০৯:০৫ পি.এম
আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তাদের মিত্র তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শনিবার মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এটি তাদের আরেকটি বড় আক্রমণ, যা কয়েক মাস আগে একই ধরনের হামলায় দেশটির সামরিক জান্তাকে বড় ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটে।
বামাকো থেকে এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৫টার দিকে (গ্রিনিচ সময় ০৫০০) শুরু হওয়া এ হামলা উত্তরাঞ্চলের গাও, আনেফিস ও আগেলহক শহর, মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহর এবং রাজধানীর কাছে কেনিয়েরোবার একটি কারাগারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
গত এপ্রিলের শেষ দিকে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জেএনআইএম (জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন) এবং তুয়ারেগ এফএলএ (আজাওয়াদ মুক্তি ফ্রন্ট) উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত শহর কিদাল দখল করে এবং মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা করে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। ক্ষমতা দখলের সময় সামরিক নেতৃত্ব দেশটিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ২০১২ সাল থেকে ঐ বিস্তীর্ণ মরুভূমি অধ্যুষিত দেশটি জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় জর্জরিত রয়েছে।
২৫-২৬ এপ্রিলের বড় হামলার পর মালির সেনাবাহিনী রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা কোরের সহায়তায় সামরিক অভিযান জোরদার করে।
প্রায় এক বছর আগে তুয়ারেগ এফএলএ এবং জেএনআইএম জোটবদ্ধ হয়ে আসে। এরপর থেকে তারা যৌথভাবে সামরিক সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।
ডাকারভিত্তিক টিম্বুক্তু ইনস্টিটিউটের পরিচালক বাকারি সাম্বে এএফপিকে বলেন, ‘বৃহত্তর আক্রমণের আগে মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযান সরকারকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করে তুলছে।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সেনাবাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। মালির সেনাবাহিনী শনিবার সকালে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে চারটি শহর ও কেনিয়েরোবার ওপর হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ‘হামলাগুলো শক্ত হাতে প্রতিহত করা হয়েছে’ এবং ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তবে এএফপির সঙ্গে কথা বলা বিভিন্ন সূত্র জানায়, দুপুর পর্যন্তও কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল। এফএলএর মুখপাত্র মোহামেদ এলমাউলুদ রমাদানে এএফপিকে বলেন, আনেফিসে ‘বেশ কয়েকটি অবস্থান’ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে লড়াই চলছিল।
আনেফিসের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শহরের ভেতরে রয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সেনা শিবির এখনো দখল হয়নি।’
এপ্রিলের হামলার পর উত্তরাঞ্চলের কিদাল অঞ্চলে আনেফিস এবং আগেলহকই এখন শেষ দুটি এলাকা, যেখানে মালির সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর গাওয়ের বাসিন্দারা জানান, সেনা ঘাঁটির কাছে গুলির শব্দ ও বিকট বিস্ফোরণ শোনা গেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক একাডেমির কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিটের এক গবেষক এএফপিকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য সম্ভবত উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, এরপর আরও দক্ষিণে অগ্রসর হওয়া।’
মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরে, যেখানে একটি বড় সেনা ঘাঁটি ও বিমানবন্দর রয়েছে, স্থানীয় এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘সকাল ৫টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েকটি যুদ্ধবিমান এলাকাটির ওপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়।’
রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কেনিয়েরোবা কারাগার কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়। সেখানে জঙ্গিসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বন্দিদের রাখা হয়।
এক বন্দি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিছানার নিচে লুকিয়ে আছি। এখনো গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।’ এরপরই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
কেনিয়েরোবা কেন্দ্রীয় কারাগার মালির সবচেয়ে বড় আধুনিক কারাগার, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি বন্দি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট। ২০১২ সাল থেকে আল-কায়েদা এবং তথাকথিত ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী, বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কারণে মালি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে।
এপ্রিলের যৌথ হামলায় তুয়ারেগ বিদ্রোহী ও জঙ্গিরা কিদাল পুনর্দখল করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মালির সেনাবাহিনী এবং রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ শহরটি দখল করেছিল। পরে ওয়াগনারের স্থলাভিষিক্ত হয় আফ্রিকা কোর।
জান্তাপ্রধান জেনারেল আসিমি গোইতা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এপ্রিলের হামলার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী, মালির সেনাবাহিনী এবং তাদের রুশ মিত্ররা বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করেছে।
২০১২ সালের সংকটেও তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে উত্তর মালির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করেছিল। ঐতিহাসিকভাবে যাযাবর তুয়ারেগ জনগোষ্ঠী মালি, নাইজার, আলজেরিয়া, লিবিয়া এবং বুরকিনা ফাসো জুড়ে বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে তারা বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে, যার কেন্দ্র ছিল বিশেষ করে কিদাল।
এদিকে জেএনআইএম গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বামাকোগামী জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বহরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এ হামলা গত অক্টোবরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন