সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই সফরকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মাহ্দী আমিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যাতায়াতের দুই দিনসহ মোট ছয় দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মূলত চার দিন অবস্থান করবেন। এই সীমিত সময়ে তিনি একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন, যার মধ্যে ১৫ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বাকিরা নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিগত দায়িত্বে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিবর্গ।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হচ্ছেন। তিনি জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম থেকে বাংলাদেশের মানুষের কথা, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন সেই সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।
মাহ্দী আমিন বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি বিদেশ সফর নয়। এটি জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়, বরং জনগণের আকাঙ্খার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভুতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে কুবি শিক্ষক সমিতি শোক র্যালি ও মানববন্ধন আয়োজন করেছে।
শোক র্যালিটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে গোলচত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা মন্তব্য করেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে আটক করেছে। তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি উত্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামিমা নাছরিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও চারটি দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবির মধ্যে ছিল— অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কার্য নিষ্পত্তি করে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের দায় স্বীকার করে প্রত্যাহার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী একটি পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন করা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আসামিদের সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার অফিসে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিলেন, এমনটি জানিয়েছেন কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নাহিদা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ড. কামরুন নাহাত শীলা।
তিনি বলেন, ‘গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর অফিসে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল বলে জানা গেছে।’
ড. কামরুন নাহাত শীলা বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করেছেন।
এছাড়া, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম।
এর আগে রোববার দুপুরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান এবং মো. সিয়াম (১৯)।
পুলিশের তথ্যমতে, মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে ফেল করে ড্রপআউট হন। বর্তমানে তিনি পড়ালেখা করেন না।
দ্বিতীয় আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তৃতীয় আসামি মো. কামরুল হাসান এবং চতুর্থ আসামি মো. সিয়াম (১৯)।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানায়, ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুল হাসানকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ বা পূর্ববিরোধের যোগসূত্র রয়েছে তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তদন্তাধীন এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা এবং প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরবেন। তাঁর ভাষণে দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ভাষণে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও তুলে ধরবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, "এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।" একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলা তুলে ধরার প্রথম সুযোগও।
তিনি আরও জানান, সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নতুন করে আকর্ষণ করবেন। সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তিনি বিশ্বব্যাপী জোরালো সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।
এ উদ্দেশ্যে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে সংকটের ভয়াবহতা ও নানা চ্যালেঞ্জ আবারও তুলে ধরবে বাংলাদেশ। সিয়াম বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের কী ধরনের আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তা আমরা বিশ্ব দরবারে আবারও পেশ করব।"
বাংলাদেশ সবসময় বলে আসছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও বড় অগ্রাধিকার পাবে। এই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় বাংলাদেশ।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরের দিন তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া অস্তিত্বের ঝুঁকি সংক্রান্ত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। জলবায়ুসংক্রান্ত এসব বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উদ্বেগ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর তিনি জোর দেবেন।
সাধারণ পরিষদের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করবেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাবেন।
বর্তমানে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের জন্য বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারকেও গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলোকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠকের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউনপ্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্যাম্প ডেভিড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ফেরার ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন গলফার ব্রাইসন ডি শ্যামবো ও কানাডার সাবেক হকি গোলকিপার মিকাইলা ডেমাইটার।
মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে ট্রাম্পের সঙ্গে পরশু রাতে দেখা যায় ডি শ্যামবো ও মিকাইলাকে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মেরিন ওয়ান থেকে তাদের নামতেও দেখা যায়। হেলিকপ্টারের ভেতরে ট্রাম্পের পাশেও তাদের উপস্থিতি ছিল।
২৬ বছর বয়সী মিকাইলা ডেমাইটার কানাডার সাবেক হকি গোলকিপার। তার হকি ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ ছিল না। মাত্র ১৯ বছর বয়সে চোটের কারণে খেলা ছেড়ে মডেলিংয়ে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।
এদিকে, ডি শ্যামবো ও মিকাইলার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় গত মাসে। মার্কিন বিনোদন সাময়িকী ইউএস উইকলি জানিয়েছে, দুজন সম্পর্কে জড়িয়েছেন। যদিও সম্পর্কটি নতুন, তবে তারা বেশ সুখী সময় কাটাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুইবারের ইউএস ওপেনজয়ী ব্রাইসন ডি শ্যামবোকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও দেখা যায়। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে তার গলফ খেলার একটি ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
তবে ট্রাম্প কেন ক্যাম্প ডেভিড সফর এক দিন আগেই শেষ করে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি হোয়াইট হাউস।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কতায় ওই অঞ্চলে ভ্রমণের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ওই নিরাপত্তা সতর্কতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ