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, যদি ড্রেনের পানি ওয়াসার পাইপে প্রবাহিত হয়ে যায়, তবে ধরে নিতে হবে পানির পাইপে কোথাও ফেটে গেছে, যা মেরামতের কাজ ওয়াসার। একইভাবে, সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে সমস্যা হলে তা সমাধানও তারা করবেন।
এদিকে, অবৈধ সংযোগের কারণে সুয়ারেজ লাইনে ময়লা মিশছে জানিয়ে ওয়াসা জানিয়েছে, সমন্বিতভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন কৌশলে পানির পাইপে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়। যার ফলস্বরূপ, দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে প্রবাহিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে।
পূর্ব রামপুরার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই দুর্ভোগের দ্রুত সমাপ্তি চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের আঘাত। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় পরাজয়ের পরে হতাশা ও ক্ষোভের মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডের শিবির। এই হতাশারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল ম্যাচ শেষে, যেখানে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ড তারকা জুড বেলিংহাম আর্জেন্টাইন তরুণ ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বারকোর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন।
বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড দীর্ঘ সময় এগিয়ে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র পরিবর্তন করেন লিওনেল মেসি। তার দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। এর ফলে ২-১ ব্যবধানে জয় অর্জন করে আর্জেন্টিনা ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অন্য দিকে উল্লাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদযাপনের এক পর্যায়ে বারকো ইংল্যান্ড শিবিরের দিকে কিছু মন্তব্য করেন। এর ফলে বেলিংহাম ক্ষুব্ধ হয়ে তার মাথায় চড় মারেন বলে ভিডিওতে দৃশ্যমান হয়। জবাবে বারকোও বেলিংহামকে ধাক্কা দেন। পরে দুই দলের খেলোয়াড়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বেলিংহামের আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা। টুর্নামেন্টজুড়ে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে প্রশংসিত হওয়া এই মিডফিল্ডারের এমন আচরণ অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেলিংহাম জানান, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি।
এদিকে ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর প্রধান কোচ টমাস টুখেলও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। শেষ মুহূর্তে রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠলেও টুখেল জানান, দলের রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে সেই পরিবর্তন করেছিলেন।
ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের অভিযান এখানেই শেষ হয়নি। আগামী শনিবার তারা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের উপকূলে জুনের শেষ সময়ে এবং জুলাইয়ের শুরুতে পৃথক দুটি বড় নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) যৌথভাবে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনের বেশি আরোহী বহনকারী দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটতে পারে—এমন প্রতিবেদনে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নৌকা দুটি জুনের শেষ দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এসব নৌকায় মূলত দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা ছিলেন।
এদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন।
উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছরই বহু রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে যাত্রা করেন। এসব যাত্রায় তারা প্রায়ই মানবপাচারকারী চক্রের দ্বারা পরিচালিত জরাজীর্ণ নৌকা ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২৫০ জন আরোহী বহনকারী একটি নৌকার সঙ্গে যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াদি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য এই ব্যাপক প্রাণহানিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার সময় ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই দুই সংস্থা বলেছে, সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
একই সঙ্গে বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে সংস্থাগুলো। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সৃষ্টির মূল কারণগুলো দূর করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ