ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘে খালেদা জিয়া তুলে ধরেন গণতন্ত্র ও পানির অধিকার


১৯৯৩ সালে জাতিসংঘে খালেদা জিয়া তুলে ধরেন গণতন্ত্র ও পানির অধিকার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার পাশাপাশি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার সুরক্ষা এবং আরও ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানান।

১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে খালেদা জিয়া উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পরকে শক্তিশালী করে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পরকে শক্তিশালী করে।’ উন্নয়নশীল বিশ্বে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে লালন করতে উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পুঁজির স্বল্পতা ও প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা সহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ এককভাবে উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করতে পারে না।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতায় আমরা যখন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি, তখন একা এই কঠিন কাজ সম্পন্ন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়; আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মানবাধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে যুক্ত করেন খালেদা জিয়া। উদীয়মান শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এসব সুরক্ষায় জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সুসংহত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

বৃহৎ ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও দুর্বল দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

নদীর পানিবণ্টন, সমুদ্র আইন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শরণার্থী, অর্থনৈতিক অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মর্যাদা ও অবস্থানের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এখতিয়ার সর্বজনীনভাবে গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক প্রযুক্তিগত ব্যবধান দূর করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ চাই।’ প্রযুক্তি হস্তান্তর ও তথ্যপ্রবাহের ওপর বিধিনিষেধ একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি। তিনি বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো পরিবেশদূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। তাই পরিবেশগত ক্ষতি নিরসনের ব্যয় তাদেরই বহন করা উচিত। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্পদ অনেক কম এবং দূষণে তাদের অবদানও তুলনামূলকভাবে সামান্য।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

বাংলাদেশের পাটশিল্পের বিষয়টিও তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, রাসায়নিক ও কৃত্রিম বিকল্প পণ্যের তুলনায় পাটজাত পণ্য পরিবেশের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম তন্তুর প্রসার পাটশিল্প এবং এর ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবিকার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু বৈদেশিক সহায়তা কোনো দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে পারে না।

উন্নত দেশগুলোকে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক ব্যবস্থা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সমতার ভিত্তিতে উত্তর-দক্ষিণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং উরুগুয়ে রাউন্ডের আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছি।’ উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার, কৃষি, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি, ২০০০ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য, খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের মৌলিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে নেওয়া ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

স্যানিটেশন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে সার্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তৎকালীন সার্ক চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি বলেন, সাত সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে তিনি কাজ করছেন। তিনি ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উদ্যোগগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত পানিবণ্টন সমস্যা, বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়েও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানিসম্পদের ওপর বাংলাদেশের ‘অন্তর্নিহিত ও আইনগত অধিকার’ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে ভারত একতরফাভাবে ফারাক্কা বাঁধের উজানে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে বাংলাদেশে খরা দেখা দেয়। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধ আমাদের জন্য জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।’

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে মরুকরণ, লবণাক্ততা, নৌচলাচলের সক্ষমতা হ্রাস এবং কৃষি, শিল্প ও জীবিকার ক্ষতির যোগসূত্র তুলে ধরেন তিনি।

গঙ্গার পানিসম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে একটি জরুরি ও স্থায়ী চুক্তির আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

তিনি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাংলাদেশের নীতির কথাও তুলে ধরেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলো শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার নিজ বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়া উপজাতীয় শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়ে খালেদা জিয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সহিংসতা ও জাতিগত নিপীড়নের নিন্দা জানান। বসনিয়ার জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতিসংঘ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নামিবিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল, কুয়েত, কম্বোডিয়া, সোমালিয়া ও মোজাম্বিকে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং বিশ্ব সংস্থাটির শান্তিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ধনী সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও ইসরাইলের মধ্যে তৎকালীন সাম্প্রতিক চুক্তিকে স্বাগত জানান তিনি। একইসঙ্গে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

সমঅধিকার ও সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের সংগ্রামের প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়া ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করেন।

মানবজাতির উন্নত জীবনের জন্য ‘সাহসী ও সৃজনশীল পদক্ষেপ’ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে জিয়াউর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা উদ্ধৃত করে খালেদা জিয়া বলেন, তার সেই কথাগুলো এখন তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার অগ্রযাত্রায় আমরা একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি।’

আইনের শাসন জোরদার, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি এমন একটি বিশ্বসমাজের স্বপ্ন তুলে ধরেন, যেখানে ‘গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবকল্যাণ’ সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পেছনে এ লক্ষ্যই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার ভাষণটি নতুন তাৎপর্য লাভ করেছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এরপর খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথিপত্রে ৪৮তম অধিবেশনের ১৩তম পূর্ণাঙ্গ সভায় তার ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সঙ্গে এ পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে। এ ভাষণে তিনি বিশ্ব সংস্থার সামনে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির ফ্রি-কিকে নতুন ইতিহাস, মায়ামির হতাশা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


মেসির ফ্রি-কিকে নতুন ইতিহাস, মায়ামির হতাশা অব্যাহত

ক্যাম্পেওনস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলকে পরাজিত করে ইন্টার মায়ামি ছন্দে ফেরার একটি ইঙ্গিত প্রদান করেছিল। এমএলএসে চার দিন পর ফিরে এসে লিওনেল মেসি গোলের দেখা পেলেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকার গোলও দলের জন্য জয় এনে দিতে সক্ষম হয়নি। স্যান ডিয়েগোর বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে মায়ামি লিগে টানা চতুর্থ ম্যাচে জয়হীন রইল।

ঘরের মাঠ নু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১২তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। স্যান ডিয়েগোকে এগিয়ে দেন ড্যানিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার, যিনি মায়ামি গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।

২৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের শটে বলটি কোনো খেলোয়াড়ের গায়ে না লেগে গোললাইনের সামনে পড়ে যায়। এরপর সেটি দূরের পোস্টে লেগে জালে প্রবেশ করে।

এই গোলের মাধ্যমে এমএলএসে চলতি মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা ২০-এ পৌঁছেছে। মায়ামির জার্সিতে এটি তার ১০১তম গোল এবং ক্যারিয়ারে মোট ৯৩০তম গোল। ফ্রি-কিক থেকে এটি ছিল মেসির ৭৫তম গোল।

সমতায় ফেরার পর আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে মায়ামি। একের পর এক আক্রমণে স্যান ডিয়েগোর রক্ষণকে চাপে রাখার পর ৭৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। রদ্রিগো দে পলের বাড়ানো বলে গোল করে মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ।

জয়ের আশা নিয়ে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে প্রবেশ করে মায়ামি। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেই জয় হাতছাড়া হয়ে যায়। ভার্সকোভের নিখুঁত পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্যান ডিয়েগোকে সমতায় ফেরান ড্রেয়ার।

শেষ নয় ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে মায়ামি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসের পয়েন্ট তালিকায় তারা তিন নম্বরে নেমে গেছে। ২৬ ম্যাচে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে মায়ামি। ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে নিউ ইংল্যান্ড রেভ্যুলেশন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে উত্তেজনা কাটিয়ে সারাদেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে উত্তেজনা কাটিয়ে সারাদেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর সকাল থেকে স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে, যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ঘটেছিল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল দেখা যাচ্ছে। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টারের সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে ট্রেনগুলো নিয়মিতভাবে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে মধুমতী এক্সপ্রেস রাতের দেরির কারণে রাজশাহী থেকে কিছুটা বিলম্বে ছাড়তে হয়েছে। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত রেলস্টেশনে পরিষ্কারের কাজ চলছে।

এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে চাচাকে নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তারা প্রথমে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রেল কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচি নিয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরে তারা স্টেশন ঘেরাও করে ভাঙচুর করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবি শিক্ষার্থী মারধর ও স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


রাবি শিক্ষার্থী মারধর ও স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুবকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রেক্ষিতে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন— পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় চিকিৎসক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং পাকশী কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এনআরবির ৪ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন— আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এনআরবির চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই ৪ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও টিটির বিরুদ্ধে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে স্টেশন ঘেরাও এবং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী থেকে অন্যান্য রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন রুটের ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর দেশের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর দেশের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই সফরকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মাহ্দী আমিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যাতায়াতের দুই দিনসহ মোট ছয় দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মূলত চার দিন অবস্থান করবেন। এই সীমিত সময়ে তিনি একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন, যার মধ্যে ১৫ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বাকিরা নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিগত দায়িত্বে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিবর্গ।

মাহ্দী আমিন আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হচ্ছেন। তিনি জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম থেকে বাংলাদেশের মানুষের কথা, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

জাতিসংঘের অধিবেশনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন সেই সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।

মাহ্দী আমিন বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি বিদেশ সফর নয়। এটি জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়, বরং জনগণের আকাঙ্খার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভুতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%