শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধুমাত্র অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। নতুন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে মার্কিন নাগরিকদের চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন এবং আমেরিকান শ্রমিক ফেডারেশন-শিল্প সংস্থাগুলোর কংগ্রেসের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক চাকরিতে বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা কাজ করছেন।
‘নাগরিকত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক অভিবাসন বহিষ্কারের ফলে শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি হতে পারে। নির্মাণ, আতিথেয়তা এবং পরিচর্যার মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে অর্থনৈতিক নীতি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে রয়েছে।
তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির হিসাব নয়। অর্থাৎ ৬০ লাখ চাকরি নিশ্চিতভাবে হারাবে—এমন দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮১০ কোটি কম ভ্রমণ এবং ৩০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত কম খরচ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর প্রতি সপ্তাহে ১ কোটি থেকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত বিক্রি কমার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিস শহরের নিজস্ব হিসাবেও ওই অভিযানের কারণে ব্যবসা ও শ্রমিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা উঠে এসেছে।
অভিবাসন ধরপাকড়ের শ্রমবাজারে প্রভাব নিয়ে মে মাসে প্রকাশিত জাতীয় অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর একটি গবেষণাতেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি ধরপাকড় হওয়া এলাকায় অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে।
গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কৃষি, নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে এর প্রভাব বিশেষভাবে দেখা গেছে।
তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান হলো, অভিবাসন আইন কার্যকর করার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানো তাদের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফলে মূল বিতর্ক হলো—অভিবাসন ধরপাকড় মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমিক সংকট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমিয়ে শ্রমবাজারে উল্টো চাপ তৈরি করবে।
নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি এবং মজুরি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রয়েছে। তবে ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাবটি একটি প্রক্ষেপণ। এর বাস্তব ফল অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল বিষয়, শ্রমবাজার এবং অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপরও নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছিল ছয় বছর বয়সে, যখন প্রথম হাতে কোদাল তুলে নেন। এরপর থেকে থামার নাম নেই। কবর খুঁড়তে খুঁড়তে ৮২ বছর কেটে গেছে। তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন। গাইবান্ধা শহরের মমিনপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সোবহান টুলু অগণিত মানুষের শেষ বিদায়ের সাক্ষী। স্থানীয়রা তাকে ‘টুলু চাচা’ বলে ডাকেন। মানুষের শেষযাত্রার প্রস্তুতি নিতে তার জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে। কখনও ভোরে, কখনও গভীর রাতে—মৃত্যুর খবর এলেই তিনি কবরস্থানে ছুটে যান। তার লক্ষ্য মানুষের শেষ সম্মান নিশ্চিত করা।
আবদুস সোবহান টুলুর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ১৯৫০ সালে, মাত্র ছয় বছর বয়সে, বড় ভাই ও স্থানীয়দের সঙ্গে পৌর গোরস্তানে গিয়ে প্রথম কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। এরপর নিয়মিতভাবে কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে যুক্ত হন। পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বিনা পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন। ১৯৮৯ সালে পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পান। তখন তার মাসিক বেতন ছিল পাঁচ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে নয় হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
দিন কিংবা রাত— শহরের কোথাও মৃত্যুর খবর এলেই টুলু চাচার ডাক পড়ে। যখন একটি পরিবার স্বজন হারানোর শোকে মুহ্যমান, তখন তিনি নীরবে কবর খুঁড়ে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
টুলু মিয়া বলেন, "কখনও ভোর হওয়ার আগেই ছুটতে হয়েছে। কখনও গভীর রাতে। নির্জন কবরস্থানে কাজ করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেখেছি ক্ষত-বিক্ষত লাশ। কবর থেকে আগুন বের হতে দেখেছি। জিন দেখার গল্পও শুনেছি। তবে এসবের কোনো প্রমাণ পাইনি।"
এত অল্প বেতনে এত দীর্ঘ সময় এই কাজ করে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা— জানতে চাইলে টুলু মিয়া বলেন, "তেমন আক্ষেপ নেই। মানুষের শেষ বিদায়ের কাজে থাকতে পারাটাকেই সৌভাগ্য মনে করি।" তার ভাষায়, "আল্লাহকে খুশি রাখতে পারাটাই আমার একমাত্র আরাধনা।" অভাব ছিল, এখনও আছে। কিন্তু কাজ কখনও ছাড়িনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজটি করে যেতে চাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে শাহিনুর বেগম চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় টুলু মিয়ার। অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। ১৯৬০ সালে জেলা শহরের পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
তাদের সংসারে সাত মেয়ে সন্তান। বর্তমানে চার মেয়ে জীবিত।
স্বামীর কবর খোঁড়ার কাজকে গর্বের সঙ্গে দেখেন স্ত্রী শাহিনুর বেগম। তবে বিয়ের পর বিষয়টি তার কাছে এতটা সহজ ছিল না। তিনি বলেন, "মাঝরাতে কারও মৃত্যুর খবর এলেই ঘুম থেকে উঠে চলে যেতেন। এমনও হয়েছে, ভাত খেতে বসেছি—হঠাৎ ডাক এসেছে। ভাত রেখেই চলে গেছেন। প্রথম দিকে খুব বিরক্ত লাগত। পরে বুঝেছি, এটা শুধু তার কাজ নয়, দায়িত্ব।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, টুলু মিয়ার কাজ কেবল কবর খোঁড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় তিনি নিজ উদ্যোগে কাফনের কাপড়, বাঁশসহ দাফনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে দেন।
৫৫ বছর বয়সী রেজাউন্নবী রাজু বলেন, "আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই টুলু এই কাজ করেন। তার মতো মানুষ সমাজের গর্ব।"
মুনশিপাড়ার বাসিন্দা জাভেদ হোসেন বলেন, "এলাকায় কেউ মারা গেলে মসজিদে ঘোষণা হলেই তাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি কবর খোঁড়ার পাশাপাশি কাফনের কাপড়, বাঁশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করে দেন। এমন নির্লোভ মানুষ এখন খুবই কম।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রধান কেন্দ্র নিউইয়র্ক। তবে নিউইয়র্কের বাইরে দেশটির বিভিন্ন শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কিছু স্থানে দেশি খাবারের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে, আবার কিছু স্থানে মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যবসা ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা বাংলাদেশিদের নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করেছে।
এসব এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলা হয় না। কিন্তু বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতির কারণে অনেকেই এসব স্থানকে কথ্যভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের আমেরিকান কমিউনিটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পর বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টন উল্লেখযোগ্য।
ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান
নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক। বিশেষ করে কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের দোকান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে। কন্যান্ট স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মসলা, সবজি, মাছ, মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।
হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টারের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থাও এখানে বিদ্যমান।
পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক ২০২১–২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ডেট্রয়েট মেট্রো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি জনসংখ্যার কেন্দ্রগুলোর একটি। ওই সময়ে সেখানে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া
লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোনের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্যও এখানে পাওয়া যায়।
পিউ রিসার্চের ২০১৭–১৯ সালের তথ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোতে প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।
ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকা
ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শুধু ওয়াশিংটন শহর নয়, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে।
এখানে সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনও গড়ে উঠেছে।
২০২১–২৩ সালের পিউ রিসার্চের তথ্যে ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ছিল।
ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া
ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিদ্যমান। ২০১৭–১৯ সালের তথ্যে এখানে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।
শহর ও আশপাশে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের ব্যবসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও এখানকার কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আটলান্টা, জর্জিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি পরিচিত কেন্দ্র হলো আটলান্টা। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস ও বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান ও হালাল মাংসের দোকান রয়েছে। ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে।
২০১৭–১৯ সালের তথ্যে আটলান্টা মেট্রোতে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।
ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস
টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকাতেও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের তথ্যে এই মেট্রো এলাকায় প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।
ব্যবসা, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে বাংলাদেশি খাবার ও দেশি পণ্যের ব্যবসাও গড়ে উঠেছে।
হিউস্টন, টেক্সাস
হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও মুদিদোকানে মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।
২০১৭–১৯ সালের তথ্যে হিউস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।
মিয়ামি, ফ্লোরিডা
দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের তথ্যে এখানে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।
বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, হালাল খাবারের দোকান, মুদিদোকান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের কমিউনিটি ধরে রেখেছেন।
বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস
নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র হলো বোস্টন। ২০১৭–১৯ সালের তথ্যে বোস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।
জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এখানে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবার ও সংগঠনগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ধরে রেখেছে।
আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি
নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত একটি কেন্দ্র। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় এখানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।
এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে ঘিরে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
শুধু জনসংখ্যা নয়, কমিউনিটির শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তার বোঝার ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হিসাবই সবকিছু নয়। বাংলাদেশি ব্যবসা, মুদিদোকান, রেস্তোরাঁ, মসজিদ, ইসলামি শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পিউ রিসার্চের ২০২১–২৩ সালের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিও বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্র।
অর্থাৎ নিউইয়র্ক সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশিরা নিজেদের খাবার, ভাষা, ধর্ম, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনকে ঘিরে আলাদা আলাদা কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এসব এলাকাতেই অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি খুঁজে পান পরিচিত খাবার, দেশি বাজার আর বাংলায় আড্ডার পরিবেশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের পাঁচ বছর পার হলেও সন্তান লাভ হয়নি আঁখি আক্তারের। সন্তান লাভের আশায় মানত করতে স্বামী, বাবা, বোন, ভাগনে ও ভাগনিকে নিয়ে মৈনট পীরের মাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথ চলাকালীন ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আঁখি, তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া এবং সিএনজিচালক জুয়েলের মৃত্যু ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—সিএনজি অটোরিকশাচালক জুয়েল (৪০), যাত্রী আঁখি আক্তার (৩০) এবং তার ভাগনে জাকারিয়া (১২)। নিহতদের সকলের বাড়ি টাঙ্গাইলে। জাকারিয়া ছিল আঁখির বড় বোনের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন লাকী আক্তার (৩২), আবুল হোসেন (৬৫), সেলিম আহমেদ (৩৫) এবং লাকী আক্তারের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া।
আহত আবুল হোসেন একসঙ্গে তার মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে হাসপাতালে আহাজারি করছিলেন। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমরা যামু মৈনট, আমার জামাই-মেয়ে নিয়া যামু পীর বাড়ির মাজারে। হেই সময় এরকম হইলো। জামাই সামনে ড্রাইভারের পাশে বাম সাইডে বইছে। ডান সাইডে খালি। হঠাৎ কইরা সামনে থাইকা গাড়িডা আইলো।"
তিনি আরও বলেন, "আমার ছোট মেয়ের সন্তান হচ্ছিল না। বড় মেয়ে মানত করার পর মেয়ে হয়েছিল। সেই নাতনির মানত পূরণ করতে আর ছোট মেয়ের জন্য সন্তানের মানত করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন আমার সব শেষ।" এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ জানান, "আমাদের বিয়ের পাঁচ বছর হয়েছে। তবে আমরা নিঃসন্তান। আমরা মৈনট পীরের বাড়ি যাচ্ছিলাম। গাড়িতে ছয় জন ছিলাম। আমি, আমার স্ত্রী, জেঠাস ও তার দুই ছেলে যাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রী ও তার বড় ভাগনে মারা গেছে।"
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় আরবিসি ব্রিকসের পাশে পাকা সড়কে কালামপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সাটুরিয়াগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়েমুচড়ে যায়। অটোরিকশার চালকসহ চার জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল ও জাকারিয়ার মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত আঁখিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, "২টার দিকে তাদের নিয়ে আসে। তিনজন অজ্ঞান ছিল। রক্তপাত ছিল প্রচুর। পরে আঁখিকে রেফার করি। বাকি দুজনকে চিকিৎসা দিই। প্রায় ১০ মিনিট পর দুজনের মৃত্যু হয়। আর আঁখিকে ঢাকা নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।"
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, "আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পোর্ট শার্লটে ৩৮ বছর বয়সী এক নারীকে পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের শিকার মালিয়া এলিজাবেথ নুমারডরের বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং এর পরেই নুমারডরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে নুমারডর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর নুমারডরের স্বামী এরিক নুমারডর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিডিও ও ছবিসহ কিছু প্রমাণ পেয়েছেন। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে এবং তদন্তকারীরা এরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
এরিক জানান, বাড়ির একটি কয়েন রাখার পাত্র থেকে টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করতে তিনি বাড়িতে দুটি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। তিনি তদন্তকারীদের জানান যে, বাড়ির সদস্যরা ক্যামেরাগুলোর বিষয়ে অবগত ছিলেন।
পরে শোবার ঘরের ক্যামেরায় ধারণ করা পুরোনো ভিডিও দেখার সময় তিনি নুমারডর ও পরিবারের পোষা কুকুরকে নিয়ে সন্দেহজনক দৃশ্য দেখতে পান। এরপর তিনি পুলিশকে ভিডিওর কিছু ছবি দেন এবং ভিডিও সংরক্ষিত ল্যাপটপ ব্যবহারের সুযোগও দেন।
শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ভিডিওটি পর্যালোচনা করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে নুমারডরকে আংশিক পোশাকহীন অবস্থায় কুকুরটির সঙ্গে এমনভাবে দেখা যায়, যা তদন্তকারীদের কাছে যৌন আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে এটি পুলিশের তদন্তভিত্তিক অভিযোগ এবং আদালতে এখনো এর সত্যতা নির্ধারিত হয়নি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারীরা নুমারডরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই এবং সেখানে থাকা কুকুরটি পরিবারের পোষা প্রাণী বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি কোনো যৌন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল কুকুরটিকে আদর করছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নুমারডরের দেওয়া ব্যাখ্যা অসঙ্গত ছিল। একপর্যায়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করা হয়।
এরপর নুমারডরকে গ্রেপ্তার করে শার্লট কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। শেরিফের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ‘প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপ’ সংক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার ডলার।
শার্লট কাউন্টির শেরিফ বিল প্রামেল ঘটনাটিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "কোনো প্রাণীকে এ ধরনের আচরণের শিকার করা উচিত নয়।" এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেলে তার দপ্তর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তারের পর নুমারডরের কারাগারের ছবিতে তাকে হাসিমুখে দেখা যাওয়ার বিষয়েও শেরিফ মন্তব্য করেন।
তবে আইনগতভাবে নুমারডর এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি। অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র: শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, গালফ কোস্ট নিউজ, পিপল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ