সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৯ পি.এম
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর সকাল থেকে স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে, যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ঘটেছিল।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল দেখা যাচ্ছে। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
রাজশাহী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টারের সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে ট্রেনগুলো নিয়মিতভাবে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে মধুমতী এক্সপ্রেস রাতের দেরির কারণে রাজশাহী থেকে কিছুটা বিলম্বে ছাড়তে হয়েছে। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত রেলস্টেশনে পরিষ্কারের কাজ চলছে।
এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে চাচাকে নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তারা প্রথমে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রেল কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচি নিয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরে তারা স্টেশন ঘেরাও করে ভাঙচুর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুবকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রেক্ষিতে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন— পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় চিকিৎসক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং পাকশী কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এনআরবির ৪ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন— আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এনআরবির চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই ৪ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও টিটির বিরুদ্ধে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে স্টেশন ঘেরাও এবং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী থেকে অন্যান্য রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন রুটের ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই সফরকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মাহ্দী আমিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যাতায়াতের দুই দিনসহ মোট ছয় দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মূলত চার দিন অবস্থান করবেন। এই সীমিত সময়ে তিনি একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন, যার মধ্যে ১৫ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বাকিরা নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিগত দায়িত্বে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিবর্গ।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হচ্ছেন। তিনি জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম থেকে বাংলাদেশের মানুষের কথা, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন সেই সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।
মাহ্দী আমিন বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি বিদেশ সফর নয়। এটি জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়, বরং জনগণের আকাঙ্খার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভুতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে কুবি শিক্ষক সমিতি শোক র্যালি ও মানববন্ধন আয়োজন করেছে।
শোক র্যালিটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে গোলচত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা মন্তব্য করেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে আটক করেছে। তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি উত্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামিমা নাছরিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও চারটি দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবির মধ্যে ছিল— অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কার্য নিষ্পত্তি করে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের দায় স্বীকার করে প্রত্যাহার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী একটি পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন করা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আসামিদের সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার অফিসে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিলেন, এমনটি জানিয়েছেন কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নাহিদা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ড. কামরুন নাহাত শীলা।
তিনি বলেন, ‘গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর অফিসে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল বলে জানা গেছে।’
ড. কামরুন নাহাত শীলা বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করেছেন।
এছাড়া, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম।
এর আগে রোববার দুপুরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান এবং মো. সিয়াম (১৯)।
পুলিশের তথ্যমতে, মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে ফেল করে ড্রপআউট হন। বর্তমানে তিনি পড়ালেখা করেন না।
দ্বিতীয় আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তৃতীয় আসামি মো. কামরুল হাসান এবং চতুর্থ আসামি মো. সিয়াম (১৯)।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানায়, ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুল হাসানকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ বা পূর্ববিরোধের যোগসূত্র রয়েছে তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তদন্তাধীন এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ