ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘের ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী


জাতিসংঘের ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ফলে, ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক থেকে তার সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকা ছোট করা হয়েছে। অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরটি একটি ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতিফলন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর মধ্যে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সমস্যা সহ একাধিক আলোচনার আয়োজন করবে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের সবচেয়ে দামি পনির ‘গাধার বাচ্চা’ গাধার দুধে তৈরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


বিশ্বের সবচেয়ে দামি পনির ‘গাধার বাচ্চা’ গাধার দুধে তৈরি

চিজ বা পনিরের কথা বললে সাধারণত পিৎজা, পাস্তা এবং বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ছবি মনে আসে। কিন্তু যদি এক কেজি পনিরের দাম এক হাজার ইউরোরও বেশি হয়, তাহলে তা অবশ্যই বিস্ময়কর। আরও বিস্ময়কর হলো, এই পনিরটি গরু বা ভেড়ার দুধে তৈরি নয়, বরং বিরল প্রজাতির গাধার দুধে উৎপাদিত।

বিশ্বের অন্যতম দামি পনিরের নাম ‘পুলে’। সার্বিয়ার জাসাভিকা এলাকায় উৎপাদিত এই বিশেষ পনিরের নামের অর্থ ‘গাধার বাচ্চা’। দুষ্প্রাপ্য গাধার সংখ্যা, অল্প পরিমাণ দুধ, জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিরলতার কারণে এর দাম এত বেশি।

যেভাবে শুরু পুলের গল্প

পুলের উৎপত্তি ১৯৯৭ সালে ঘটে। সার্বিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও পরিবেশবিদ স্লোবোদান সিমিচ সার্বিয়ার জাসাভিকা বিশেষ প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বলকান জাতের গাধা সংরক্ষণ করা।

একসময় সেখানে গাধার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়। তখন সিমিচ ভাবতে শুরু করেন, বিপুল পরিমাণ গাধার দুধ নিয়ে কী করা যায়। পরে বেলগ্রেডের একজন পনির প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যৌথভাবে এই দুধ দিয়ে পনির তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এভাবেই তৈরি হয় বিশ্বের প্রথম গাধার দুধের পনির পুলে।

যে কারণে এত দাম

পুলের দাম এত বেশি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো এর উৎপাদন প্রক্রিয়া। একটি গাধী দিনে দুই লিটারেরও কম দুধ দেয়। অন্যদিকে, একটি কেজি পুলে পনির তৈরির জন্য প্রায় ২৫ লিটার দুধ প্রয়োজন।

গাধার দুধ সংগ্রহ করাও সহজ নয়। যন্ত্রের সাহায্যে গাধার দুধ দোয়ানো সম্ভব নয়। গাধার বাচ্চাকে সামনে রেখে মানুষের হাতেই দিনে তিনবার দুধ সংগ্রহ করতে হয়। আবার গাধীর দুধ পেতে তার বাচ্চা হওয়ার পর অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়।

সব মিলিয়ে অল্প দুধ, বেশি শ্রম এবং দীর্ঘ সময়ের কারণে এই পনিরের উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত।

কীভাবে তৈরি হয় পুলে?

পুলে পুরোপুরি গাধার দুধ দিয়ে তৈরি হয় না। এতে প্রায় ৬০ শতাংশ গাধার দুধের সঙ্গে ৪০ শতাংশ ছাগলের দুধ মেশানো হয়।

বিশেষ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে দুধ জমাট বাঁধানো হয়। এরপর প্রায় ৫০ গ্রামের ছোট ছোট পনির তৈরি করা হয়। এগুলোকে বিশেষ ছাঁচে ঢেলে সোনালি পিরামিডের মতো আকৃতি দেওয়া হয়।

স্বাদ ও গঠনের দিক থেকে এটি কিছুটা স্পেনের মানচেগো পনিরের মতো। পনিরটি তুলনামূলকভাবে ভঙ্গুর, হালকা হলদেটে এবং স্বাদে মৃদু মিষ্টি-টক।

গাধার দুধে গরুর দুধের তুলনায় ভিটামিন সি-এর পরিমাণও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুরুতে খেতে চাননি অনেকেই

পুলে তৈরির শুরুতে সিমিচের বন্ধুরা এই পনির খেতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর খ্যাতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ধনী রুশ ব্যবসায়ী থেকে ইউক্রেনের ব্যাংকার—অনেকেই শুধুমাত্র এই পনিরের স্বাদ নিতে সার্বিয়ার ওই খামারে ছুটে আসেন বলে জানা যায়।

সার্বিয়ায় স্থানীয়ভাবে পাতলা করে কাটা পুলে পনিরের সঙ্গে শূকর বা গাধার মাংসের সসেজ এবং স্থানীয় ফল থেকে তৈরি ব্র্যান্ডি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে।

ক্লিওপেট্রা ও হিপোক্রেটিসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ইতিহাস।

গাধার দুধ নিয়ে বহু পুরোনো নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা সৌন্দর্য ধরে রাখতে গাধার দুধে গোসল করতেন। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিসও গাধার দুধকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তবে এসব ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে পুলে পনিরের আধুনিক জনপ্রিয়তার সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চাইলেই মিলবে না এই পনির

পুলের বিরলতার আরেকটি কারণ হলো এর আইনি সীমাবদ্ধতা। সার্বিয়ার সরকারি দুগ্ধজাত পণ্যের তালিকায় গরু, ছাগল ও ভেড়ার দুধের উল্লেখ থাকলেও গাধার দুধের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে আইনি অনুমোদন বা স্বীকৃতি নেই।

ফলে এই পনির বিদেশে রপ্তানি করা বা বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তাই পুলের স্বাদ নিতে হলে সার্বিয়ার জাসাভিকা সংরক্ষণ এলাকার সেই খামারেই যেতে হয়।

অল্প দুধ, বিরল গাধার জাত, কঠিন উৎপাদন প্রক্রিয়া, সীমিত সরবরাহ এবং আইনি বাধা—সব মিলিয়ে পুলে শুধু একটি পনির নয়, খাবারের জগতের এক বিরল ও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬০ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬০ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধুমাত্র অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। নতুন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে মার্কিন নাগরিকদের চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন এবং আমেরিকান শ্রমিক ফেডারেশন-শিল্প সংস্থাগুলোর কংগ্রেসের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক চাকরিতে বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা কাজ করছেন।

‘নাগরিকত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক অভিবাসন বহিষ্কারের ফলে শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি হতে পারে। নির্মাণ, আতিথেয়তা এবং পরিচর্যার মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে অর্থনৈতিক নীতি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে রয়েছে।

তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির হিসাব নয়। অর্থাৎ ৬০ লাখ চাকরি নিশ্চিতভাবে হারাবে—এমন দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮১০ কোটি কম ভ্রমণ এবং ৩০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত কম খরচ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর প্রতি সপ্তাহে ১ কোটি থেকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত বিক্রি কমার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিস শহরের নিজস্ব হিসাবেও ওই অভিযানের কারণে ব্যবসা ও শ্রমিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা উঠে এসেছে।

অভিবাসন ধরপাকড়ের শ্রমবাজারে প্রভাব নিয়ে মে মাসে প্রকাশিত জাতীয় অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর একটি গবেষণাতেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি ধরপাকড় হওয়া এলাকায় অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে।

গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কৃষি, নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে এর প্রভাব বিশেষভাবে দেখা গেছে।

তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রশাসনের অবস্থান হলো, অভিবাসন আইন কার্যকর করার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানো তাদের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফলে মূল বিতর্ক হলো—অভিবাসন ধরপাকড় মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমিক সংকট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমিয়ে শ্রমবাজারে উল্টো চাপ তৈরি করবে।

নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি এবং মজুরি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রয়েছে। তবে ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাবটি একটি প্রক্ষেপণ। এর বাস্তব ফল অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল বিষয়, শ্রমবাজার এবং অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপরও নির্ভর করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কবর খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেল ৮২ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


কবর খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেল ৮২ বছর

কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছিল ছয় বছর বয়সে, যখন প্রথম হাতে কোদাল তুলে নেন। এরপর থেকে থামার নাম নেই। কবর খুঁড়তে খুঁড়তে ৮২ বছর কেটে গেছে। তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন। গাইবান্ধা শহরের মমিনপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সোবহান টুলু অগণিত মানুষের শেষ বিদায়ের সাক্ষী। স্থানীয়রা তাকে ‘টুলু চাচা’ বলে ডাকেন। মানুষের শেষযাত্রার প্রস্তুতি নিতে তার জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে। কখনও ভোরে, কখনও গভীর রাতে—মৃত্যুর খবর এলেই তিনি কবরস্থানে ছুটে যান। তার লক্ষ্য মানুষের শেষ সম্মান নিশ্চিত করা।

আবদুস সোবহান টুলুর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ১৯৫০ সালে, মাত্র ছয় বছর বয়সে, বড় ভাই ও স্থানীয়দের সঙ্গে পৌর গোরস্তানে গিয়ে প্রথম কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। এরপর নিয়মিতভাবে কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে যুক্ত হন। পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বিনা পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন। ১৯৮৯ সালে পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পান। তখন তার মাসিক বেতন ছিল পাঁচ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে নয় হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দিন কিংবা রাত— শহরের কোথাও মৃত্যুর খবর এলেই টুলু চাচার ডাক পড়ে। যখন একটি পরিবার স্বজন হারানোর শোকে মুহ্যমান, তখন তিনি নীরবে কবর খুঁড়ে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

টুলু মিয়া বলেন, "কখনও ভোর হওয়ার আগেই ছুটতে হয়েছে। কখনও গভীর রাতে। নির্জন কবরস্থানে কাজ করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেখেছি ক্ষত-বিক্ষত লাশ। কবর থেকে আগুন বের হতে দেখেছি। জিন দেখার গল্পও শুনেছি। তবে এসবের কোনো প্রমাণ পাইনি।"

এত অল্প বেতনে এত দীর্ঘ সময় এই কাজ করে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা— জানতে চাইলে টুলু মিয়া বলেন, "তেমন আক্ষেপ নেই। মানুষের শেষ বিদায়ের কাজে থাকতে পারাটাকেই সৌভাগ্য মনে করি।" তার ভাষায়, "আল্লাহকে খুশি রাখতে পারাটাই আমার একমাত্র আরাধনা।" অভাব ছিল, এখনও আছে। কিন্তু কাজ কখনও ছাড়িনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজটি করে যেতে চাই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে শাহিনুর বেগম চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় টুলু মিয়ার। অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। ১৯৬০ সালে জেলা শহরের পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

তাদের সংসারে সাত মেয়ে সন্তান। বর্তমানে চার মেয়ে জীবিত।

স্বামীর কবর খোঁড়ার কাজকে গর্বের সঙ্গে দেখেন স্ত্রী শাহিনুর বেগম। তবে বিয়ের পর বিষয়টি তার কাছে এতটা সহজ ছিল না। তিনি বলেন, "মাঝরাতে কারও মৃত্যুর খবর এলেই ঘুম থেকে উঠে চলে যেতেন। এমনও হয়েছে, ভাত খেতে বসেছি—হঠাৎ ডাক এসেছে। ভাত রেখেই চলে গেছেন। প্রথম দিকে খুব বিরক্ত লাগত। পরে বুঝেছি, এটা শুধু তার কাজ নয়, দায়িত্ব।"

স্থানীয়দের ভাষ্য, টুলু মিয়ার কাজ কেবল কবর খোঁড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় তিনি নিজ উদ্যোগে কাফনের কাপড়, বাঁশসহ দাফনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে দেন।

৫৫ বছর বয়সী রেজাউন্নবী রাজু বলেন, "আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই টুলু এই কাজ করেন। তার মতো মানুষ সমাজের গর্ব।"

মুনশিপাড়ার বাসিন্দা জাভেদ হোসেন বলেন, "এলাকায় কেউ মারা গেলে মসজিদে ঘোষণা হলেই তাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি কবর খোঁড়ার পাশাপাশি কাফনের কাপড়, বাঁশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করে দেন। এমন নির্লোভ মানুষ এখন খুবই কম।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি ‘ছোট বাংলাদেশ’, যেখানে মেলে দেশের স্বাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি ‘ছোট বাংলাদেশ’, যেখানে মেলে দেশের স্বাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রধান কেন্দ্র নিউইয়র্ক। তবে নিউইয়র্কের বাইরে দেশটির বিভিন্ন শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কিছু স্থানে দেশি খাবারের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে, আবার কিছু স্থানে মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যবসা ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা বাংলাদেশিদের নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করেছে।

এসব এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলা হয় না। কিন্তু বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতির কারণে অনেকেই এসব স্থানকে কথ্যভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের আমেরিকান কমিউনিটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পর বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টন উল্লেখযোগ্য।

ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান

নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক। বিশেষ করে কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের দোকান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে। কন্যান্ট স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মসলা, সবজি, মাছ, মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।

হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টারের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থাও এখানে বিদ্যমান।

পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক ২০২১–২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ডেট্রয়েট মেট্রো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি জনসংখ্যার কেন্দ্রগুলোর একটি। ওই সময়ে সেখানে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া

লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোনের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্যও এখানে পাওয়া যায়।

পিউ রিসার্চের ২০১৭–১৯ সালের তথ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোতে প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকা

ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শুধু ওয়াশিংটন শহর নয়, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে।

এখানে সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনও গড়ে উঠেছে।

২০২১–২৩ সালের পিউ রিসার্চের তথ্যে ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ছিল।

ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া

ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিদ্যমান। ২০১৭–১৯ সালের তথ্যে এখানে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

শহর ও আশপাশে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের ব্যবসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও এখানকার কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আটলান্টা, জর্জিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি পরিচিত কেন্দ্র হলো আটলান্টা। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস ও বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান ও হালাল মাংসের দোকান রয়েছে। ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে।

২০১৭–১৯ সালের তথ্যে আটলান্টা মেট্রোতে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস

টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকাতেও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের তথ্যে এই মেট্রো এলাকায় প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

ব্যবসা, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে বাংলাদেশি খাবার ও দেশি পণ্যের ব্যবসাও গড়ে উঠেছে।

হিউস্টন, টেক্সাস

হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও মুদিদোকানে মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।

২০১৭–১৯ সালের তথ্যে হিউস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

মিয়ামি, ফ্লোরিডা

দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের তথ্যে এখানে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, হালাল খাবারের দোকান, মুদিদোকান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের কমিউনিটি ধরে রেখেছেন।

বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র হলো বোস্টন। ২০১৭–১৯ সালের তথ্যে বোস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এখানে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবার ও সংগঠনগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ধরে রেখেছে।

আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি

নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত একটি কেন্দ্র। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় এখানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।

এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে ঘিরে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

শুধু জনসংখ্যা নয়, কমিউনিটির শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তার বোঝার ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হিসাবই সবকিছু নয়। বাংলাদেশি ব্যবসা, মুদিদোকান, রেস্তোরাঁ, মসজিদ, ইসলামি শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

পিউ রিসার্চের ২০২১–২৩ সালের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিও বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্র।

অর্থাৎ নিউইয়র্ক সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশিরা নিজেদের খাবার, ভাষা, ধর্ম, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনকে ঘিরে আলাদা আলাদা কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এসব এলাকাতেই অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি খুঁজে পান পরিচিত খাবার, দেশি বাজার আর বাংলায় আড্ডার পরিবেশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%