শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৯ পি.এম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘পিএমও বাংলাদেশ’ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি বার্তার মাধ্যমে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের উষ্ণ শুভেচ্ছা। আপনার এই বিশেষ দিনটি বারবার ফিরে আসুক। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার উৎসর্গীকৃত সেবা সর্বদা সুস্বাস্থ্য ও উচ্চ মনোবল সমৃদ্ধ হোক-এই কামনা করি।’
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ফেসবুক পোস্টে নরেন্দ্র মোদির ছবি সংবলিত একটি কার্ড প্রকাশ করে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বার্তা তুলে ধরা হয়।
এই পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এক্সে তারেক রহমানের পোস্ট শেয়ার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আপনার আন্তরিক শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনার সদয় কথাগুলোকে আমি গভীরভাবে মূল্যায়ন করছি।’
উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদি ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের ভাদনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তরুণ বয়স থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা মোদি ২০০১ সালের অক্টোবরে প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর থেকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সাফল্য শুরু হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর দক্ষতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনার পর ২০১৪ সালে তিনি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশটির সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য হলো নারী ও পুরুষের আয়ের বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশ্বব্যাপী নারীরা এখনও পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান। ধারণা করা হয়, গড়ে নারী ও পুরুষের মজুরির ব্যবধান প্রায় ২০ শতাংশ।
এই বৈষম্য বোঝাতে বলা হয় যে, পুরুষরা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যে পরিমাণ আয় করেন, নারীদের একই পরিমাণ আয় করতে বছরের শেষ পর্যন্ত কাজ করতে হয়। অর্থাৎ, পুরুষ সহকর্মীর এক বছরের সমান আয় করতে নারীদের প্রায় আরও তিন মাস কাজ করতে হতে পারে।
কেন মজুরিতে পিছিয়ে নারীরা?
নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো গভীরভাবে প্রোথিত বৈষম্য। বিশেষ করে অভিবাসী নারীদের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এর ফলে তাদের কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাবের মুখোমুখি হতে হয়।
এছাড়া, নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা বেশি অবৈতনিক যত্নের কাজ করেন, যার মধ্যে গৃহস্থালির কাজ, শিশু ও বয়স্কদের দেখাশোনার মতো দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাতৃত্বও মজুরি ব্যবধান বৃদ্ধির একটি কারণ। কর্মজীবী মায়েরা অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম মজুরি পান। সন্তানের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
নারী-পুরুষ সম্পর্কিত প্রচলিত সামাজিক ধারণা, নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং পদোন্নতির সিদ্ধান্তেও বৈষম্য মজুরি ব্যবধান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
কমছে ব্যবধান, তবে গতি ধীর
নারী-পুরুষের সমান মজুরির নীতির প্রতি ব্যাপক সমর্থন থাকলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করার অগ্রগতি ধীর। নারী ও মেয়েদের সমতা ও ক্ষমতায়নের পথে ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং সম্পদ ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অসমতা এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাতেও নারী-পুরুষের সমতা ও সব নারী ও মেয়ের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সব নারী ও পুরুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, শোভন কাজ এবং সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সমান মজুরি কেন জরুরি?
সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সমান মজুরি কনভেনশনে সমান মূল্যের কাজের জন্য নারী ও পুরুষের সমান মজুরির নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের মধ্যে আলোচনা, সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং যৌথ দর-কষাকষিকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
জাতিসংঘ, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সরকার, নাগরিক সমাজ, নারী সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমান মজুরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
সমান মজুরি আন্তর্জাতিক জোট
বিশ্বজুড়ে নারী ও পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সমান মজুরি আন্তর্জাতিক জোট। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগ।
এই জোট সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক এবং তাদের সংগঠনকে একসঙ্গে নিয়ে নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধান কমানোর জন্য বাস্তব ও সমন্বিত পদক্ষেপে সহায়তা করে।
বর্তমানে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধান কমাতে কাজ করা অন্যতম প্রধান বহু-পক্ষীয় উদ্যোগ হিসেবে এই জোট কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ফলে, ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক থেকে তার সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকা ছোট করা হয়েছে। অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরটি একটি ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতিফলন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর মধ্যে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সমস্যা সহ একাধিক আলোচনার আয়োজন করবে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চিজ বা পনিরের কথা বললে সাধারণত পিৎজা, পাস্তা এবং বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ছবি মনে আসে। কিন্তু যদি এক কেজি পনিরের দাম এক হাজার ইউরোরও বেশি হয়, তাহলে তা অবশ্যই বিস্ময়কর। আরও বিস্ময়কর হলো, এই পনিরটি গরু বা ভেড়ার দুধে তৈরি নয়, বরং বিরল প্রজাতির গাধার দুধে উৎপাদিত।
বিশ্বের অন্যতম দামি পনিরের নাম ‘পুলে’। সার্বিয়ার জাসাভিকা এলাকায় উৎপাদিত এই বিশেষ পনিরের নামের অর্থ ‘গাধার বাচ্চা’। দুষ্প্রাপ্য গাধার সংখ্যা, অল্প পরিমাণ দুধ, জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিরলতার কারণে এর দাম এত বেশি।
যেভাবে শুরু পুলের গল্প
পুলের উৎপত্তি ১৯৯৭ সালে ঘটে। সার্বিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও পরিবেশবিদ স্লোবোদান সিমিচ সার্বিয়ার জাসাভিকা বিশেষ প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বলকান জাতের গাধা সংরক্ষণ করা।
একসময় সেখানে গাধার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়। তখন সিমিচ ভাবতে শুরু করেন, বিপুল পরিমাণ গাধার দুধ নিয়ে কী করা যায়। পরে বেলগ্রেডের একজন পনির প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যৌথভাবে এই দুধ দিয়ে পনির তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এভাবেই তৈরি হয় বিশ্বের প্রথম গাধার দুধের পনির পুলে।
যে কারণে এত দাম
পুলের দাম এত বেশি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো এর উৎপাদন প্রক্রিয়া। একটি গাধী দিনে দুই লিটারেরও কম দুধ দেয়। অন্যদিকে, একটি কেজি পুলে পনির তৈরির জন্য প্রায় ২৫ লিটার দুধ প্রয়োজন।
গাধার দুধ সংগ্রহ করাও সহজ নয়। যন্ত্রের সাহায্যে গাধার দুধ দোয়ানো সম্ভব নয়। গাধার বাচ্চাকে সামনে রেখে মানুষের হাতেই দিনে তিনবার দুধ সংগ্রহ করতে হয়। আবার গাধীর দুধ পেতে তার বাচ্চা হওয়ার পর অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়।
সব মিলিয়ে অল্প দুধ, বেশি শ্রম এবং দীর্ঘ সময়ের কারণে এই পনিরের উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত।
কীভাবে তৈরি হয় পুলে?
পুলে পুরোপুরি গাধার দুধ দিয়ে তৈরি হয় না। এতে প্রায় ৬০ শতাংশ গাধার দুধের সঙ্গে ৪০ শতাংশ ছাগলের দুধ মেশানো হয়।
বিশেষ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে দুধ জমাট বাঁধানো হয়। এরপর প্রায় ৫০ গ্রামের ছোট ছোট পনির তৈরি করা হয়। এগুলোকে বিশেষ ছাঁচে ঢেলে সোনালি পিরামিডের মতো আকৃতি দেওয়া হয়।
স্বাদ ও গঠনের দিক থেকে এটি কিছুটা স্পেনের মানচেগো পনিরের মতো। পনিরটি তুলনামূলকভাবে ভঙ্গুর, হালকা হলদেটে এবং স্বাদে মৃদু মিষ্টি-টক।
গাধার দুধে গরুর দুধের তুলনায় ভিটামিন সি-এর পরিমাণও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুরুতে খেতে চাননি অনেকেই
পুলে তৈরির শুরুতে সিমিচের বন্ধুরা এই পনির খেতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর খ্যাতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ধনী রুশ ব্যবসায়ী থেকে ইউক্রেনের ব্যাংকার—অনেকেই শুধুমাত্র এই পনিরের স্বাদ নিতে সার্বিয়ার ওই খামারে ছুটে আসেন বলে জানা যায়।
সার্বিয়ায় স্থানীয়ভাবে পাতলা করে কাটা পুলে পনিরের সঙ্গে শূকর বা গাধার মাংসের সসেজ এবং স্থানীয় ফল থেকে তৈরি ব্র্যান্ডি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে।
ক্লিওপেট্রা ও হিপোক্রেটিসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ইতিহাস।
গাধার দুধ নিয়ে বহু পুরোনো নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা সৌন্দর্য ধরে রাখতে গাধার দুধে গোসল করতেন। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিসও গাধার দুধকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে এসব ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে পুলে পনিরের আধুনিক জনপ্রিয়তার সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
চাইলেই মিলবে না এই পনির
পুলের বিরলতার আরেকটি কারণ হলো এর আইনি সীমাবদ্ধতা। সার্বিয়ার সরকারি দুগ্ধজাত পণ্যের তালিকায় গরু, ছাগল ও ভেড়ার দুধের উল্লেখ থাকলেও গাধার দুধের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে আইনি অনুমোদন বা স্বীকৃতি নেই।
ফলে এই পনির বিদেশে রপ্তানি করা বা বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তাই পুলের স্বাদ নিতে হলে সার্বিয়ার জাসাভিকা সংরক্ষণ এলাকার সেই খামারেই যেতে হয়।
অল্প দুধ, বিরল গাধার জাত, কঠিন উৎপাদন প্রক্রিয়া, সীমিত সরবরাহ এবং আইনি বাধা—সব মিলিয়ে পুলে শুধু একটি পনির নয়, খাবারের জগতের এক বিরল ও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধুমাত্র অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। নতুন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে মার্কিন নাগরিকদের চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন এবং আমেরিকান শ্রমিক ফেডারেশন-শিল্প সংস্থাগুলোর কংগ্রেসের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক চাকরিতে বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা কাজ করছেন।
‘নাগরিকত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক অভিবাসন বহিষ্কারের ফলে শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি হতে পারে। নির্মাণ, আতিথেয়তা এবং পরিচর্যার মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে অর্থনৈতিক নীতি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে রয়েছে।
তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির হিসাব নয়। অর্থাৎ ৬০ লাখ চাকরি নিশ্চিতভাবে হারাবে—এমন দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮১০ কোটি কম ভ্রমণ এবং ৩০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত কম খরচ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর প্রতি সপ্তাহে ১ কোটি থেকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত বিক্রি কমার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিস শহরের নিজস্ব হিসাবেও ওই অভিযানের কারণে ব্যবসা ও শ্রমিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা উঠে এসেছে।
অভিবাসন ধরপাকড়ের শ্রমবাজারে প্রভাব নিয়ে মে মাসে প্রকাশিত জাতীয় অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর একটি গবেষণাতেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি ধরপাকড় হওয়া এলাকায় অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে।
গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কৃষি, নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে এর প্রভাব বিশেষভাবে দেখা গেছে।
তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান হলো, অভিবাসন আইন কার্যকর করার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানো তাদের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফলে মূল বিতর্ক হলো—অভিবাসন ধরপাকড় মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমিক সংকট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমিয়ে শ্রমবাজারে উল্টো চাপ তৈরি করবে।
নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি এবং মজুরি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রয়েছে। তবে ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাবটি একটি প্রক্ষেপণ। এর বাস্তব ফল অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল বিষয়, শ্রমবাজার এবং অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপরও নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ